করোনাকালে আম্পানের পর বন্যার মোকাবিলা

Spread the love

রাজিয়া সুলতানা : শরৎকাল। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। থোকা থোকা সাদা কাশফুল। বর্ষার পানিতে সারাদেশ টইটুম্বুর। সে-এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। সেদেশেই আমাদের বসবাস। নাম বাংলাদেশ। দুর্যোগপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। নিত্যবছরের সঙ্গী বন্যা। কখনো এক, কখনো একাধিক এলাকা। আবার কখনো বা প্রায় দেশজুড়েই। বর্ষার বন্যা; অকাল বন্যার আগ্রাসন হতে বাঙালির কোনো মুক্তি নেই। তবে স্বাভাবিকভাবে বয়ে আনে মূল্যবান পলি। যা ফসলের জমিন করে উর্বর। আর প্রলয়ঙ্করী বন্যা দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এবারের বন্যা ভয়ঙ্করী। করোনার মহামারি দুর্যোগে বন্যা যেন বাঙালির জন্য- ‘নতুন এক বিষফোঁড়া’।
করেনায় বিশ্বের সঙ্গে যোগসূত্রেই বাঁধা পড়েছে বাংলাদেশ। মুখ থুবড়ে পড়েছে সারাদেশ। সে-সময়েই প্রথম আঘাত ঘূর্ণিঝড় আম্পান। ঢাল হয়ে দাঁড়াল সুন্দরবন। এ-যাত্রাও সুন্দরবন রক্ষা করে বাংলাদেশকে। তারপর বন্যা। এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বন্যার পানি থই থই। কৃষক, মৎস্যচাষি, পোলট্রি, দুগ্ধচাষিরা করোনা ও আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতেই নাভিশ্বাস। সেখানে বন্যায় আবার সব তলিয়ে-হারিয়ে যাচ্ছে। নিরুপায় হয়ে কৃষকরা পানির দামে বিক্রি করে দিচ্ছে উৎপাদিত কৃষিপণ্য। যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব। নেই নিয়মিত খদ্দের। ফলে কৃষক পরিবার প্রায় সর্বস্বান্ত। মহাজনের ঋণের বোঝায় ক্লান্ত। করোনা, আম্পানের সব বাধাবিপত্তি পেরিয়ে সবেমাত্র উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল কৃষকরা। ঠিক তখনই বন্যার করাল গ্রাস। মহাবিপদে কৃষক, মৎস্যচাষি, দুগ্ধ ও পোলট্রি খামারিরা। কিন্তু আমরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর সন্তান। বীরের জাতি। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কখনো হার মানতে শিখিনি। মার্চ হতে করোনার থাবা। জুন হতে আগাম বন্যা। সব বাধা অতিক্রম করে আমাদের জনগণ তথা কৃষক-সমাজ বঙ্গবন্ধু-কন্যার সুকৌশলী দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়াস চালাচ্ছে অবিরাম। আমাদের বিশ্বাস আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কৃষক।
ভাটির দেশ বাংলাদেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, জলাবদ্ধতা, অতিবৃষ্টি, খরা, নদীভাঙন, শিলাবৃষ্টি, ভূমিকম্প আমাদের পিছু ছাড়ে না। হিমালয়ের পাদদেশে বাংলাদেশ নামক পৃথিবীর বৃহত্তম সমতল ব-দ্বীপের অবস্থান। ফলে উজানে হিমালয় সন্নিহিত অঞ্চলে কিছুটা বেশি বৃষ্টি হলেই এখানে বন্যা হয়। অন্যদিকে ২০২০ সালটি সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। ফলে হিমালয়ের বরফগলা পানির গতিও ভাটির দেশের দিকেই। অপরদিকে আন্দামান সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের বুকে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে, তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। যা দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। ফলে সারাদেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যার সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ উজান থেকে আসা পানিই বন্যার প্রধান উৎস। আসলে নদীগুলো অনেকটা জীবন্তসত্তার মতো। প্রকৃতির রূপ বদলের সাথে সাথে তাদেরও গতিবিধি বদল করে। বাংলাদেশে ভারতের অভিন্ন নদী ৫০টিরও বেশি। বাংলাদেশ-ভারতের প্রধান তিন নদী গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার মিলিত স্রোতধারা বাংলাদেশের ভেতর দিয়েই প্রবাহিত। রয়েছে এদের অগণিত শাখা এবং উপনদী। এদের কারণেও এদেশে বন্যা হয়। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকে বন্যার বিস্তৃতি। বন্যার স্থায়িত্বের ওপর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশার মাত্রা নির্ভর করে। দেখা গেছে, প্রায় প্রতি ১০ বছর পরপর বাংলাদেশে বড় বন্যা হয়। স্বাধীনতার পর হতে ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০০৮ ও ২০১৭ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ। ১৯৮৮ সালের বন্যা ছিল বাংলাদেশে সংগঠিত প্রলয়ঙ্করী বন্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। স্থায়িত্ব ছিল ৩৩ দিন। এবারের বন্যার মূল কারণ ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা থেকে আসা পানি। চীন ও ভারতের আসাম হয়ে এই নদীটি বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম দিয়ে প্রবেশ করেছে। বন্যা বাংলাদেশে আঘাত হানে ২৬ জুন। একবারেই থেমে যায়নি। আগস্ট পর্যন্ত আঘাত হেনেছে মোট তিনবার। স্থায়িত্ব ৪৪ দিন।
এবারের বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে ৬৪টি জেলার প্রায় ৩৭টি জেলা। বাদ পড়েনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলও। সর্বমোট ১ হাজার ৩২৩ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ফসলের জমি তলিয়ে গেছে প্রায় ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৮ হেক্টর, যার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮১৪ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ৭২ হাজার ১৫১ জন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩২ হাজার ২১৩ হেক্টর জমির আউশ ধান, ৭০ হাজার ৮২০ হেক্টর জমির আমন ধান এবং ৭ হাজার ৯১৮ হেক্টর জমির আমন বীজতলা। টাকার হিসাবে ক্ষতি আউশ ধান ৩৩৪ কোটি, আমন ধান ৩৮০ কোটি টাকা, সবজি ২৩৫ কোটি, পাট ২১১ কোটি টাকা। তাছাড়া ৩৩৪টি ইউনিয়নের ২২০টি বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে যেন আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেজন্য বিভিন্ন প্রণোদনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার কৃষি উপকরণ ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩১ জন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এর আওতায় স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি বিভিন্ন শাকসবজি চাষের জন্য প্রায় ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫২ হাজার কৃষককে লালশাক, ডাঁটাশাক, পালংশাক, বরবটি, শিম, শশা, লাউবীজ ইত্যাদি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। কমিউনিটিভিত্তিক বীজতলার মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা, প্রায় ৭০ লাখ টাকার ভাসমান বেডে ও ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে রোপণের জন্য আমন ধানের চারা উৎপাদন, বীজতলা তৈরি ও বিনামূল্যে বিতরণ কাজ চলছে। আবার চারা, বীজ বিতরণের কাজও চলছে। পানির স্থায়িত্বের ভিত্তিতে কোনো কোনো জায়গায় ৭০ শতাংশ, আবার কোনো জায়গায় ২০ শতাংশ আমনের বীজ রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আমন চাষ সম্ভব না হলে ৫০ হাজার কৃষকের মাঝে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকায় ৩৫ জেলায় ৫০ হাজার কৃষকের মাঝে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকার মাষকলাই বীজ, ডিএপি ও এমওপি সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। আরও প্রায় ৭৫ কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচি প্রক্রিয়াধীন। এই অর্থ দিয়ে ৯ লাখ ২৯ হাজার ১৯৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক কৃষককে গম, সরিষা, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী, খেসারি, পিঁয়াজ, মরিচ, টমেটো ইত্যাদি ফসল আবাদের জন্য বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারিবারিক কৃষির আওতায় সবজি-পুষ্টি বাগান স্থাপন কর্মসূচির আওতায় ৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬৪ জেলায় মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৯২ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, চারা ও সার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, ২০২০-২১ অর্থবছরে ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপনে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় ১৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪ জেলায় ৪৯১টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৯৭টি ইউনিয়ন এবং ১৪০টি পৌরসভায় মোট ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৭০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, চারা ও সার সহায়তা প্রদান করা হবে।
এবারে বন্যায় ৩৮২ কোটি টাকার মৎস্যসম্পদের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষির সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬৬২ জন। এছাড়া ১৩ হাজার ২০১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের জলাভূমির মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎসচাষিদের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। পোনার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অতিরিক্ত মৎস্য বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পোনা ক্ষতিগ্রস্ত চাষি তথা খামারিদের মঝে বিতরণ করা হচ্ছে। চাষ করা মাছের সুরক্ষায় করণীয় সম্পর্কে মৎস্য চাষি, উদ্যোক্তা ও খামারিদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা করোনাকে তোয়াক্কা না করে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।
বসে নেই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারাও। দৌড়ে বেড়াচ্ছেন বন্যাদুর্গত এলাকার উপজেলা হতে ইউনিয়ন, ইউনিয়ন হতে বাড়ি বাড়ি পর্যন্ত। কারণ বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। এ-সময়ই গবাদি পশু-পাখির রোগব্যাধি দেখা দেওয়ার সময়। গবাদি পশু-পাখির রোগব্যাধি প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সরকারের রয়েছে কঠোর নির্দেশ। কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে দিচ্ছেন সেবা, পশুখাদ্য। পুনর্বাসনের জন্য সম্ভাব্য চেকলিস্ট তৈরি করা হচ্ছে। নেওয়া হবে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ। বন্যাকালীন সময়ে সরকার মোট ১৯ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করেছে প্রান্তিক পর্যায়ে। দিয়েছেন নগদ অর্থও। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য মেডিকেল টিমও কাজ করছে।
এছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত পশুখাদ্য খাতে বাজেট বাড়ানোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এছাড়াও রয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কন্ট্রোল রুম, যা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রাণিসম্পদ খাতের সর্বশেষ চিত্র এবং বন্যাকবলিত এলাকায় নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য প্রতিদিন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। যার আলোকে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সার্বিকভাবে বলতে পারি ত্রিমুখী আক্রমণÑ করোনা, আম্পান ও বন্যার পর কৃষিবান্ধব সরকার তথা কৃষিমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টায় ফিরে এসেছে মাঠ পর্যায়ে কর্মচঞ্চলতা।
কৃষি মন্ত্রণালয়সহ এর অধীন সকল দপ্তরসমূহ করোনা ঝুঁকির মধ্যেও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুশিয়ে নিতে অত্যন্ত সজাগ ও সক্রিয়। যে কোনো পরিস্থিতিতে কৃষিবান্ধব সরকার কৃষকের পাশে থেকে বাংলাদেশের কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। তাই বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আওয়ামী সরকার, তা সরেজমিনে না দেখলে বিশ্বাস করা দুষ্কর। সমন্বিত প্রচেষ্টায় আশা করা যাচ্ছেÑ বন্যা, করোনা, আম্পানের ত্রিফলার ক্ষয়ক্ষতি অত্যন্ত স্বার্থকভাবে কাটিয়ে ওঠা যাবে। সময় এসেছে বন্যার স্থায়ী সমাধানের। আলোচনায় উঠে এসেছে যে উজানের পানি অর্থাৎ বর্ষায় ভারতের আসাম ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা পানিই মূলত বাংলাদেশের বন্যার মূল কারণ। পিছনে ফিরে তাকালে দেখি, বন্যার পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ১৯৭২ সালে দুদেশে বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধীর সরকার মিলে যৌথ নদী কমিশন গঠন করেছিল। বাস্তবিক অর্থে বর্তমানে তা অকার্যকর। এ কমিশনকে কার্যকর করে বাংলাদেশের বন্যা ও বর্ষাকালীন পানির টেকসই ব্যবস্থা করা সম্ভব। আবার নদী শাসন করেও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কারণ খননের পর পলি পড়ে নদী ভরাট হয়ে যায়। তর্কের খাতিরে যা-ই বলি না কেন, বাস্তব সত্য হলোÑ বাংলাদেশে বন্যা না হলে এখানকার প্রাণ-প্রকৃতিকে বাঁচানো যাবে না। আমরা প্রতি বছর যে পরিমাণ পানি ভূগর্ভ থেকে তুলি, বন্যায় আসা পানির মাধ্যমে তা পূরণ হয়। আবার বন্যার সঙ্গে আসা পলি আমাদের মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। পুষ্টিরও বিন্যাস ঘটে বন্যার মাধ্যমে। বন্যার ফলে পলি মাটি পড়ে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। মাটিতে বসবাসকারী পোকামাকড়ের উপদ্রব হ্রাস পায়। ফসল ক্ষেতের রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ অপসারিত হয়। মুমূর্ষু মাটি আবার নতুন জীবন ফিরে পায়। এ-কারণে বন্যার পর ফসলের বাম্পার ফলন হয়। আমাদের এ-সুযোগটাই ষোলোআনা কাজে লাগিয়ে গেয়ে উঠতে হবেÑ ‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদেরই বসুন্ধরা…’

লেখক : শিক্ষক; পিএইচডি গবেষক, প্ল্যান্ট প্যাথলজি
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা
raziasultana.sau52@gmail.com

Leave a Reply