মধুমতীর চাঁদ

রেজা ঘটক: সীমান্তপুর গ্রামে ইজ্জৎ আলী চেয়ারম্যানের উঠানে, বিচার দেখতে উৎসুক জনতার মতো, গোধূলি না যেতেই উঁকি দিল শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী চাঁদ। পল্লী বিদ্যুৎ না পৌঁছালেও অমন ধবধবে জ্যোৎস্নায়, খোলা আকাশের তলায় মাটির বিছানায়, আসন নিতে কারও কোনো অসুবিধা হলো না। দু-একজনের সঙ্গে থাকা হ্যারিকেনের ঢিবঢিবানি আলোগুলোও যে যার মতো নিভিয়ে ফেলল। মৃদু শোরগোলের মধ্যে একমাত্র চেয়ারটিতে টানা পঁয়ত্রিশ বছরের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইজ্জৎ আলীও নিজের আসনে বসলেন। মুহূর্তে পাশের চারপায়া নড়বড়ে বেঞ্চিটা গায়েগায়ে ভরে গেল।
চাঁন্দু’র বাপ কই? ইজ্জৎ আলী’র স্বভাবসুলভ গলা। শোরগোলটা একটু থেমে আবার যেন বাড়ল। একবারে পেছনের সারি থেকে টুপি মাথায় গামছা গায়ে বকের মতো কুজো বয়স্ক যে লোকটি, বিলি কেটে কয়েক ধাপ সামনে গিয়ে বসতে উদ্যত, সেই কি চাঁন্দুর বাপ? উপস্থিত সবাই যে লোকটিকে অনেকদিন থেকে গভীরভাবে চেনে, নতুন করে আবার সবাই সেই লোকটিকে এক নজর দেখল। যেন ভীনগ্রহের কোনো রহস্যমানব শশীতলে পদার্পণ করতে গিয়ে ভুলবশত এইমাত্র স্বয়ং ভূ-পৃষ্ঠেই অবতরণ করল। কেউ কেউ বললÑ আরও সামনে যান। বেঞ্চিতে বসা টর্চলাইট হাতে গোঁফওয়ালা লোকটি এই ফাঁকে চেয়ারম্যান সাহেবের কানে কানে জরুরি কথাগুলো ফিসফিস করে বলল। পঞ্চান্ন বছর বয়সেও ইজ্জৎ আলী চেয়ারম্যানের ধৈর্যশক্তিটা মাশাল্লা ভালোই। কথা শেষ করে গোঁফ বাঁকিয়ে হাতের টর্চলাইটটা বাঁ-কাঁধে ঝুলিয়ে লোকটি আবার আগের মতো পেছনের বেঞ্চিতে গাদাগাদি করে বসল। চেয়ারম্যান সাহেব এবার কিছুটা ধমকের সুরে প্রশ্ন করলেনÑ চাঁন্দুরে ডাকো? ওপাশ থেকে ক্ষীণকণ্ঠে জবাব এলোÑ হেয় তো, বাড়িত নাইকা, ভাইগ্যা গ্যাছে।
শুনে সিংহের মতো গর্জন করে উঠলেন ইজ্জৎ আলী চেয়ারম্যান। কোথায় গ্যাছে? সবাই একদম চুপ। একটু আগের ঝিরঝির গুঞ্জনটাও যেন ভাষা হারিয়ে ক্ষণিকের জন্য নির্বাক হয়ে গেল। চেয়ারম্যান সাহেবের কলেজ পড়–য়া নাতনি লাইলীরে নিয়া দিনদুপুরে চাঁন্দু যে সবার চোখ ফাঁকি দিয়া সীমান্তপুর থাইকা ওভাবে পালাবেÑ তা কে জানতো? তাছাড়া ভালো ছাত্র হিসেবে চাঁন্দুর চারদিকে যে-রকম নাম-ডাক, তাতে কে জানতো সেই ছেলের বইয়ের চাইতেও অন্যকিছুর প্রতি অমন আসক্তি আছে? বরং তিন মাস হলো নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে, নানা-নানির অতি উৎসাহে, নানার প্রতিষ্ঠিত কলেজে লাইলীর ওভাবে ভর্তি হওয়াতে মাস্টাররা পর্যন্ত চমকে গিয়েছিলেন।
অনেকটা শান্ত লক্ষ্মী মেয়ে লাইলী। অনেকটা অপরিচিত চাঁন্দুর সাথে এত অল্পসময়ে কী করে তেপান্তর হবার মতো ভাব হইলো, সেইটাই সবার কাছে এখন একটা বিশাল রহস্য। নীরবতা ভাঙল ঠকঠক করে হেঁটে আসা একজোড়া খড়ম। খড়মের উৎস যে, সীমান্তপুর গ্রামের গত পঁচিশ বছরের মেহবান, রোগ ব্যাধির দুর্যোগকালে বিনা ফিতে রোগী দেখা, সারাক্ষণ নির্লিপ্ত থাকা জানু কবিরাজ, সে-বিষয়ে কারোরই সন্দেহ নেই।
অমন খড়ম দশ গাঁয়ে আর কারও থাকলে তো? একেবারে চাঁন্দুর বাপ যেখানটায় বসা, তার পাশে গিয়ে কবিরাজ নীরবে দাঁড়ায়। কেউ একজন একটা টুল এনে দেয় তাকে বসতে। বসার সুযোগ পেয়েই সবচেয়ে কম কথা বলায় অভ্যস্ত এতদিনের পরিচিত জানু কবিরাজের মুখে আজ কোথা থেকে এলো খৈয়ের মতো এত শব্দ? বাক্যের পর বাক্য? নির্মেদ সত্য সব বুলি, ঢেউয়ের পর ঢেউ তুলে একদম বাক্যের বন্যা! বিচার চাই, চেয়ারম্যান ছাব। আমার নিরুদ্দেশ বেটির সন্ধান চাই।
কীসের মধ্যে কী, পান্তা ভাতে ঘি। কেউ কেউ এই সুযোগে আবার ফিসফিস করে উঠল। একটা অজানা এবং রহস্যময় বাক্যালাপ উপস্থিত সকলকে যেন কিছুটা ব্যস্ত করে তুলল। জানু কবিরাজ চিরকুমার। যাযাবর। সুন্দরবনের কাছাকাছি এখন যেখানে মোংলা বন্দর, তার ওপারে বাজুয়া বাজারের কাছে জানু কবিরাজের পূর্ব পুরুষদের বাস। এমনটি শুনেছে সবাই। গ্রাম-শহর-নগর-বন্দরে ছিন্নমূল মানুষের মতো ঘুরেঘুরে কবিরাজি বিদ্যায় হাত পাকিয়ে বাকেরগঞ্জ থেকে কলকাতা পর্যন্ত সুনাম যার, সেই জানু কবিরাজের একটি কন্যা আছে, যে কি না আবার নিরুদ্দেশ, কী কারণে নিরুদ্দেশ, কাদের বিচার চায়-কবিরাজ? জানু কবিরাজকে অমন ক্ষুব্ধ আর উত্তেজিত হতে আগে কেউ কখনও দেখেছে?
ইজ্জৎ আলী চেয়ারম্যান জানু কবিরাজকে বন্ধুর মতো ভালোবাসে। নিজেই উদ্যোগী হয়ে পুরানবাড়ির কাচারি ঘরে কবিরাজকে স্থায়ীভাবে থাকার বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন।
কোনো বিষয়ে কখনও কোনো পরামর্শ লাগলে কবিরাজই বলতে গেলে গত দুই যুগ ধইরা চেয়ারম্যানের একমাত্র ভরসা। সেই কবিরাজ আজ কেন অমন রুদ্রভাবে ফুঁসে উঠল? Ñ এমন একটা ভাবনা ইজ্জৎ আলী চেয়ারম্যানকেও কিছুক্ষণের জন্য পেয়ে বসে। তবে কি করিরাজ হিমাদ্রী বাবুর হারিয়ে যাওয়া সেই মেয়ের কথাই বলছে আবার? সে গল্প তো কবিরাজ হাজারবার শুনিয়েছে। যুদ্ধের সময়কার সেই রাতের গল্প। সেই গল্পের সাথে চাঁন্দু-লাইলীর উধাও হওয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়? ইজ্জৎ আলী চেয়ারম্যান চিন্তা করেও কবিরাজের বিচার চাওয়ার প্রসঙ্গে কূলকিনারা পায় না।
তাছাড়া জানু কবিরাজের মুখে ‘হিমাদ্রী শেখর মাস্টারের মেয়ে’ হারানোর গল্পটা যতবারই সে শুনেছেÑ ততবারই ঘটনার সঙ্গে মাত্র একজন লোকেরই নাম বলেছে কবিরাজ। অম্বরেশ বাবু। সেই রাতে অম্বরেশ বাবুর দোকানে তারা দুজন জানু কবিরাজ আর তপু; জলপানের সঙ্গে কিছু নাস্তাও খেয়েছিলেন। তারপুর তারা পায়ে হেঁটে খেয়াঘাট পর্যন্ত যায়।
মধুমতীর ওপারেই সাঁচিয়া বাজারের কাছে হিমাদ্রী বাবুর শ্বশুরবাড়ি। তপু কবিরাজকে নিয়ে মামাবাড়িতে রাতটুকু থেকে পরদিনই বাবা হিমাদ্রী শেখরের চিতা দর্শনে যাবে। কলকাতায় বিয়ে হবার পর ওই রাতে কবিরাজের সঙ্গেই সে প্রথম জন্মস্থানে ফিরছিল। উদ্দেশ্যটি পরিষ্কারÑ বাবার চিতা দর্শন। আর ওরকম মহৎ একটা কাজে জানু কবিরাজই যে তপুকে সন্তান স্নেহের মতো যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেÑ তা যে কেউই বিশ্বাস করবে। কিন্তু সেই রাতে তপুর অমন অলৌকিকভাবে মধুমতীতে নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনায় কবিরাজ তো আজকের মতো কখনও উত্তেজিত হয় না। রহস্যটা কোথায়? জ্যোৎস্নার কোমল আলোতেও ইজ্জৎ আলী চেয়ারম্যানের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম চিকচিক করে ওঠে।
ঘটনার আকস্মিকতায় চাঁন্দু-লাইলীর পালিয়ে যাওয়া ঘটনার প্রেক্ষিতে আয়োজিত বিচারে উপস্থিত সবার মুখে যেন খিল পরে। জানু কবিরাজ দু-যুগ আগে ঘটে যাওয়া একটা দুর্ঘটনার, আজ কেন চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে বিচার চাইছেÑ সেই জিজ্ঞাসাও জাগে অনেকের মনে। না-কি জানু কবিরাজ পাগল হইয়া গেল! পাগলামো কইরো না, কবিরাজ। আইজ আমার দুঃখ্যের শ্যাষ নাই। আমার লাইলী কি না চাঁন্দুর মতো পোলার হাত ধইরা পালাইছে, তুমি ভাবতে পারো কবিরাজ? আহন দশ গ্যারামের সক্কলে জানেÑ আমি ক্যামুন কেলেঙ্কারিতে পরছি। এইসবের মইধ্যে তুমি মাস্টারের মাইয়ার কথা তুলতে পারলা, কবিরাজ? Ñ চেয়ারম্যানের গলায় কিছুটা বিনয়ের সুর।
পাগলামো কে করতাছে চেয়ারম্যান? আমি? না তুমি? না-কি তোমরা? আগের ঘটনার আগে বিচার হইরো? না-কি পরের ঘটনার আগে? কোনোটার আগে বিচার হওয়া উচিত চেয়ারম্যান? জানু কবিরাজ প্রশ্নের লহর ছুটায়ে দেয়। কালিদাশকে আমি কি জবাব দেব? কোথায় তার সোনাচাঁন বউ? কৃষ্ণরে আমি কীভাবে বুঝাবোÑ কোথায় তার প্রাণের মা? মাস্টারকে আমি ক্যামনে কমু, কোথায় তার প্রাণের বেটি তপু? কবিরাজকে শান্ত করতে ইজ্জৎ আলী চেয়ারম্যান ধীবে ধীরে সেয়ানা উকিলদের মতো কিছু তাজ্জব প্রশ্ন করে কবিরাজকে। অম্বরেশ ছাড়া আর কোনো সাক্ষী আছে তোমার?
সাক্ষী। কীসের সাক্ষী? চাঁন-সুরুজ সাক্ষী। মধুমতী সাক্ষী। কাদের মাঝি সাক্ষী। সাক্ষী রামগোপাল। সাক্ষী কালিদাশ। তপুর তখনকার শিশু ছেলে কৃষ্ণ সাক্ষী। আর কত সাক্ষী লাগবে তোমার চেয়ারম্যান? কলকাতা থেকে বনগাঁ পর্যন্ত সেই পথে বাসে যারা আমাদের সঙ্গে ছিল, তারা সাক্ষী। রামগোপালের পেছন পেছন বর্ডার পার হবার সময়কার সেই ভোরের কুয়াশা সাক্ষী। সাক্ষী মেঠো সেই পথ। বেনাপোল থাইকা বাগেরহাট পর্যন্ত কয়েক দফায় কত লোক যারা সেই দিন আমাদের সাথে গাড়িতে ছিল, তারা সাক্ষী। বাগেরহাট থাইকা খাসেরহাট পর্যন্ত কাদের মাঝির নৌকায় আসার পথে যারা আমাদের দ্যাখছে, তারা সবাই সাক্ষী। সেই রাতে অম্বরেশের দোকানে যারা উপস্থিত ছিল। তারা সবাই সাক্ষী। মধুমতীর কূল সাক্ষী। আর ওই যে চাঁদ, সেই দিনও সে-ছিল আজকার মতো নীরব সাক্ষী। আর কত সাক্ষী লাগবে তোমার, চেয়ারম্যান? কালবোশেখী মেঘের গর্জনের মতো চেয়ারম্যানের ওপর জানু কবিরাজ খেঁকিয়ে ওঠে।
Ñ খেয়ার কাউকে কি তুমি চিনতে পারছিলা? চেয়ারম্যান পাল্টা প্রশ্ন করেন।
Ñ আমরা খেয়ায় উঠে বসি। জোয়ারের উজান থাকায় কিছুদূর ওরা কূল বরাবর খেয়া চালায়। তারপর হঠাৎ ওরা আমাকে চ্যাংদোলা কইরা ছুইরা মারে মধুমতিতে। আমি জলের ওপর ভাইসা উঠতেই সেকি বৈঠার মার। তারপর আমি কখন কীভাবে কূলে আসলাম, কীভাবে আমার জ্ঞান ফিরল, কীভাবে ই-বা আমি বাঁচলাম, সব ওপরওয়ালা জানে। ফুটো কলসিতে পানি রাখলে যেমন হয় তেমনি ঝরঝর করে পানি পড়তে থাকে কবিরাজের চোখ থেকে। চাঁদের আলোয় সে আঁসুর প্রভাবে উপস্থিত অনেকের চোখও ছলছল করে ওঠে।
শান্ত হও কবিরাজ। চেয়ারম্যান বিনীত অনুরোধ করেন। কিন্তু কবিরাজ থামে না। মাস্টারের স্কুল আছে। ঘরে বউ আছে। কিন্তু একটা বাচ্চা নাই। এক রাইতে মাস্টার আমার হাত ধইরা জোর অনুরোধ করলÑ কবিরাজ, আমার সব আছে, শুধু সংসারে সুখ নাই। সবিতারে আমি একটা বাচ্চা দিতে পারলাম না। এই দুঃখ আমি কারে কই?
তারপর আমি কবিরাজির পথে নামলাম। বছর ঘুরতেই তপু হইল। আমার তপু বড় দুঃখিনী মেয়ে। জন্মের তিন বছরের মধ্যে মা হারাইলো। স্কুল আর ঘর লইয়া বড় হইল তপু। মাস্টার আবারও আমারে ডাকলোÑ এবার কন্যারে সৎপাত্রে দান কর, কবিরাজ। তুমি দেশ-দেশান্তরে ঘোরো, তপুমার জন্য ভালো পাত্র তুমিই খুঁইজা পাইবা। আমার তখন বাকেরগঞ্জ থেকে কলকাতা পর্যন্ত রোগী দেখার ব্যস্ততা। তার মধ্যে ছেলে খুঁইজা বেড়ানো। অবশেষে কালিদাশের সাথে তপুর বিয়ের ব্যবস্থা, সব ঘটনা তো তোমার জানা, চেয়ারম্যান।
একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে কবিরাজ। কিন্তু তপু আমার বড় দুর্ভাগা মেয়ে। ঘরে নিজের সন্তান আইল। আর এপার বঙ্গে বাপটা গেল চিতায়। খবরটা পর্যন্ত পাইল তিন মাস পর আমার থাইকা। কালিদাশ ওরে খুব বুঝাইলÑ কৃষ্ণ একটু বড় হোউক, তারপর যেও। তাছাড়া বাবার চিতা দেরিতে দেখেও কি কষ্ট ভুলতে পারবা? আমিও তপুরে অনেক বোঝাইলাম। আবার আইলে আমিই তোরে নিয়া যামু। ততদিনে দ্যাশে যুদ্ধ লাইগা গ্যাছে। আমি যুদ্ধে যাবার পরিকল্পনা করলাম। মেদিনীপুর ট্রেনিং করলাম টানা এক মাস। যুদ্ধ করতে দ্যাশে ঢুকুম। মনে মনে ইচ্ছে জাগল মা তপুরে একবার দেইখা যাই। সেই যাওয়ায় তপু আমার সঙ্গ নিল।
এইপার থাইকা সবাই যখন ভিটেমাটি ছাইড়া ওইপার যাচ্ছে, তপু তখন নিজের সন্তানরে স্বামীর কাছে রাইখা বাবার চিতা দ্যাখতে আমার সঙ্গী হইলো। উল্টামুখী যাত্রা। রামগোপাল দিন শুরু হওয়ার আগেই আমাদের বর্ডার পার কইরা দিল। তারপর একটা যুদ্ধের মইদ্যে বেনাপোল থাইকা অম্বরেশের দোকান পর্যন্ত কত যে সতর্কতা, চেয়ারম্যান। আর তারপর মধুমতীতে আইসাই কি না সব শ্যাষ। আমি কি এই দ্যাখতি চাইছিলাম? চেয়ারম্যান, তুমি কও?
ইজ্জৎ আলী চেয়ারম্যান এ পর্যায়ে উঠে গিয়ে আবারও কবিরাজকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু জানু কবিরাজের চোখে তখন যে ক্ষোভাশ্রু, তা নিবারণ করবে কে? আইজ আমারে কইতে দাও, চেয়ারম্যান। আইজ তুমি কীসের বিচার করবা? কার বিচার করবা? কার কার বিচার করবা? দ্যাশ স্বাধীন করলাম। তোমরা জনগণের প্রতিনিধি হইলা। বঙ্গবন্ধুরে মাইরা ফেলাইলা। তার বিচার করতে পারছো তোমরা? আইজ কীসের বিচার করবা? কোনো বিচারটা আগে করবা? ওই মধুমতীরে আমি আর দুই চক্ষে দ্যাখতে পারি না। ওই চাঁন্দের দিকে আমি আর চাইতে পারি না। আমার বিচার কে করবে, চেয়ারম্যান?
বলতে বলতে ইজ্জৎ আলী চেয়ারম্যানের হাতের ওপর মূর্ছা যায় জানু কবিরাজ। ততক্ষণে উঠান-ভর্তি জনতার শোরগোলটা আবারও উথলে ওঠে। চুপিচুপি চাঁদ তখন নীরবে বলে ওঠেÑ দ্য নাইট ইজ স্টিল সো ইয়াং, পিপল। সে-কথা সেই হই হট্টগোলের মধ্যে কেউ কি শুনতে পায়?

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply