মায়ের দ্বিতীয় বিবাহবিচ্ছেদ

পূরবী বসু : আগস্ট ২০২০। আজ থেকে ৭৩ বছর আগে আমার মা আবার বিয়ে করে। তখন ভরা বর্ষা। আকাশে মেঘের ঘনঘটা। পুকুর-নদী-নালা জলে টইটুম্বুর। নববধূর সাজে আবার নতুন করে সাজলো আমার মা। সানাই বেজে উঠল। আতশবাজি ফুটল আকাশে। আলোয় ঝলমল করে উঠল বসতবাড়ি। সবুজ আর সাদা কাপড়ে শোভিত হলো প্রবেশ পথের উত্থিত দ্বার, যার ডান পাশের উত্তর কোণায় অতি যতেœ বিপিতার কোলে পরম সোহাগে রাজরানির মতো বসে আছে আমাদের মা, যেন কাস্তের মতো চৌকষ চাঁদের কোলে উজ্জ্বল ও সালঙ্কারা এক তারকা।
এটা মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে। তার প্রথম স্বামী আমার জন্মদাতা পিতার সংসারে সুখ পায়নি মা। পিতৃপরিবারের কৌলিন্য আর ব্রাক্ষণ্যত্ব মাকে প্রতিনিয়ত বিব্রত করেছে। তবু এই ছাড়াছাড়ি চায়নি অনেকেই। ধরা যাক চিত্তজেঠুর কথাই। দু’পক্ষকেই কী কম বুঝিয়েছেন তিনি। ফজলু চাচার সঙ্গে পরামর্শ করে সমঝোতার মাধ্যমে ঘরটা টিকিয়ে রাখার কত চেষ্টাই না করেছেন! চিত্তজেঠু অসময়ে মারা যাবার পরও ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে গেছেন শরৎ কাকু, হাশিম মামা। কিন্তু মা অনড়। অবিচলিত তার সিদ্ধান্তে। অবশ্য মাকে উৎসাহ দেবার লোকেরও অভাব ছিল না। যেমনÑ মনসুর মামা, ইব্রাহিম মাস্টার, নাজিম খালু। তারা মাকে বোঝাতেন, এই অবহেলা-অপমান থেকে মুক্তি পাবে; রাজরানি হয়ে থাকবে নতুন সংসারে।
সম্ভ্রান্ত ধনী পরিবারেই বিয়ে হয়েছিল মায়ের। আমি তখন খুব ছোট। অন্য ভাইবোন দুটো আমার চাইতে কিছু বড়। মা ও তার নতুন স্বামী অর্থাৎ, আমাদের নতুন বাবার সঙ্গে চলে এলাম তার নতুন বাড়িতে। প্রথম প্রথম নতুন পরিবেশে সব কিছুই অন্যরকম লাগত। তারপর আস্তে আস্তে ভালো লাগতে শুরু করল। দেখলাম ফজলু চাচার কথাই ঠিক। এখানকার গ্রামীণ লোকজন বড় সহজ-সরল, আন্তরিক, বড় প্রাণখোলা।
সময় কেটে যাচ্ছিল একরকম মন্দ না। শুধু খারাপ লাগত, কষ্ট হত, যখন বাড়ির সকলে আমার বাবার পরিবারের নিন্দা করতে গিয়ে আমাদের প্রতিও তুচ্ছতাচ্ছিল্য দেখাতে শুরু করল। কী রকম কঠিন, নিষ্ঠুর ও অবিবেচকের মতো মন্তব্য করত সকলে! ভাবখানা এ-রকম, তোমার মায়ের বিয়ে হয়েছে, সে এখানে এসেছে বাড়ির বউ হয়ে, ভালো কথা। তোমরা বাপু আবার কেন এলে? আসলে যে কেন এলাম আমরাও জানি না। বাবার বাড়ির কেউ কি ছাড়তে চেয়েছিল আমাদের? না, একরকম জোর করেই চলে এসেছি, মাকে যে বড় ভালোবাসি আমরা। তা আমাদের অবহেলা করে করুক, কিন্তু ব্যাপারটা যে সেখানেই সীমাবদ্ধ রইল না। এক সময় নতুন বাবাও মায়ের ওপর অত্যাচার শুরু করলেন। মনে মনে ভাবলাম, মাগো, বিয়ে যখন আবার করেইছিলে, একজন শ্রেণি-সচেতন কলিমকে ছেড়ে সম-অবস্থানের একজনকেই যখন বেছে নিয়েছিলে, কেন একবার দেখে নিলে না সে তোমারই ভাষায় কথা বলে কি না? তোমরা যে পরস্পরের মুখের কথা পর্যন্ত বুঝতে পার না! তোমার প্রতি কোনো শ্রদ্ধাবোধই নেই তার। নিজের সংসারে না আছে তোমার একফোঁটা কর্তৃত্ব, না আছে এতটুকু নিয়ন্ত্রণ। তোমার অতীত জীবন নিয়ে যখন-তখন নিষ্ঠুর কটু মন্তব্য করে সে। তোমার গায়ে হাত তোলে পর্যন্ত। এ বিয়ে টেকে কী করে?
নিজের খানদানি ও ভাষার গরিমায় সব সময় বিভোর হয়ে থাকতেন আমার নতুন বাবা। আমরা যে আমাদের মায়ের ভাষাতে কথা বলতাম, সেটা খুবই অপছন্দ ছিল তার। নতুন বাবা মনে করতেন ওটা ছোটলোকের ভাষা। সম্ভ্রান্ত লোকেরা ওভাবে কথা বলে না। তার নিজের ভাষাকে ঐশ্বরিক শব্দাবলীর মতোই পবিত্র ও শক্তিশালী মনে করতেন তিনি। তার এই অহঙ্কার থেকেই সেই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনাটি ঘটল।
মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর সাড়ে চার বছর কেটে গেছে ততদিনে। ছোট ভাইটি অর্থাৎ বাবার নয়নের মণি সন্তানটি ভয়ানক দুরন্ত হয়ে উঠেছে। ফাল্গুনের প্রথম দিকের এক ঝলমলে দিন ছিল সেটা। কৃষ্ণচূড়ার রক্তাভ লালিমায় আকাশটা আগুনের মতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। শনশনে হাওয়া বইছিল একটু একটু করে। গৃহবধূকে অস্থির ও উন্মানা করে দিয়ে গাছে গাছে কোকিল ডাকছিল অলস সুরে। বাইরে বসে ছোট ভাইটি মনের আনন্দে আধো আধো বোলে আমের মুকুল আর মৌমাছি নিয়ে কী-একটা ছড়া কাটছিল আপন মনে। শুনে পিতার সে কী অগ্নিমূর্তি! যতবার তাকে ওই ভাষায় কথা বলতে বারণ করে, ততবারই ভাইটি আরও বেশি করে বলতে থাকে। রাগের চোটে বাবা প্রচ-ভাবে আঘাত করল ভাইটিকে, সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারাল সে; আর ফিরল না সে জ্ঞান। সেটা ছিল ফাল্গুনের ৮ তারিখ। পুত্রশোকে মুহ্যমান মা তখনই স্বামীকে ছেড়ে যাবার কথা ভেবেছিল; কিন্তু অনুতপ্ত পিতা ও পরিবারের সকলে মাকে খুব করে বোঝালো, ওটা নেহায়েতই দুর্ঘটনা। পুত্রবিয়োগ ও অনুশোচনায় বাবা নিজেও তখন অর্ধ-উন্মাদ। মা তার সকল কষ্ট বুকে চেপে আমাদের কথা ভেবে এরপরও থেকে গেল এ-সংসারে। তবে একটি শর্তে। আমাদের কথাবার্তা-ভাষা নিয়ে কোনো মন্তব্য বা অভিযোগ উঠবে না আর। তা তেমন সরাসরি ওঠেনি ঠিকই; কিন্তু এতে করে বাবার আভিজাত্যের দাপট কমলো না একটুও। তার উচ্চমনস্কতা এক সময় এমন বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেল যে সব ধৈর্যের বাঁধন ভেঙে গেল মায়ের। ততদিনে সংসারে এসে যোগ হয়েছে আর কয়েকটি নতুন ভাইবোন।
আমার মায়ের দ্বিতীয় বিয়েও ভেঙে পড়ার উপক্রম হলো। মা এখন প্রৌঢ়া। একদা সুন্দরী, স্বাস্থ্যবতী, ঝলমলে যৌবনে ভরপুর আমাদের সেই মা কিছুটা ক্লান্তও। দুই দশকজুড়ে দ্বিতীয় সংসারের ক্রমাগত টানাপড়েন আর ঝড়ঝাপটা মায়ের জীবনীশক্তি অনেকটাই নিঃশেষ করে দিয়েছে।
আমার মা এখন আর কার্যত কারও দাসী নন। মিথ্যে আভিজাত্য আর বংশমর্যাদার অহংকারে এতদিন তার ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, এবার তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সংকল্প করল মা।
কিন্তু সময়টা অনুকূলে ছিল না। সংসারে অভাব। চাকরির বাজারে দারুণ মন্দা। বন্যায় ভেসে গেছে ফসল। সবচেয়ে বড় কথা, আমার সৎ ভাইবোনেরাও কেমন যেন সন্দেহের চোখে দেখে আমাদের আজকাল। আমাদের আড়ালে মাকে শাসায় তারা। নানারকম ফন্দিফিকির করে মায়ের সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্বামীর সম্পর্ক অক্ষুণœ রাখার জন্য। পিতার ঐশ্বর্য, পিতৃপরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনের সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি এই বর্তমান আর্থিক দুরবস্থার আশু সমাধানের একমাত্র পথ বলে তারা মনে করছে।
সব দেখেশুনে মায়ের চোখে আবার অবিরল জলের ধারা। দুই স্বামীর কাছ থেকে শুধু নয়, সন্তানের কাছ থেকেও অবিরাম কষ্ট পাচ্ছে আমার মা। নিজের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে এই ক্রমাগত বচসা, অবিশ্বাস আর ঘৃণা মাকে অস্থির-উন্মানা করে তুলছে। আকাশের দিকে, বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে মা সকলের জন্য উদারতা ভিক্ষা করে। তার প্রার্থনা ফিরে আসে ঝড় আর বজ্র হয়ে। প্রার্থিত শান্তির দেখা নেই।
আমাদের এই অতি কষ্টের দিনে, মায়ের এই পরম দুঃসময়ে এগিয়ে এলেন মস্ত হৃদয়ের এক অসামান্য দরদি বন্ধু। মাকে, আমাদের ভাই-বোনদের বোঝালেন আর সমঝোতার বৃথা চেষ্টা নয়। এই ঘরÑ এই সংসার অক্ষুণœ রাখতে, এর ভাঙন রোধ করতে সকলের বৈধ সম্পত্তি নিয়ে তিনি প্রাণপণে চেষ্টা করেছিলেন, অনেক অন্যায় আবদার মেনেও নিয়েছিলেন; কিন্তু তারপরও তাদের চাওয়ার শেষ নেই। ন্যায্য পাওনা তারা দেবে নাÑ মানবে না সম-অধিকার। তিনি ক্রমাগত বহু চেষ্টা করে বিফল হয়েছেন। এখন আর সমঝোতা করার সময় নেই। নিজের পায়ে স্বনির্ভর হয়ে দাঁড়াতে হবে মাকে। আমরা সকলে একত্রিত হয়ে মাকে সাহস ও শক্তি জোগাব- এই ব্যর্থ দ্বিতীয় বিবাহের শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির স্বাদ পেতে। দাবদাহে অতিষ্ঠ এক মধ্য বসন্ত থেকে শুরু করে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত পার হয়ে তীব্র শীতের মাঝামাঝি পর্যন্ত একটানা ১০ মাস রীতিমতো সংগ্রাম করে আমাদের মাকে শেষে মুক্ত করা গেল তার নিরন্তর নিষ্ঠুর, স্বার্থপর ও নিপীড়ক দ্বিতীয় স্বামীর হাত থেকে। প্রগাঢ় ও অন্ধকারে দুই যুগ ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর এই মুক্তিÑ এই স্বস্তি এলো আমাদের মায়ের।
অবশেষে আমরা সকলে আবার শান্তিতে নিঃশ্বাস নিলাম। কিন্তু আমার মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর কিছু অনুরক্ত অনুচর ষড়যন্ত্র করে এক সর্বনাশ করে বসে। আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে মুক্তির দোরে পৌঁছে দিয়েছিল যে সুহৃদÑ যে মহাত্মা, রাতের অন্ধকার তাকে তারা সপরিবারে হত্যা করে ফেলে আর সেটি ঘটায় মায়ের দ্বিতীয় বিবাহের দিনক্ষণ মিলিয়ে- ঠিক একই তারিখে। অর্থাৎ আগস্ট মাসের মধ্য দিয়ে যেদিন মায়ের দ্বিতীয়বার বিয়ে হয়েছিল এই কুলাঙ্গার লোকটির সঙ্গে। তবে যত ভীতি, যত আস্ফালনই দেখাক, তার সঙ্গে মায়ের মিলেমিশে যাবার কোনো সম্ভাবনা নেই আর। আমাদের সাফল্যে-সুখে মা আজ বড়ই গর্বিত-আনন্দিত। আমাদের মুখের ভাষা প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহার করার স্বীকৃতি পেতে আমার ভাইয়ের খুন হওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বড় ও ফলাও করে ছাপানো হয়। এরপর আমাদের জীবিত ভাই-বোনদের মিলিত ও অনবরত চেষ্টা ফাগুনের সেই বিশেষ দিনটি এখন বিশ্বজোড়া মানুষ তাদের মাতৃভাষা দিবস বলে পালন করে। এই সম্মান, এই স্বীকৃতি শুধু আমাদের মাতৃভাষা, কেবল আমাদের বর্ণমালার নয়, আমাদের মায়ের স্বার্থত্যাগ ও দৃঢ় অবস্থানের প্রতিও গভীর সম্মান প্রদর্শন।
আমাদের কল্যাণকামী একান্ত স্বজন ও অভিভাবককে এমন কাপুরুষোচিতভাবে হত্যা করলেও আমার মা এবং আমরা ভাইবোনেরা আজও রয়ে গেছি মুক্ত-স্বাধীন। আমাদের সেই পরম সুহৃদ ও রক্ষককে খুন করে প্রথমে তারা আমাদের নানারকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। আরও পরে, কৌশল বদলে অলৌকিক সব আশ্বাস ও লোভ দেখাতে থাকে আমাদের। বিপিতা স্বয়ং ও তার এদেশীয় দোসররা। ভাবখানা এমন যেন মায়ের সঙ্গে তার ভাঙা ঘর জোড়া দিতে তিনি অনেক কিছু মেনে নেবেন, পূর্বের উত্থাপিত দাবির বেশ কিছুসহ। কিন্তু সে আর হয় না। পেছন ফেরার দিন শেষ হয়ে গেছে। সকলের সায় ও সম্মতি নিয়েই তো সেই মহামানব এগিয়ে এসেছিলেন একদা এই নড়বড়ে ঘরের মাঝামাঝি বিশাল ফাটলটি কোনোমতে মেরামত করতে। তার বৃথা চেষ্টার পরিণতির পর আর পিছপা নয়। সকল ঝামেলা সবরকম প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আমরা আজ নতুন করে একটু একটু ঘর গোছাতে শুরু করেছি। প্রথম প্রহর গুটিগুটি পায়ে সামনের দিকে এগোই। কিন্তু এরই মাঝে কখনো ঘটে মস্ত বড় উলম্ফন। আমাদের চালিয়ে নিতে, সৎ পরামর্শ দিতে, পেছনের ঘন কুয়াশায় গা-ঢাকা দিয়ে চুপচাপ বসেছিলেন যে আমাদের সেই মহাপুরুষের সুযোগ্য উত্তরাধিকারী, তিনিই সকলের সম্মিলিত দাবি ও প্রয়োজনের মুখে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হলেন। আমাদের পাশেই দাঁড়ালেন। কিন্তু এত কিছুর পরেও সুযোগ পেলেই মাঝে মাঝে মাথা চড়া দিয়ে ওঠে মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর সাগরেদরা। তারা তাদের গোপনীয় ঘাঁটি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের জাল বিস্তার করে আছে সর্বত্র। তবে আমরাও আজ প্রস্তুত। অপরাধ প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের ধরে নিয়ে চরম শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। যেমন করা হয়েছিল যারা মায়ের মুক্তি সংগ্রামে সরাসরি বাধা দিয়ে মায়ের দ্বিতীয় স্বামীকে সহযোগিতা করেছিল। ক্ষমার অযোগ্য শাস্তিপ্রাপ্তদের অনেকের মধ্যে রয়েছে মতিয়র, কাদের, মুজাহিদী, সালাহ্উদ্দিন। আমাদের শান্তির বিঘœ ঘটাতে ওদের তৈরি করা অদৃশ্য একদল এখনো ওতপেতে বসে আছে যথার্থ সুযোগের অপেক্ষায়। তবে আমার আগের তুলনায় অনেক সচেতন ও সংগঠিত। সর্বদা সতর্ক আমরা। দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধও বটে। আমাদের হিতাকাক্সক্ষীÑ আমাদের জনক সেই মহান ব্যক্তিত্ব, যিনি মায়ের সম্ভ্রম রক্ষা করে তাকে মুক্তিদান করে আমাদের সকলকে এই বিজিতা মায়ের সন্তান হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার মতো একটি পরিচয় দান করেছিলেন, সেই অকুতোভয় সকল বাঙালির বন্ধু দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মহান প্রাণের দিক-নির্দেশনাতেই আমরা ধাপে ধাপে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছি। এই স্বাধীনভাবে চলা, এই বেগমান গতি দিনে দিনে শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা আজ কারও মুখাপেক্ষী নই। আমাদের মা ও আমরা আজ সর্বাংশেই মুক্ত, স্বাধীন, স্বাবলম্বী।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও বিজ্ঞানী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply