উত্তরণ-এর দশম বর্ষ

Spread the love

সম্পাদকের কথা: দশম বর্ষ পেরিয়ে মাসিক ‘উত্তরণ’ একাদশ বর্ষে পা দিতে চলেছে। আমরা শ্লাঘার সাথে বলতে পারি, বিরতিবিহীন এই ১০ বছর পথ চলা, যে কোনো সাময়িক পত্রিকার জন্য গৌরবের বিষয়। আমার জানামতে, অতীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একাধিক সাপ্তাহিক/মাসিক সাময়িকী প্রকাশ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এর সবগুলোই ছিল স্বল্পায়ু। জনপ্রিয় দৈনিক প্রকাশে আওয়ামী লীগের বিশেষত শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগ ছিল। কিন্তু শেষাবধি সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মুখপত্র ছিল না। তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার জীবিতাবস্থা পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেফাক কার্যত অনানুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকেই ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে। এরপর একাধিক দৈনিক/সাপ্তাহিক প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে আওয়ামী লীগ সেই অবদানের কথা উচ্চ মূল্যায়ন করে। কিন্তু ‘উত্তরণ’ কোনো ব্যক্তি উদ্যোগে নয়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রেরণায় এবং প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের সহযোগিতায় ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উত্তরণ’-এর প্রথম সংখ্যার প্রকাশ উন্মোচন করেন।
আজকের এই দিনে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ‘উত্তরণ’-এর পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি প্রয়াত জননেতা সৈয়দ আশরাফের পবিত্র স্মৃতি।
এক বা একাধিক ব্যক্তি উদ্যোগ নিতে পারে। কিন্তু সংবাদপত্র/সংবাদ সাময়িকী কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে নিয়মিত প্রকাশ সম্ভব নয়। এই কাজটি একটি যৌথ বা Collective উদ্যোগের পক্ষেই সফল করা সম্ভব। আমরা যারা ‘উত্তরণ’ প্রকাশে কাজ করছি, দু-একজন ছাড়া এখানে কারোই খুব পেশাদারিত্বের অভিজ্ঞতা ছিল না। বস্তুত, দেশ ও দলের প্রতি আমাদের আনুগত্য এবং আবেগ এই পত্রিকাটি প্রকাশে উদ্বুদ্ধ করেছে। প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে আমি যেমন কোনো পারিশ্রমিক বা সম্মানি নিচ্ছি না, তেমনি ‘উত্তরণ’ সম্পাদকম-লীর দু-একজন ছাড়া সবাই স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে পত্রিকাটিকে চালু রেখেছে। আমি ‘উত্তরণ’ টিমের সদস্যদের আত্মত্যাগ এবং অবদানের কথা দশম বছর পূর্তিতে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। আমি ‘উত্তরণ’-এর সম্পাদকম-লী, বার্তা সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, কর্মাধ্যক্ষ ও অফিস স্টাফদের সবাইকে এই দিনে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি।
আমরা এ-বিষয়ে সচেতন যে টানা ১০ বছর ‘উত্তরণ’ প্রকাশিত হলেও, পত্রিকাটি পাঠকের এবং দলীয় কর্মীদের আশা-আকাক্সক্ষা কতটা পূরণ করতে পেরেছে তার ওপর নির্ভর পত্রিকাটির সাফল্য। প্রথমে পত্রিকাটি ট্যাবলয়েড আকারে প্রকাশিত হতো। তখন ‘উত্তরণ’ খুব পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। দুই বছর পর, ২০১২ সাল থেকে ‘উত্তরণ’ বর্তমান ম্যাগাজিন আকারে প্রকাশিত হতে শুরু করে। আমরা চেষ্টা করি পত্রিকাটি আরও আকর্ষণীয় করতে। আমরা এই দাবি করব না যে, ‘উত্তরণ’ বাংলাদেশের সাময়িকীগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মান অর্জন করেছে। তবে দ্বিধাহীনচিত্তে দাবি করি, বাংলাদেশের যে কোনো রাজনৈতিক দলের পলিটিক্যাল জার্নালের মধ্যে ‘উত্তরণ’ সেরা। ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ‘উত্তরণ’ তার স্থান করে নিতে সক্ষম হচ্ছে।
তবে আমাদের সীমাবদ্ধতা এখনও কাটেনি। আমরা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ‘উত্তরণ’ পৌঁছাতে পারছি না। এক্ষেত্রে দুটি সমস্যা, প্রথমত; প্রকাশনার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং দ্বিতীয়ত; বিতরণ ব্যবস্থার জন্য আর্থিক সংগতির অভাব। দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষত উপজেলা পর্যায়ে কোনো কোনো সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতা নিয়মিত ‘উত্তরণ’ নিচ্ছেন। আমরা আশা করব, আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা দূর করা এবং পত্রিকাটিকে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয় করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। দশম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আমরা ‘উত্তরণ’-এর সকল পাঠককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
আমরা বিশেষত ‘উত্তরণ’-এ যেসব প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন দিয়ে সহায়তা করছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিজ্ঞাপনদাতাদের আন্তরিক সহযোগিতার জন্যই ‘উত্তরণ’ নিয়মিত প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, প্রগতিশীল শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকারের নেতৃবৃন্দকে ‘উত্তরণ’-এ বিজ্ঞাপন দিয়ে সাহায্য করার জন্য সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি। ‘উত্তরণ’কে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য আমরা পাঠকদের পরামর্শ ও সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছি।
‘উত্তরণ’র ১০ বছরের নির্বাচিত প্রবন্ধ, প্রতিবেদন, গল্প, কবিতা নিয়ে আমরা আগামী জানুয়ারিতে একটি স্বতন্ত্র সংখ্যা প্রকাশ করতে যাচ্ছি। এ সংখ্যাটি পেতে হলে আগেই বুকিং করুন। সংখ্যাটি ‘সৌজন্য’ হিসেবে বিতরণ করা সম্ভব হবে না। মূল্যমান আমরা ডিসেম্বর সংখ্যায় জানিয়ে দেব। এই বিশেষ সংখ্যায় বিশেষ বিজ্ঞাপন দিয়ে সাহায্য করার জন্যও আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। বিজ্ঞাপন ছাড়াও অর্থ সাহায্য দিতে পারেন। আমরা ‘উত্তরণ’-এর নিম্নলিখিত ব্যাংক হিসাবে নগদ সাহায্য গ্রহণ করব এবং সকল সাহায্যদাতার নাম ‘উত্তরণ’-এ প্রকাশ করব।
মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে উত্তরণের জন্য এবং জাতির পিতার স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য মাসিক ‘উত্তরণ’ জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত করাই হবে একাদশ বর্ষে পদার্পণে ‘উত্তরণ’-এর অঙ্গীকার।

নূহ-উল-আলম লেনিন
উত্তরণ-এর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
প্রকাশক, উত্তরণ
হিসাব নং : ০০০০১০০১৪৫৯৫৩
সোনালী ব্যাংক লিমিটেড
গ্রিন রোড শাখা, ঢাকা

Leave a Reply