‘বাংলা বন্ড’ বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নেবে

উত্তরণ ডেস্ক: বাংলা বন্ডের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ দেশের বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল এমপি। গত ১১ নভেম্বর লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম ‘টাকা ডিনমিনেটেড বন্ড’, যার নাম দেওয়া হয়েছে বাংলা বন্ড। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল এমপি আরও বলেন, এর মধ্য দিয়ে আমাদের লক্ষ্য অর্জনের পথে এক দীর্ঘ যাত্রার সূচনা হলো। আইএফসি ও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইএফসির এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিনা স্টোয়েলকোভিচ, আইএফসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ট্রেজারার জন গ্যান্ডোলফ, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের সিইও নিখিল রথী এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্যের গল্প এ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
এদিকে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) বলছে, তাদের চালু করা এই বন্ডের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে বাজার থেকে তোলা হবে ৯.৫ কোটি ডলার (প্রায় ৮০ কোটি টাকা)। এই অর্থ ব্যয় হবে প্রাণ গ্রুপের পরিচালন ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এই বন্ডের মেয়াদ হবে তিন বছর। পরে তা বাড়িয়ে পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর করা হতে পারে।
প্রসংগত, ভারতে প্রথমে তিন বছর মেয়াদি রুপি বন্ড ছাড়া হয়েছিল। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১০ বছর। প্রবাসী ভারতীয়রা এই বন্ডে বিপুল হারে বিনিয়োগ করেছেন।
বাংলাদেশও ২০১১ সাল থেকে এ-ধরনের বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনার কথা বলে আসছিল। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সভায় আইএফসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এ-বিষয়ে আলোচনাও হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকার তখনই এ-বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছিল। এরপর আইএফসি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায় এবং তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অর্থ মন্ত্রণালয় একই বছর ৪ অক্টোবর এক চিঠিতে টাকা বন্ড ছাড়ার অনুমোদনের বিষয়টি জানায়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যাচাই কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে আইএফসির ওই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। ওই কমিটির কাছে প্রাণ গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠান প্রাণ এ্যাগ্রো ও নাটোর এ্যাগ্রো লিমিটেডের জন্য এই বন্ড ছাড়ার প্রস্তাব করে আইএফসি। চলতি বছরের এপ্রিলে আইএফসির প্রস্তাবে সাড়া দেয় বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এই বন্ডের মাধ্যমে বাজার থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে, সেখান থেকে প্রাণ এ্যাগ্রো ও নাটোর এ্যাগ্রো ৮০ কোটি টাকা ঋণ পাবে। সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ ঋণ সমান কিস্তিতে তিন ও পাঁচ বছরে তাদের পরিশোধ করতে হবে।
এই বন্ডের তালিকাভুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেন, আইএফসির সঙ্গে আমার অনেক মিটিং হয়েছে। সামনে আরও ৩০০ মিলিয়ন ডলার আসবে। তার মধ্যে এটা প্রথম। এই বন্ডে কী রকম সাড়া পাওয়া যায় সেটা দেখে পরেরগুলো ছাড়া হবে।
তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমাদের দেশের জন্য একটি গৌরবের দিন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই চিন্তার আদলে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা প্রথমবারের মতো লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে একটি বন্ড নিয়ে আসতে পেরেছি। এরপর আমরা পর্যায়ক্রমে আরও বন্ড আনব। তিনি বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে একটা জায়গায় আটকা পড়েছিলাম। আমাদের ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটে কোনো ফাইন্যান্সিয়াল টুলস ছিল না। আমাদের শুধু ছিল ব্যাংক ঋণ। সেখানে অনেক সমস্যা আছে। আমরা সবাই এখন চাইছি ব্যাংকগুলোর ওপর আর চাপ না বাড়াতে। বন্ড ফাইন্যান্সিং একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের বিধান থাকছে
‘বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (সংশোধন) আইন, ১৯’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গত ১২ নভেম্বর সচিবালয়ে ৬ নম্বর ভবনে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভাশেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং অবকাঠামো গড়ে তুলতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মধ্য দিয়ে বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ১৫’ (পিপিপি আইন) প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের বাস্তবায়ন পর্যায়ে অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু সংশোধন আবশ্যক হওয়ায় তা সংশোধন করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ‘পলিসি ফর ইমপ্লিমেন্টিং পিপিপি প্রজেক্টস থ্রু গবর্নমেন্ট টু গবর্নমেন্ট (জিটুজি) পার্টনারশিপ’ ১৭-এর আওতায় জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও আমিরাতের সঙ্গে সমঝোতা বা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, অন্যান্য দেশও এই প্রক্রিয়ায় প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের জিটুজি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে বিদ্যমান আইনে তিনটি উপ-ধারা সংযোজন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, ‘পিপিপি আইন ১৫’-এর ৮(২) ধারায় বলা ছিল, বছরে পিপিপি পরিচালনা পর্ষদের ৬টি বৈঠক হতে হবে। তবে সংশোধিত আইন অনুযায়ী এখন থেকে বছরে একটি বৈঠক করলেই হবে। কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের ব্যস্ততার কারণে ৬টি বৈঠক হয়ে ওঠে না, তাই একটি করা হয়েছে।
সংশোধিত আইন অনুযায়ী পিপিপি পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী বোর্ড গঠন করতে হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই নির্বাহী বোর্ডের গঠন, দায়িত্ব ও সভা অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত বিষয়গুলোও সংশোধিত আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পিপিপি আইন ১৫-এর আওতায় কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান আছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply