করোনা কালোথাবা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে, তবে…

Spread the love

আরিফ সোহেল: “ইসরায়েলের মানবতাবাদী ইতিহাসবিদ ইউভাল নোয়া হারারির সাক্ষাৎকারের অংশ উদ্ধৃত করে বলছি- আমার ধারণা, সবচেয়ে বড় বিপদটি ভাইরাস নিজে নয়। মানব জাতির কাছে এই ভাইরাসকে পরাস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো হচ্ছে আমাদের নিজেদের ভেতরের অন্তর্দ্বন্দ্ব, নিজেদের মাঝে লালিত ঘৃণা, লোভ ও অজ্ঞানতা। পরিতাপের সঙ্গে বলছি যে মানুষ এই সংকটে বৈশ্বিক একাত্মতা প্রকাশ না করে; বরং ঘৃণা প্রকাশ করছে এবং অন্যান্য দেশ ও ধর্ম-আচারভিত্তিক সংখ্যালঘুদের দোষারোপ করছে।
বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অজানা করোনাভাইরাস। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে কালোথাবা বসিয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। মৃত্যুর দূত হয়ে হাজির হওয়া করোনার কারণে একের পর এক ক্রীড়া ইভেন্ট স্থগিত কিংবা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক ক্রীড়াবিদ ও কোচ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জনজীবনের মতো খেলাধুলার মানুষেরাও এখন চরম বিপন্ন।
চীনের উহানে জন্ম নেওয়া করোনাভাইরাস আতঙ্কে এখন সারাবিশ্বে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কারণে থমকে গেছে জনজীবন। পরপারে চলে গেছেন লাখ লাখ মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যাও ৩৪,৫১,০৩৩ জন ছাড়িয়েছে। পর্যুদস্ত জনজীবনের মতো শ্মশানস্থবির ক্রীড়া বিশ্বও। করোনার আঘাতে পৃথিবীর দেশে দেশে একের পর এক ক্রীড়াযজ্ঞ স্থগিত হয়ে গেছে। অলিম্পিক থেকে শুরু করে ফুটবল-ক্রিকেট-টেনিস-ম্যারাথন-সাইক্লিং-ফর্মুলা ওয়ান-গলফ-বাস্কেটবল-রাগবি সব ক্রীড়া ইভেন্টই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
চরম কঠিন সময়েও আবার অনেকেই আশার কথা শুনিয়েছেন। নেমে পড়েছেন করোনাকে পরাস্ত করার সাহসী যুদ্ধে। নিরন্ন-ভুখা-সহায়-সম্বলহীনদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। চেষ্টা করছেন যার যার সাধ্যমতো। কেউ দিচ্ছেন বিপুল অনুদান; খুলেছেন করোনা প্রতিরোধের জন্য ত্রাণ তহবিল। আবার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জনও তুলছেন নিলামে। অর্জিত অর্থের সবটাই ব্যয় করছেন মরণঘাতি করোনা প্রতিরোধে।
কোনো খেলাই এখন আর করোনা শঙ্কার বাইরে নেই। করোনাভাইরাসের কারণে ক্রীড়াসূচিও পাল্টে যাচ্ছে। আসছে ক্যালেন্ডারেও বড় ধরনের পরিবর্তন। তবে আশার কথা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরীক্ষামূলক ওষুধ আবিষ্কার হয়ে গেছে। ওষুধটির নাম রেমডেসিভি। মার্কিন গবেষকরা জানিয়েছেন ওষুধটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ব্যবহারে দেখা গেছে ৩০ শতাংশ দ্রুত সেরে উঠছে রোগী। ডাক্তারদের বিশ্বাস পরীক্ষামূলক ওষুধ রেমডেসিভির দ্রুত সংক্রমণ থেকে সেরে উঠতে সাহায্য করবে। সেই আশায় বাতিঘর খুঁজছেন ক্রীড়া-সংশ্লিষ্টরাও।

[একজন অতিশয় মুক্তমনা ঋদ্ধ লেখক ইউভাল নোয়া হারারি ‘স্যাপিয়েন্স : আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব হিউম্যানকাইন্ড’, ‘হোমো দিউস’ এবং ‘টোয়েন্টি ওয়ান লেসনস ফর দ্য টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’ বইয়ের লেখক হিসেবে সারাবিশ্বে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছেন।]

করোনাভাইরাস ইস্যুতে স্থগিত বঙ্গবন্ধু গেমস
দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস’। ১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গেমস স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বলেছেন, অনেক খেলাই তো স্থগিত করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ গেমসে তো অনেক লোক সমাগম হবে। তাই এ সময়ে না করে পরে করলেই ভালো হবে। আবার কবে নাগাদ গেমস করা যায়, পরে তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘরোয়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় এই আসরটি শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ১ এপ্রিল। শেষ হওয়ার কথা ছিল ১০ এপ্রিল। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় ক্রীড়া ইভেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল; ঠিক সেই সময়ে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

নড়াইলে মাশরাফির ‘ডক্টরস সেফটি চেম্বার’
করোনাকালে নিজ জেলা নড়াইলে একের পর এক দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্ত্তজা। নিজ অর্থায়নে নড়াইল সদর হাসপাতালে ‘ডক্টরস সেফটি চেম্বার’ বানিয়ে দিয়েছেন এই সংসদ সদস্য। মূলত হাসপাতালের ডাক্তারদের নিরাপত্তার জন্যই চেম্বারটি স্থাপন করা হয়েছে। এই চেম্বারে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্তদের দেখা হবে। এরপর যদি মনে হয় তারা করোনায় আক্রান্ত, তাহলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে করোনা ইউনিটে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মাশরাফির এই উদ্যোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। মাশরাফি সরকারি তহবিলের পাশাপাশি ক্রান্তিকালে নিজ উদ্যোগেও (নড়াইল ফাউন্ডেশন) দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ২২ এপ্রিল সদর হাসপাতালের গেটের ভেতরে এই চেম্বার স্থাপন করা হয়। সেই থেকে এই চেম্বারের কাজ অব্যাহতভাবে চলছে। এই চেম্বারে ডাক্তাররা বসছেন নিয়মিত। করোনা সন্দেহভাজন রোগীরা এই চেম্বারের বাইরে বসে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। মাশরাফি বিন মুর্ত্তজার ভাই মোরসালিন বিন মুর্ত্তজা জানিয়েছেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হলো হাসপাতালের ডাক্তারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই চেম্বারে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্তদের দেখা হবে। এরপর যদি মনে হয় তারা করোনায় আক্রান্ত, তাহলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে করোনা ইউনিটে। নতুবা সেখান থেকেই তারা চিকিৎসা নিয়ে ফিরবেন। এতে করে ডাক্তাররা করোনায় আক্রান্ত হবেন না।’ জানা গেছে, ওই হাসপাতালের প্রবেশ পথে স্থাপন করা হয়েছে জীবাণুনাশক কক্ষ। কর্মহীন হয়ে পড়া নড়াইলের ৩০০ রিকশা-ভ্যানচালক, রাস্তার পাশের চা বিক্রেতা, হকারদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন মাশরাফি। ব্যয় করছেন বিসিবি থেকে পাওয়া এক মাসের বেতনের অর্ধেক। আর নিজ অর্থায়নে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন নড়াইলের ১ হাজার ২০০ পরিবারকে। ডাক্তার ও সংবাদকর্মীদের সুরক্ষার জন্য নিজের টাকায় ডাক্তার ও সংবাদকর্মীদের জন্য কিনে দিয়েছেন ৫০০ পিপিই। সাধারণ রোগীদের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে তার নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম।

করোনায় তামিমের উদ্যোগ
করোনা সংকট মোকাবিলায় ব্যক্তিগত জায়গা থেকে অনেক কিছু করছেন তামিম ইকবাল। সর্বশেষ ক্রিকেটের বাইরের ৯১ ক্রীড়াবিদকে দিয়েছেন আর্থিক সহায়তা। এই ওপেনার মনে করেন, ‘আমি একা নই। আরও অনেকে সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।’ ওয়ানডে অধিনায়ক আরও বলেছেন, ‘করোনা সংকট কাটিয়ে উঠতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। সবাই একটু একটু করে সহযোগিতার হাত বাড়ালেই দেখবেন আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’ তামিম বলেছেন, ‘অনেকে আছেন, যারা কষ্টে থাকা অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখন যে সংকটকাল চলছে, সবাই মিলে কাজ করলে এই সংকট আর থাকবে না। আমরা যদি নিজেদের খাবার শেয়ার করি, তাহলে আর কারও খাবারের কষ্ট হবে না। একজন আরেকজনের পাশে না দাঁড়াই, তাহলে এমন ক্রাইসিস ছয় মাস পর্যন্ত টেনে নেওয়া সম্ভব না।’ করোনার ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়ে অসহায় ও দুস্থদের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা করছেন তামিম। বেতনের অর্ধেক টাকা দিয়ে দিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাহায্য করেছেন অ্যাথলেট সামিউলকে। ক্রিকেটার নাজমুল ইসলাম অপুর ত্রাণ কার্যক্রমে তিন-দফা আর্থিক সাহায্য করেছেন। স্বেচ্ছাসেবিকা নাফিসা খানের ত্রাণ কার্যক্রমেও অনুদান দিয়েছেন। এরপর দিয়েছেন দেশের ৯১ ক্রীড়াবিদকে আর্থিক সহায়তা।

‘দ্য সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন’
করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে তহবিল গঠন করেছে ‘দ্য সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে সাকিবের নিজ জেলা মাগুরা থেকে। একের পর এক ভিডিও বার্তায় এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তার ফাউন্ডেশনে জমা পড়েছে ৩৮ লাখ ৬৪ হাজার ৬৭৯ টাকা। ইতোমধ্যে মাগুরায় ১ হাজার ৫০০ প্যাকেট খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেছে ‘দ্য সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন’। আরেক ভিডিও বার্তায় সাকিব সকলকে এগিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই আপনাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। ঐক্যবদ্ধ হয়েই আমরা পারব করোনা মোকাবিলা করতে।’

নিলামে মুশফিকের প্রিয় ব্যাট
২০১৩ সালে গলে স্বাগতিক শ্রীলংকার বিপক্ষে মুশফিকুর রহিম খেলেছিলেন ২০০ রানের অনবদ্য ইনিংস। দেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডটিও ওই ব্যাটেই। ইতিহাস রেকর্ডে সমুজ্জ্বল সেই ব্যাটটি করোনাকালে নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুশফিক। তিনি জানিয়েছেন, ‘অবশ্যই ব্যাটটি আমার কাছে স্পেশাল। নিজের নাম জড়িয়ে আছে ওই ব্যাটে। চাইলেও এমন কিছুর সৌভাগ্য সবার হয় না। প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছি এই ব্যাটে। কিন্তু মানুষের জীবনের চেয়ে বড় কিছু নেই। তাই এটিই নিলামে তুলতে যাচ্ছি। নিলাম করে দু-একজন মানুষেরও উপকার হয়, এই দুঃসময়ে তারা কিছু সাহায্য পায়, তাহলে সেটিই আমার জন্য হবে বড় পাওয়া।’

বিশ্বকাপ স্মারক নিলামে তুলছেন আকবর
টগবগে আকবর আলীর নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। করোনাকালে সিনিয়র ক্রিকেটাররা যখন এগিয়ে এসেছেন অসহায়দের সাহায্যার্থে, বসে নেই এই তরুণ ক্রিকেটারও। ৩০ এপ্রিল ফেসবুকে আকবর আলী বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় এখন পর্যন্ত আমার জীবনের সেরা অর্জন। করোনার এই সংকটকালীন সময়ে সেই অর্জনের দুটি স্মারক [১. ফাইনালের ম্যাচ জার্সি, ২. ফাইনালে ব্যবহৃত ব্যাটিং গ্লাভস] আমি নিলামে তুলতে যাচ্ছি। আর নিলাম থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থই করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যয় করা হবে।’ বিশ্বকাপজয়ী আকবরের কাছে তার জার্সি ও ব্যাটিং গ্লাভস বিশেষ কিছু। বলেন, এই অর্জনের স্মৃতি হিসেবে এগুলো আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু করোনার এ-সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার জায়গা থেকে সেই চেষ্টাই করছি। আশা করি ক্রিকেটভক্তরা আমাকে সহযোগিতা করবে।’ সাকিব আল হাসান ২০১৯ বিশ্বকাপ মাতানো ব্যাট নিলামে তুললে; ২০ লাখ টাকায় ব্যাটটি কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশি। পাশাপাশি মাশরাফি মুর্ত্তজা, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ আশরাফুল, সৌম্য সরকার, এনামুল হক, তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন তাদের স্মারক নিলামে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

নিলামে উঠছে মোনেম মুন্নার জার্সি
করোনাভাইরাসে অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছেন অনেকেই। অনেকের মতো উদ্যোগ নিয়েছে প্রয়াত মোনেম মুন্নার পরিবারও। বাংলাদেশের ফুটবলে প্রথম ট্রফি জয়ের নায়কের জার্সি উঠছে নিলামে। উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে চার জাতি ফুটবলে বাংলাদেশ প্রথম ট্রফি জিতেছিল। সেই ট্রফি জয়ী দলের অধিনায়ক ছিলেন মুন্না। দীর্ঘ ২৫ বছর পর জয়ের স্মৃতি মেলে ধরছেন প্রয়াতের স্ত্রী সুরভি মোনেম। করোনাভাইরাসে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে মুন্নার ‘২ নম্বর’ জার্সিটি নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘আজ মুন্না বেঁচে থাকলে হয়তো অসহায়দের জন্য অনেক কিছু করত। এখন সে নেই। তারপরও আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তার চার জাতি ট্রফি জয়ের জার্সিটি নিলামে তুলব। এতে করে যদি কিছু লোকের উপকার হয়। আমাদের কাছে ২৫ বছর ধরে স্মৃতিবিজড়িত এই জার্সিটি আছে।’

জাপান অলিম্পিক সর্বশেষ
করোনার কারণে ২০২১ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে ২১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া টোকিও অলিম্পিকের আসর। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটি ২০২১ সালেও আয়োজন করা সম্ভব হবে না। করোনাভাইরাসের কারণে এক বছর পিছিয়ে গেছে টোকিওতে অনুষ্ঠেয় অলিম্পিক। আগামী ২১ জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল বিশ্ব ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় এই আসরের। এখন অলিম্পিক আগামী বছরেও আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। প্রাণঘাতী মহামারি কোভিড-১৯ বা করোনার প্রকোপ না কমলে শেষ পর্যন্ত হয়তো বাতিলই করে দিতে হতে পারে অলিম্পিকের আসর।
অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে শঙ্কার কথা বলেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। জাপানি পার্লামেন্টে তিনি এই শঙ্কার কথা উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘আমাদের অবশ্যই করোনাভাইরাস নামক এই মহামারির বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় লড়াইয়ের উপায় বের করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না করোনাভাইরাসের এই মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে ততক্ষণ খেলা ভালোভাবে আয়োজন অসম্ভব।’

ফিফা দিচ্ছে ১ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা
ফিফার ঘোষণাটা ২৪ এপ্রিলের। করোনাভাইরাসে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ফুটবল দেশগুলোকে বিশাল অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেবে। ২১১ সদস্য দেশকে ফিফা দিচ্ছে ১৫০ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা ১ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। একই সঙ্গে ২০১৯ ও ২০২০ সালের ‘অপারেশনাল’ তহবিল বণ্টন করা হবে সব সদস্য দেশের মধ্যে।
ফিফার এই বিশাল অনুদানে প্রত্যেক সদস্য দেশ পাবে ৫ লাখ ইউএস ডলার করে। এর সঙ্গে বাড়তি তহবিলের অর্থও যোগ হতে পারে। নির্দিষ্ট মানদ- অনুসরণ করে সব সময় আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে ফিফা, তবে এবারের বিষয়টি ব্যতিক্রম। করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিক সহায়তায় কোনো মানদ- থাকছে না। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রভাবে পুরো ফুটবল অঙ্গন অপ্রত্যাশিতভাবে পাল্টে গেছে। কঠিন এই সময়ে গভর্নিং বডি হিসেবে ফিফার দায়িত্ব সবাইকে সাহায্য করা। যেটির শুরু করছি আমরা তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে, অনেক সদস্য দেশ নিদারুণ অর্থকষ্টে আছে।’

করোনা মুক্তির প্রার্থনা ম্যারাডোনার
৩০ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘ঈশ্বরের হাত’ দিয়ে করা গোল ডিয়েগো ম্যারাডোনা সেই ঈশ^রের ওপরই আস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেছেনÑ ‘ঈশ্বরের হাত’ যেন করোনামুক্তি ঘটায় সেটিই আমি চাই। করোনার এই দুঃসময় থেকে দ্রুতই মুক্তি চান ডিয়েগো ম্যারাডোনা। তার বিশ্বাস আবারও প্রাণ চাঞ্চল্যে ফিরবে গোটা পৃথিবী। দূর হবে মানবঘাতী মহামারি। বিশ্বকাপের ওই গোল নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
রোনালদো একের ভেতরে তিন
পর্তুগালের লিসবনে থাকা পেস্তানা সিআরসেভেন লাইফ স্টাইল হোটেলকে হাসপাতালে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। তার হাসপাতালে আসা সবাইকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব খরচ নিজেই দেবেন রোনালদো। রোনালদো বলেন, ‘বিশ্ব এখন কঠিনতম একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সবার উচিত এর প্রতি মনোযোগ ও গুরুত্ব দেওয়া। আমি আজ আপনাদের সঙ্গে একজন ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে কথা বলছি না; বরং একজন সন্তান, একজন বাবা, একজন মানুষ হিসেবে কথা বলছি যে গোটা বিশ্বের আক্রান্ত হওয়ার এই ঘটনা নিয়ে শঙ্কিত।’ অন্যদিকে রোনালদো ইতালিতে করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় মার্চের মাঝামাঝি চলে গিয়েছিলেন পর্তুগালে; এতদিন ভালোই ছিলেন সেখানে। আশায় বুক বেঁধে আবারও অনুশীলনে ফিরছিলেন। কিন্তু ২৮ এপ্রিল ফের নিজ বাড়িতে ফিরেই করোনা প্রতিরোধে সরকার নির্দেশিত আদর্শ নিয়ম অনুযায়ী ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে রোনালদোকে। পাশাপাশি মাস্ক পরে ছবি পোস্ট দিয়ে রোনালদো সাধারণ মানুষকে সাহস জুগিয়ে লিখেছেন, ‘এই সময় আমাদের পুরো বিশ্বের জন্য খুবই কঠিন একটি সময়। আর এই সময়টাতে আমাদের সকলে একত্রিত থাকতে হবে, একে অপরকে সাহায্য করতে হবে। তাই চলো আমরা একে অপরকে সাহায্য করি।’ উল্লেখ্য, পর্তুগালের একটি হাসপাতালের আইসিইউর জন্য ১ মিলিয়ন ইউরো দান করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

১০ টন খাবার দিয়ে আলোচনায় বার্সাকর্মী
করোনাভাইরাস সারাবিশ্বকে শুধু থমকেই দেয়নি, বিপর্যয়ের মুখেও ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে বিশ্বজুড়েই ত্রাণ নিয়ে হাহাকার শুরু হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান-ব্যক্তি সবাই যে যার অবস্থান থেকে সাহায্য করছেন। এর মধ্যে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সার এক কর্মী নিরন্নদের ১০ টন খাবার দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। এই মহান ব্যক্তির নাম আন্দ্রে কারি। ব্রাজিলে বার্সেলোনার হয়ে স্কাউটিং করাই তার কাজ। ভবিষ্যৎ নেইমার, রোনালদিনহো, দানি আলভেজদের মতো মেধাবীদের খোঁজাই তার কাজ। সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়ে শিরোনামে উঠে আসা কারি এক দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দান করেছেন ১০ টন খাদ্যদ্রব্য। গত মাসেই এ-সময়টায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে ঘরে বসে থাকতে হয়েছিল কারিকে। বার্সেলোনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথম ব্যক্তি হিসেবে করোনা আক্রান্ত কারি ও তার স্ত্রী ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে কাটিয়ে এখন এই সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন।

Leave a Reply