‘তারা যেন অভুক্ত না থাকে’

উত্তরণ প্রতিবেদন: গত ৩১ মার্চ গণভবন থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে এক ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান করোনা সংকটে দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষসহ দেশের কোনো মানুষ যেন কষ্ট না পায় এবং অভুক্ত না থাকে সেজন্য জেলা প্রশাসক, জনপ্রতিনিধিসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, মানুষের দুঃসময়ে পাশে থেকে সেবা দিতে হবে। ছুটি ঘোষণার কারণে দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক, চা-শ্রমিক, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়সহ অনেকের সমস্যা হচ্ছে। যারা দৈনন্দিন কাজে যেতে পারছে না, তাদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সামাজিক কর্তব্য। তালিকা তৈরি করে তাদের কাছে সাহায্য ও খাদ্যদ্রব্য পাঠাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড অনুযায়ী তালিকা তৈরি করতে হবে যেন সবাই সাহায্য পায়, কেউ যেন বাদ না পড়ে। দেশের মানুষকে সুরক্ষিত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের সবার প্রধান কর্তব্য।
সরকারি ছুটির মেয়াদ ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘোষণা এবং বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ বৈশাখের আনুষ্ঠানিক সকল কর্মসূচি স্থগিতের কথা জানিয়ে বলেন, জনসমাগম করে বৈশাখের অনুষ্ঠান সারা বাংলাদেশে বন্ধ রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিতে দরিদ্রদের সহযোগিতায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সবার উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই দুঃসময়ে কেউ সুযোগ নিলে, কোনো অভিযোগ পেলে আমি কিন্তু তাকে ছাড়ব না। এক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র অনিয়ম সহ্য করা হবে না। সাহায্য পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না, সে যেই-ই হোক না কেন।
গুজব ছড়ালে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে তিনি দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কেউ গুজবে কান দেবেন না, গুজব শুনবেন না, গুজব শুনে বিচলিত হবেন না। আমরা দেশের মানুষের সুরক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। সে জন্যই বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ে রয়েছে। ছুটির মধ্যে সীমিত আকারে গণপরিবহন চালুর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, যোগাযোগ-ব্যবস্থা চালু করার জন্য আমরা দ্রুতই চিন্তা-ভাবনা করে বলব, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা ছাড় দেব। করোনার মধ্যে যেন ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব না ঘটে সেজন্য এখন থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, সিটি মেয়র, কাউন্সিলরসহ সবাইকে নির্দেশ দেন।
বিশ্বের প্রায় দুই শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়া নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশবাসীকে ভীত না হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যে কোনো দুর্যোগ আসলে আমি মনে করি এটা সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। সে-জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এখানে ভীত হওয়ার কিছু নেই। মনের জোর থাকতে হবে। এই রকম অনেক দুর্যোগ আমরা মোকাবেলা করেছি। ইনশাল্লাহ এটাও আমরা মোকাবেলা করে যাচ্ছি এবং আগামীতেও যাব। করোনাভাইরাসের হাত থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখার জন্য শুরু থেকেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে সমস্ত নির্দেশনা দিয়েছে সেই নির্দেশনা যখন আমরা পেয়েছি তার অনেক আগে থেকেই আমরা কিন্তু তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। সে-কারণে বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গত ৩১ মার্চ গণভবন থেকে দেশের ৮টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং ৬৪ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ-সময় প্রধানমন্ত্রী নোভেল করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে আসন্ন ব্যাপক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সর্বোচ্চ খাদ্য উৎপাদনসহ সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন। সংকটের সময় প্রয়োজন হলে যাতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে অন্য দেশকেও সহায়তা করা যায়, তার জন্য কোনো জমি বা জলাশয় যাতে অনাবাদি না থাকে তা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো যুদ্ধের জন্য অনেক প্রস্তুতি নেয়; কিন্তু মাত্র একটি ক্ষুদ্র জিনিস (করোনা) সবাইকে এক করে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে, এটাই হলো বাস্তবতা।
সকাল ১০টা থেকে প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টাব্যাপী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ৮টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং ৬৪ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সচিববৃন্দ সচিবালয় প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি এবং ত্রাণমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এমপি ভিডিও কনফারেন্সে সচিবালয় প্রান্ত থেকে যুক্ত হন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ব্যক্তিগত চিকিৎসক খ্যাতনামা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ এবং পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অন্যদের মধ্যে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।
সূচনা বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী একে একে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কার্যালয়, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ছাড়াও রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, সিলেট, বরগুনা, লালমনিরহাট, কক্সবাজার ও গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তা, সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের এলাকায় সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতিসহ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনের মাঠের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এ-সময় তাদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন এর পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। দেশের প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা তরুণ জার্মান প্রবাসী ফয়সল শেখ ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামনে তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন।
প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা এ-সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই ভিডিও কনফারেন্সের পরে দেশের সার্বিক বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশবাসী জানতে পারল। এতে নানা গুজবের কারণে মানুষের মধ্যে যেটুকুও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল, তাও দূর হবে। তারা নিজ নিজ এলাকায় করোনা মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপ, মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, ঘরে রাখার প্রচেষ্টা এবং অসহায় মানুষদের মধ্যে পর্যাপ্ত সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছে দেয়ার কথাও জানান। তারা প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের এলাকায় করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে খাদ্য, অর্থ এবং পিপিই’র কোনো অভাব নেই। তারা সমন্বিতভাবে করোনাভাইরাস মোকাবেলার যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার অঙ্গীকারের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীকে।
প্রধানমন্ত্রী তার সূচনা বক্তব্যে বলেন, পুরো বিশ্ব এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। ধনী-গরিব, শক্তিশালী-দুর্বল, উন্নত-অনুন্নত এমন কোনো দেশ নেই যারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। তাই করোনা মোকাবেলায় দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাটা জরুরি। আমাদের দেশটা ছোট কিন্তু জনসংখ্যা ব্যাপক। এরপরও আমরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি বলেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ে রয়েছে।
সবাইকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে মানুষের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আপনারা এসব নির্দেশনা মেনে চলুন। কেননা নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে।
বিশ্বব্যাপী করোনার থাবা রয়ে গেছে। আমরা বিশ্ব থেকে দূরে নই। আমাদের আরও সচেতন থাকা দরকার। আমরা আমাদের দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য অনেক আগে থেকেই কাজ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে করোনাভাইরাস না ছড়ায় সেজন্য সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে।
করোনা উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো লুকোচুরি করার সুযোগ নেই। লুকোচুরি করলে নিজের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া হবে। নিজের পরিবার ঝুঁকিতে পড়বে। এক্ষেত্রে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। আর আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা এমনভাবে রাখতে হবে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে, মানুষের আওতার মধ্যে থাকে। সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। কারণ মানুষের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে অযথা দাম বাড়িয়ে মুনাফা নেয়া এটা আসলে অমানবিক হবে। আমি বিশ্বাস করি আপনারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখবেন। আর সবার জন্য পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহারের প্রয়োজন নেই বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সংকটকালে কোনো অনিয়ম হলে কাউকে ছাড়ব না : করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ বা কোনো অনিয়ম যদি পাই, সে যে-ই হোক না কেন আমি কিন্তু তাকে ছাড়ব না। কাজেই সেভাবেই সবাই ঠিক থাকবেন। আগেই সতর্ক করলাম।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার এই জায়গাটাতে যেন কোনোরকম দুর্নীতি, অনিয়ম না হয়। কোনোরকম এই ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম হলে সেখানে কিন্তু এতটুকু ছাড় দেয়া হবে না। কারণ মানুষের দুঃসময়ের সুযোগ নিয়ে কেউ অর্থশালী-সম্পদশালী হয়ে যাবেন এটা কিন্তু আমরা কখনও বরদাশত করব না। সে-বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো অভিযোগ বা কোনো অনিয়ম যদি পাই সে যেই হোক না কেন আমি কিন্তু বিন্দুমাত্র তাকে ছাড়ব না। কাজেই সেভাবে সবাই ঠিক থাকবেন।
আইনশৃঙ্খলার দিকে বিশেষ নজর দেয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সেখানে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ সাধারণ কার্যক্রম আমরা অব্যাহত রাখব কিন্তু আইনশৃঙ্খলা যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই দুঃসময়ে সুযোগ নিয়ে কেউ যেন কোনো অপকর্ম করতে না পারে। আর করোনা সম্পর্কিত কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। সেদিকে সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।
সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি বলেই করোনা নিয়ন্ত্রণে : করোনা মোকাবেলায় দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাটা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশটা ছোট কিন্তু জনসংখ্যা বিশাল। এরপরও আমরা দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। সেজন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ে রয়েছে। করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা সচেতন হয়েছি বলেই তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও আমাদের অবস্থা খুব খারাপ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নির্দেশনা আমরা অনুসরণ করছি।
দেশের মানুষকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে মানুষের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আপনারা এসব নির্দেশনা মেনে চলুন। কেননা নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার থাবা রয়ে গেছে। আমরা বিশ্ব থেকে দূরে নই। আমাদের আরও সচেতন থাকা দরকার। আমরা আমাদের দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য অনেক আগে থেকেই কাজ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে করোনা না ছড়ায় সেজন্য সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে।
করোনা উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো লুকোচুরি করার সুযোগ নেই। লুকোচুরি করলে নিজের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া। শুধু নিজের নয়, পুরো পরিবারকেও ঝুঁকিতে ফেলা হবে। জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। জনকল্যাণে যেসব কাজ করতে হবে তা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। জীবন থেমে যাবে না, চলতে থাকবে। তবে জনগণকে আমাদের সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
অনেক আগে থেকেই করোনা ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান আরও বলেন, চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর আমাদের বড় কর্তব্য মনে করেছি, জনগণের নিরাপত্তা দেয়া। সেটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে-কারণে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানসহ সব অনুষ্ঠানে জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়। যেন সবাই নিরাপদে থাকেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনের উহান থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা হলো, তাদের কোয়ান্টাইনে রাখা হলো। যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হলো, পরে অনেকেই চলে এলো। তাদের মধ্যে অনেকে সংক্রমিত। তাদের আলাদা রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলো। এরপর পর্যায়ক্রমে স্কুল-কলেজ বন্ধ করেছি। এই ভাইরাসের কারণে ২০ জনের মতো সংক্রমিত হলো পাঁচজনের অবস্থা খারাপ ছিল। তারা বয়স্ক, নানা রোগে আক্রান্ত ছিল। তখন মানুষকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করলাম। সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের জীবন যেন স্তব্ধ না হয়, সে জন্য ব্যাংক কিছু সময় খোলা রাখা, কাঁচাবাজার চালু, পণ্য পরিবহন, জরুরি সেবা সবকিছুই সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত আকারে চালু রেখেছি।
প্রধানমন্ত্রী এ-প্রসঙ্গে আরও বলেন, অনেক উন্নত দেশকেও দেখছি, সংক্রমিত হচ্ছে। সবাই যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করেছে বলেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। সারাবিশ্বে এখনও রয়েছে। এখনও আমরা বিশ্ব থেকে দূরে নই। তাই করোনাভাইরাস ঠেকাতে সচেতন থাকা দরকার। আইইডিসিআর কাজ করছে। শুধু ঢাকা নয়, বিভাগীয় পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জীবন থেমে থাকবে না, চলবে। সেদিক লক্ষ্য রেখেই কাজ করতে হবে। জনগণের জীবনকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। সেটা করতে গিয়ে মানুষকে কষ্ট দেয়া যাবে না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply