স্মৃতি-বিস্মৃতির অশ্রুত কথা

কাজী রোকেয়া সুলতানা রাকা: স্মৃতির ফাঁকে ফাঁকে অনেক কিছুই উঁকি দেয়। ঝরে যাওয়া পাতাগুলো মচ্মচ্ করে ওঠে কোনো আঘাতে নয়, যেন জীবন্ত হওয়ার তাড়নায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনটাই ছিল নানা রঙের ছন্দবন্ধের সময়। সময়টাও ছিল উন্মাতাল। দেখছি বাংলার মানুষ একই সুরে একই মন্ত্রে কথা বলার জন্য উন্মুখ। ‘একুশ’ আমাদের মনের তন্ত্রী। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতাম শহিদ মিনারের পাদপীঠে। আমাদের চাওয়া-পাওয়ার সবকিছুই ছিল ‘একুশ’কে কেন্দ্র করে। ছাত্রদের এই অমোঘ নিশানা মানুষকে টেনে আনছিল ‘স্বাধীনতার’ দিকে। অত্যাচারিত-নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন সেই মহামানব সোনার বাংলা জাগরণমন্ত্রে কায়েম করার লক্ষ্যে যিনি বাঙালিকে জাগিয়ে তুললেন।
১৯৬৬ সালে ‘৬-দফা’ তাই মানুষের প্রিয় হয়ে ওঠে এবং ৭ জুনে মনু মিয়ারা রক্ত দিয়ে ঢাকার বুকে রক্তজবা ফুটায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে নানারকম অভিযানে শামিল মানুষ তার ঠিকানা খুঁজতে গিয়ে উজ্জীবিত হয়ে পড়ে।
তারই কাছাকছি সময় আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ ঘটে। সেদিন ছিল ১৯৬৭ সালের ১২ আগস্ট। চোখ মেলে দেখলাম, লক্ষ মানুষ অগ্রসর হচ্ছে বাংলার ভাগ্যাকাশের রূপরেখা পরিবর্তনের জন্য। ছাত্র-জনতা বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতো নানাভাবে একত্রিত হচ্ছে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন ছাত্র-সমাজ পিছিয়ে নেই; বরং ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধে তারা জনসাধারণের কাক্সিক্ষত শক্তিতে, চেতনায় ও মননে প্রস্তুত হচ্ছিল। সেদিনের ছাত্র-সমাজ মানুষের এই প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে আসছিল নানা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
আমি আমার নিজের শক্তি অর্জনের চেষ্টা করছিলাম তৎকালীন ছাত্র-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ঠিক এ-সময়ে আমারও কিছু ছাত্রী-বন্ধু আমাকে সহযোগিতা করছিল, যাতে আন্দোলনে অগ্রসর হতে পারি। সে-সময়ে ছাত্রীনেত্রীরা সর্বতোভাবে আমাকে সাহায্য করেছিল এবং ছাত্র-সংগঠনে ঐক্যবন্ধ হতে তখনই পেরেছিলাম। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়টা ছিল জাগরণের কেন্দ্রভূমি। আমার যাত্রাও ছিল সর্বত্র। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩৩টি বিভাগ ছিল। সবকটি বিভাগে আমার যাতায়াত ছিল। তখনই আমি সাংগঠনিক কাজে জড়িয়ে পড়েছি। নতুন হলে নিয়মিত ক্লাস করতে পারি না। এর মধ্যে একদিন রোকেয়া হলের গেটে আমার বান্ধবী বেবী তার বান্ধবী শেখ হাসিনাকে আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। বেবী বলল, ‘রাকা, দাঁড়া। আমি তোকে একজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।’ আমার দুই চোখ সহসা পাশের মেয়েটির দিকে আবদ্ধ হলোÑ দেখলাম ছিপছিপে একটি মেয়ে, সাদা শাড়ি পরা, আর দেখলাম তার লম্বা চুল। চোখের দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলাম ‘শ্রীময়ী’। ক’টা চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম ‘চোখ তার অন্ধকার বিদিশার নিশা’ বন্ধুত্ব হয়ে গেল প্রথম সাক্ষাতেই। রাজনৈতিক পরিবারে বড় হওয়ার সৌভাগ্য তার। আমার নিজের কাক্সিক্ষত ইচ্ছার রূপটি দেখলাম তার সম্পূর্ণ অবয়বে। ‘বেবীকে বললাম কিছু মনে করো না ভাই, কাল ক্লাসে আমাদের কথা হবে।’ অন্য একটা কাজে বের হচ্ছিলাম। বেবী সম্মতি দিল। পরদিন যথাসময়ে দেখা হলো ক্লাসে। প্রথম সাক্ষাতেই বন্ধুত্ব হয়ে গেল। রুচি-চিন্তায় মিল হয়ে গেল একসাথে। হাসু-হাসিনার সাথে নানারকম গল্পে কেটে গেল কয়েকদিন। বেবী ও হাসিনা দুজনেই ধানমন্ডিতে থাকে। হঠাৎই ওরা আমাকে ধানমন্ডি এলাকায় একটি সামাজিক সংগঠন করার প্রস্তাব দিল, আমরা ধানমন্ডিতে ‘ধানকন্যা’ নামে সংগঠন করব। যদিও আমি হলের ছাত্রী, তবুও আমার জায়গা তারা দিতে চাইল বন্ধুত্বকে অটুট রাখার নিমিত্তে।
রাজবন্দিদের মুক্তির জন্য নানারকম আয়োজন চলছে এবং আয়োজনে ছাত্র-সমাজ উদ্যোগী ভূমিকা নিয়ে চলছে। আমি তখন ছাত্র ইউনিয়ন করি। রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করার জন্য ছাত্র ইউনিয়ন আমাকে বিভিন্ন জায়গাতে স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে পাঠাত। এভাবে ধানমন্ডি এলাকাতে আমার আসা-যাওয়া শুরু হলো। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলা, জানার আগ্রহ আমার বেড়ে গেল। পারিবারিক ঐতিহ্য সূত্রে আমি বামপন্থি ধারায় বড় হয়েছি। কিন্তু হাসিনার সাথে আমাদের বন্ধুত্ব হতে রাজনীতি বাধা হয়ে দাঁড়ায় নি। এর কৃতিত্ব হাসিনার। ও কখনোই শেখ মুজিবের মেয়ে বলে নিজেকে জাহির করেনি; বরং ওর জীবনধারার সাথে ছাত্র ইউনিয়নের মেয়েদের মিল বেশি ছিল। রাজনৈতিক কারণেই ধানমন্ডি এলাকায় বেবী ও আমার যাতায়াত বেড়ে যায়। অনিবার্যভাবে সুযোগ পেলেই আমরা দুজনে হাসিনাদের বাসাই যাই। খালাম্মার হাতের রান্না, আচার আর অসীম স্নেহে ‘মা’ ডাক আজও আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে। অকপটে তিনি জেলখানায় হাসিনাকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর উদ্বেগের কথা আমাদের বলতেন। এ্যাটোমিক এ্যানার্জিতে চাকরি করেন ওয়াজেদ মিয়া। কেমন ছেলে সে, খালাম্মা আমাদের কাছে জানতে চান। হঠাৎ একদিন বাড়তি সুযোগ পেয়ে যাই। কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রংপুরের শঙ্কর বসু জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ঢাকায় আমাদের এক বন্ধুর বাসায় উঠেছেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু রংপুরের মানুষ বলে শঙ্করদা’র কাছে ওয়াজেদ মিয়া সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তৎকালীন রংপুরের আওয়ামী লীগ নেতা এবং পরবর্তীকালে মন্ত্রী মতিউর রহমান সাহেব বঙ্গবন্ধুর কাছে হাসিনার পাত্র হিসেবে ওয়াজেদ মিয়ার প্রস্তাব করেছেন। শঙ্করদা ওয়াজেদ মিয়া সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করলেও আমাদের কাছে তার সম্পর্কে জানতে চাইলেন। ওয়াজেদ মিয়া এফএইচ হলের ভিপি ছিলেন। আমার সেজ ভাই হাসান আমিন আর ওয়াজেদ মিয়া দুজনেই ফিজিক্সের ছাত্র। পরবর্তীকালে দুজনেই এ্যাটোমিক এ্যানার্জি সেন্টারে চাকরি করেছেন। ওয়াজেদ মিয়া কিছুটা সিনিয়র। সেজ ভাইয়ের কাছে তার সম্পর্কে আমি কিছুটা জেনেছি। সেই গল্প বেবীকেও বলেছি।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সূচনায় হাসিনার সাথে আমাদের ছাত্র ইউনিয়নের মেয়েদের সম্পর্ক ছিল বেশি ঘনিষ্ঠ। বাংলা বিভাগের ‘বিভাগীয় ছাত্র সংসদগুলো’ তখন সক্রিয় ছিল। প্রতি বছর বিভাগীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন হতো। বাংলা বিভাগের তখন ছাত্র ইউনিয়নের সমর্থক বেশি ছিল। সংসদ নির্বাচনে ভিপি-জিএসসহ মোট ২৪টি আসনে নির্বাচন হতো। ১৯৬৭-৬৮ শিক্ষাবর্ষে ২৪ আসনেই ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। নিয়ম ছিল জিএস প্রার্থী হবে প্রথম বর্ষ থেকে এবং ভিপি প্রার্থী হবে থার্ড ইয়ার অথবা ফাইনাল ইয়ার থেকে। আমরা প্রথম বর্ষ থেকে বেবী মওদুদকে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী করি। বাংলা বিভাগীয় ছাত্র সংসদে সাধারণত তখন ছাত্র ইউনিয়ন বেশি আসন পেত। ১৯৬৭-৬৮ বর্ষে আমরা ২৪টির মধ্যে ১৭টি আসনে জয়লাভ করি। ভিপি-সহ ৭টি আসন পায় ছাত্রলীগ। হাসিনা স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রলীগের প্রার্থীদের জন্য উৎসাহ নিয়ে কাজ করেছে। আর হাসিনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বেবী মওদুদ হলো তার প্রতিদ্বন্দ্বী। আমরা একটা কাজ করি, শেখ মুজিবের কন্যার নেতৃত্ব যাতে পরাজিত না হয়, সেজন্য সমঝোতার প্যানেল করি। আমাদের সিনিয়র নেতারা ছাত্রলীগকে ভিপি পদ ছেড়ে দিয়ে জিএস-সহ মেজরিটি পদে জয়লাভের জন্য চেষ্টা করতে বলেন। ফলাফল ঘোষণার পর ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগ উভয় দলই আনন্দ মিছিল করি। এই নির্বাচনে আমাদের সখ্য আরও নিবিড় হয়। ১৯৬৭-৭১ অনার্স কোর্সের বন্ধুরা, আমরা এখনো বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ককে জিইয়ে রাখার জন্য ‘সতীর্থ ৭১’ নামে সংগঠনের মাধ্যমে বছরে একাধিকবার মিলিত হই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আমাদের ‘সতীর্থ ৭১’-এর সদস্য হিসেবে ‘গণভবনে’ পুনর্মিলনীর আয়োজন করেছেন। এখানে আমরা কেউ ছাত্রলীগ বা ছাত্র ইউনিয়ন নই।
হাসিনার বন্ধুদের মধ্যে বেবী ছিল ওর বিশেষ ঘনিষ্ঠ। অথচ বেবী ও আমি একইসঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন করতাম। বেবী ও মিনু (ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী, বর্তমানে মহিলা সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি) এবং আমি একইসঙ্গে মহিলা পরিষদের সম্পাদকম-লীর সদস্য। হাসিনা ইতোমধ্যে জাতীয় নেত্রী। আমার রাজনৈতিক ও পেশাগত সীমাবদ্ধতার জন্য ওর সাথে মেলামেশার খুব একটা সুযোগ ঘটে না। কিন্তু বেবী ও মিনুর যাতায়াত ছিল ঘনঘন। অথচ বেবীর স্বামী হাসান আলী ভাই ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির গোপন সংগঠনের নেতা। হাসান ভাই ‘দৈনিক সংবাদ’-এ সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন। তোপখানা রোডে হাসান-বেবীদের বাসায় ছিল কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের গোপন আস্তানা। বেবীর ক্ষোভ ছিল, তাকে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ দেওয়া হয়নি। আসল কারণ ছিল কমিউনিস্ট পার্টির গোপনীয়তা যাতে নষ্ট না হয় সে-জন্য বেবীকে সদস্যপদ না দেওয়া। বেবীর ব্যাপারটা আমাদের কাছেও রহস্যই রাখা হয়েছে। তবে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আমার সতীর্থ ও গৃহস্বামী হওয়ার সুবাদে আমি আসল কারণটি জানতাম। বেবীর সাথে হাসিনার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে ওর স্বামী হাসান ভাইয়ের অকাল প্রয়াণের পর। আর আমার ঘনিষ্ঠতা কমে যায়Ñ সুযোগের অভাবে। আমার সতীর্থ ও স্বামীকে হাসিনার দলে (আওয়ামী লীগে) উৎসর্গ করে আমাকে সংসারের ঘানি টানতে হওয়ায়। তবে হাসিনার জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ ঘটনার সাথে আমি ও বেবী জড়িয়ে যাই। একদিন বেবী এসে বলল, ‘চল এ্যাটোমিক এ্যানার্জি সেন্টারে ওয়াজেদ মিয়াকে দেখে আসি।’ দুটো জিনিসের আগ্রহে আমি রাজি হলাম। মনে আছে, ৯-১০টার দিকে রোকেয়া হল থেকে এ্যাটোমিক এ্যানার্জি সেন্টারে পৌঁছলাম। গেটে বেবী ওয়াজেদ সাহেবের ঠিকানা দিল। কিছুক্ষণ পর ‘ওয়াজেদ মিয়া’ নিজেই এসে আমাদের নিয়ে এলেন ক্যান্টিনে, ‘বিগসাইজ’ সিংগাড়া দিয়ে গেল ক্যান্টিনের লোকটা। বেশ কিছু গল্প হলো, এর এক ফাঁকে বেবী আমাকে বলল, ‘কি বুঝলি?’ আমি বললাম, ‘মিয়া সাহেব তো রাজি, রাজকন্যা রাজি হলেই তো হলো।’ অতঃপর কোনো এক সময়, বেবী এসে বলল, ‘হাসুর মা’ তোমাকে যেতে বলেছে। দিনটা ছিল রৌদ্রোজ্জ্বল, বেবীর সঙ্গেই হাসিনাদের বাড়িতে পৌঁছলাম। ১৯৬৭ সালের সেই সময় বঙ্গবন্ধু তখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। হাসিনা আমাকে দেখে মিচকি মিচকি হাসছে। হাসির অর্থ আমাকে এখন কঠিনতম কাজটা করতে হবে। দুপুরে নানা আয়োজনে খাবার এলো। হাসু ও বেবী তখন গল্প করছে। আমাকেই খাওয়াতে বসালেন খালাম্মা। খালাম্মা নিজেই পরিবেশন করলেন।
খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ওয়াজেদ মিয়া কেমন হবে?’ Ñ আমি খালাম্মার দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললাম, ‘ছেলে ভালো, মেয়েও তো রাজি, আমার মনে হয় ভালোই হবে।’ আমার জীবনে প্রথম এমন কা-টি করেছিলাম আমি। খালাম্মা বললেন, ‘তাহলে হাসুকে জেলগেটে পাঠাই ওর বাবার সঙ্গে কথা বলতে?’ ওইদিনের এমন আনন্দময় সময়ে আমি থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করলাম। ওয়াজেদ মিয়ার সাথে আমাদের সাক্ষাৎকারের আসল রহস্য তো আমি আগেই বুঝেছিলাম। আরও কেউ কেউ হয়তো এ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু আমার সেজ ভাই, ওয়াজেদ মিয়ার সহকর্মী হাসান আমিন আমাকে বহুদিন ‘ঘটকি’ বলে ক্ষ্যাপাতেন। তিনি ঘটকের স্ত্রী লিঙ্গ হিসেবে আমাকে ‘ঘটকি’ আখ্যা দিয়েছিলেন।
সময় বসে থাকে না। সামনে সাবসিডিয়ারি পরীক্ষার তারিখ পেলাম। ইতোমধ্যে ১৭ নভেম্বর ‘হাসিনার সঙ্গে ওয়াজেদের বিয়ে হয়ে গেছে।’ ভালো আছে ওরা। আমি বেবীকে বললাম, ‘সেজন্য যেন পরীক্ষা বাদ না দেয়। পরীক্ষা দিতে বলিস’Ñ
হঠাৎ একদিন সেজ ভাই বললেন, ‘কী রে রাকা, তোর সুধা মিয়া তো ফুট!’ আমি বিস্ময় বিস্ফারিত চোখে সেজ ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে চাইলাম। সেজ ভাই বললেন, ‘সুধা মিয়া তো হাসিনাকে নিয়ে জার্মানি চলে গেছে, স্কলারশিপ পেয়েই।’ আমার খুব মন খারাপ হলো। হাসিনা কীভাবে অনার্স পরীক্ষা দেবে?
আমার ছোট ভাই তখন ঢাকা কলেজে কামালের সতীর্থ। আমার ছোট ভাইরা আমাকে ‘ছোট বু’ বলে ডাকে। কামালও সেটি জানত। ওদের বাসায় যাতায়াতের সুবাদে কামালও আমাকে ছোট বু বলে ডাকত। হঠাৎ একদিন কামাল এসে বলল, ‘ছোট বু আপনাকে মা “অমুক” তারিখে দেখা করতে বলেছে।’
সেই নির্ধারিত দিনে আমরা কয়েক বন্ধু ৩২ নম্বরের বাড়িতে যাই। খালাম্মা আমাদের বিশেষভাবে আপ্যায়িত করেন। খালাম্মা আঁচলে চোখ মোছেন এবং বললেন, ‘তোমরা দোয়া করো, আল্লাহ যেন ওদেরকে ভালো রাখে।’ আমরা ওর পড়ার কথা জিজ্ঞেস করতে দুচোখ মুছে খালাম্মা বলেন, ‘ওর ভাগ্যে থাকলে সব হবে। তোমরা মাঝে মাঝে এসো।’
২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিন। ওর জন্মদিনে আমার সশ্রদ্ধ একান্ত ভালোবাসা।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, নারীনেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহপাঠী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply