পিঁয়াজের ঝাঁজ

Spread the love

রাজিয়া সুলতানা: ভোজনরসিক বাঙালি হিসেবে আমাদের সুপরিচিতি। বাঙালি খাদ্য তালিকায় যে উপাদানটি হলে ভালো, না হলেও তেমন অসুবিধা নেই। কেউ কি বলবেন উপাদানটির নাম কী? এটিকে কেউ মসলা, কেউবা সবজি হিসেবেও ট্রিট করেন। আবার কারও কাছে ওই উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম। বলছিÑ পিঁয়াজের কথা। রান্নায় মসলা কিংবা সালাদ হিসেবে পিঁয়াজের জুড়ি নেই। আর সারাবিশ্বেই এই ঝাঁজালো উপাদানটি সমভাবেই ব্যবহৃত হয়। পিঁয়াজ খাদ্যদ্রব্যের স্বাদ বাড়াতে অদ্বিতীয় একটি উপাদান। এর রয়েছে বহুবিদ পুষ্টিগুণ। শুধু কী তাইÑ এর ঔষধি গুণেরও কমতি নেই। এই পিঁয়াজ নিয়ে বাংলাদেশে কম চড়াই-উৎরাই হয়নি। কারণে-অকারণে এক শ্রেণির অসাধু কারবারির জন্য পিঁয়াজের বাজার অযথাই অস্থির হয়ে ওঠে, যা সরকারের কাছে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বর্তমান সরকার এই সংকট মোকাবিলা করতেই পিঁয়াজ উৎপাদন এবং সংরক্ষণের ওপর ব্যাপক জোর দিয়েছেন।
যত সমস্যা তত বেশি সমাধানের উপায়ও। গত দুই বছর ধরে পিঁয়াজের ঝাঁজটা যে বেশিই যাচ্ছে; তা আর নিম্নমুখী হচ্ছেই না। পিছনে ফিরলে ২০১৩ সালেও কম যায়নি। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আগে ছিল অপ্রতুলতার সংকট। এখন কোথায় কোনো অশুভ সমস্যার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একটি সিন্ডিকেট কারসাজি জড়িত এর নেপথ্যে। তাই সরকার স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছে। পাশাপাশি উৎপাদন, বিপণন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কারণ বলা নেই কওয়া নেই, সময়-অসময়ে পিঁয়াজের দাম আকাশ পানে ছুটে চলে। কারসাজিরা হুজুগে বাঙালির মনোভাব ঠিকঠাক পড়তে পারে বলেই এটা করতে পারে। তাতে পার্শ্ববর্তী দেশের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে ভুল করে না। ফলে পিঁয়াজের ঝাঁজ থাকছেই। জনগণও থাকছে পিঁয়াজ আতঙ্কে। জনগণের এমনিতে করোনার মহামারিতে নাভিশ্বাস উঠছে। তার ওপর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি। নেই কাজ, কল-কারখানা বন্ধ। অনেক প্রতিষ্ঠানও বিপুল পরিমাণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাঁটাই করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও করে দিয়েছে। যারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে; তারাও বেতনের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের জনগণবান্ধব সরকার যেভাবেই হোক সমস্যা উতরানোর দৃঢ় প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সফলও হয়েছে। কিন্তু সরকার চাচ্ছে স্থায়ী সমাধান।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে দেশে পিঁয়াজ উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ফারাক মাত্র ৩ লাখ টন। দেশে প্রতি বছর পেঁয়াজের চাহিদা ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন। আর এ-বছর দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ১৯ লাখ মেট্রিক টন। অন্যদিকে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ বছরে ১৭ থেকে ১৯ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন করে, যা কি না পেঁয়াজের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ। চাহিদার বাকি ৪০ শতাংশ অথবা ৭ থেকে ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। তবে বিস্ময়কর সংবাদ হচ্ছে, উৎপাদিত ৩০-৩৫ শতাংশ পিঁয়াজ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ প্রায় ৮ লাখ টন পিঁয়াজ পচে যাচ্ছে। এই ৮-১০ লাখ টন পিঁয়াজই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সুতরাং সঠিকভাবে আমরা যদি পিঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারি। কিংবা এই পরিমাণ পিঁয়াজ উৎপাদন করতে পারি, তাহলে আর আমাদের বিদেশ হতে পিঁয়াজ আমদানি করতে হবে না। বাংলাদেশ মূলত পিঁয়াজ আমদানি করে ভারত, মিয়ানমার, মিশর, চীন ও তুরস্ক থেকে। ইরানও বাংলাদেশে পিঁয়াজ রপ্তানি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমদানিকৃত পিঁয়াজের ৯৫ শতাংশই আসে ভারত থেকে। ২০১৯ ও ২০২০ পরপর দু-বছরই পিঁয়াজ নিয়ে বাজারে যে টালমাটাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, তার মূল হোতা আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত। বিনা ঘোষণায় ভারত সরকার হঠাৎ করে পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। ভারতে অতি বৃষ্টির ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। দেশের চাহিদা মেটাতেই তারা অযৌক্তিক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যার ভয়ানক জাঁতাকলে পড়েছিল বাংলাদেশ।
পিঁয়াজের উৎপত্তিস্থল পশ্চিম এশিয়া হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, মিশর ও স্পেন বিশ্বের প্রধান ৪টি পেঁয়াজ উৎপাদনকারী দেশ। তবে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পিঁয়াজ উৎপাদিত হয় ভারত এবং চীনে। বাংলাদেশও এগিয়ে চলছে। চার বছর আগেই জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের পিঁয়াজ উৎপাদনকারী শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায়। চলতি বছরে বাংলাদেশ উৎপাদনের দিক থেকে অষ্টম। পিঁয়াজ মূলত শীতকালীন ফসল। পচনশীল। উৎপাদিত পিঁয়াজ দিয়েই চলতে হয় সারাবছর। সংকট থাকছে আরেকটিÑ নেই সঠিক সংরক্ষণের ব্যবস্থা। ফলে কৃষকের ঘরেই পচে যাচ্ছে অনেক পিঁয়াজ। আর চরম সত্যি কথা হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী পিঁয়াজের সব ঝাঁজ হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে কৃষক পাচ্ছে না তার ন্যায্য দাম। পিঁয়াজের বাজার সিন্ডিকেটের দখলে। সবচেয়ে বড় সমস্যা এখানেই। তারাই পিঁয়াজের ভর মৌসুমেও করছে আমদানি। এটা তাদের এক দুরভিসন্ধি।
পিঁয়াজ বাংলাদেশের একটি অর্থকরী মসলা ফসল। দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই পিঁয়াজের চাষ হয়। ভালো হয় সমগ্র উত্তরবঙ্গে, কুষ্টিয়া, যশোর ও ফরিদপুর অঞ্চলে। এলাকাভেদে বিভিন্ন স্থানীয় জাতের মধ্যে তাহেরপুরী, ফরিদপুর ভাতি, ঝিটকা, কৈলাসনগর উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মসলা গবেষণা কেন্দ্র হতে বারি পেঁয়াজ-১ (শীতকালীন), বারি পেঁয়াজ-২ (গ্রীষ্মকালীন), বারি পেঁয়াজ-৩ (গ্রীষ্মকালীন), বারি পেঁয়াজ-৪ (শীতকালীন), বারি পেঁয়াজ-৫ (গ্রীষ্মকালীন) ও বারি পেঁয়াজ-৬ (শীতকালীন) নামে ৬টি জাত অবমুক্ত করেছে।
পিঁয়াজ মূলত শীতকালীন ফসল। ৯০ শতাংশই আসে শীতকালীন উৎপাদন থেকে। গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজের উৎপাদনও ধীরে ধীরে বাড়ছে। পিঁয়াজ উৎপাদনে সময় লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন মাস। সাধারণতভাবে হেক্টর প্রতি ১২-১৬ টন পিঁয়াজ উৎপাদিত হয়। তবে গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজ (বারি পেঁয়াজ-২ ও ৩) হেক্টরপ্রতি ১০-১৩ টনের বেশি হয় না। এটা সত্যি বাংলাদেশে এখনও পিঁয়াজের বৈশ্বিক গড় উৎপাদন হারের চেয়ে বেশ পিছিয়ে। বিশ্বে গড় উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ১৮ টন। নতুন অবমুক্ত বারি পিঁয়াজ-৬ হেক্টরপ্রতি ১৮ টনের বেশি ফলনে সক্ষম। করোনাভাইরাসকালেও কৃষকরা ঝুঁকি নিয়ে এই উচ্চ ফলনশীল জাত উৎপাদন করে ব্যাপক সুবিধা পেয়েছে। এই বছর ২০.১৮ লাখ মেট্রিক টন থেকে ১৭.৯৬ শতাংশ বেড়ে ২৩.৮১ লাখ মেট্রিক টন পিঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। ফলে এই সময়ে পিঁয়াজ নিয়ে হাহাকার নেই। তবে সিন্ডিকেটের কারণে পিঁয়াজের বাজারের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে ৮০ শতাংশ পিঁয়াজই সংরক্ষণ করা হয় দেশীয় পদ্ধতিতে। তবে দেশীয় পদ্ধতিতে সাধারণত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় পিঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা কঠিন। তাই পিঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা করতে পারলে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। আশার কথা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ দেশীয় পদ্ধতিতে পিঁয়াজ সংরক্ষণের কয়েকটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এ পদ্ধতি সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করে পিঁয়াজের সংরক্ষণকালীন অপচয় অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।
সঠিকভাবে পিঁয়াজ সংরক্ষণ পদ্ধতি খুব জটিল বিষয় নয়। সাধারণত সংরক্ষণের জন্য কম আর্দ্রতাবিশিষ্ট, বেশি ঝাঁজালো (তাহেরপুরী, ঝিটকা জাত), উজ্জ্বল ত্বক এবং বেশিসংখ্যক ত্বক বিশিষ্ট জাতের পিঁয়াজ নির্বাচন করতে হবে। চাষের জন্য রোগ ও ক্রটিমুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে। খেতে অতিমাত্রায় সেচ দেওয়া যাবে না। খেতে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া দেওয়া যাবে না। গাছের পুষ্টতা এসে গেলে পিঁয়াজের ডগা অর্থাৎ গলার দিকের ‘টিস্যু’ নরম হয়ে যায়। ফলে পাতা হেলে পড়ে। ৭০-৮০ শতাংশ গাছের পাতা এভাবে নিজে নিজেই ভেঙে গেলে পিঁয়াজ সংগ্রহের উপযুক্ত সময় হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। পিঁয়াজ সংগ্রহের সময় খেয়াল রাখতে হবে; যাতে গায়ে ক্ষতের সৃষ্টি না হয়। পিঁয়াজ সংগ্রহের পর পাঁচ-সাত দিন ঘরে ১০-১২ সেন্টিমিটার পুরু করে বায়ু চলাচল সুবিধাযুক্ত, শীতল ও ছায়া-সুশীতল স্থানে শুকিয়ে নিতে হয়। সংরক্ষণের পূর্বে পিঁয়াজ কাটাছেঁড়া, পচা, ছোট-বড়, দোডালা ইত্যাদি অনুযায়ী গ্রেডিং করে নিতে হবে। পিঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণস্থল ও মাচার প্রকৃতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাঁশের পাতলা চটা (বেতি), সুতলি দিয়ে গেঁথে তৈরি ‘বানা’-এর ওপর পিঁয়াজ সংরক্ষণ করাই উত্তম। ঘরের সিলিংয়ে বাঁশের মাচা তৈরি করে তার ওপর বানা বিছিয়ে পিঁয়াজ রাখতে হবে। বিভিন্ন শ্রেণির পিঁয়াজ আলাদা আলাদা জায়গায় সংরক্ষণ করা উচিত। টিনের ঘরের সিলিংয়ে পিঁয়াজ রাখলে; তা ২০-২৫ সেন্টিমিটার পুরু করে রাখা যাবে। খড়ের বা টালির সিলিংয়ে পিঁয়াজ ১৫-২০ সেন্টিমিটারের বেশি পুরু করে না রাখাই ভালো। মেঝের ২ ফুট উপরে তৈরি মাচায় রাখার চেয়ে সিলিংয়ে পিঁয়াজ রাখাই উত্তম। কারণ প্রথমোক্ত স্থানের চারদিকে সাধারণত বায়ু চলাচল কম থাকে। যদি মেঝের ২ ফুট উপরে নির্মিত মাচায় পিঁয়াজ রাখতেই হয়, তবে তা ১০-১৫ সেন্টিমিটারের বেশি পুরু করে না রাখাই ভালো। মাঝে মাঝে সংরক্ষিত পিঁয়াজ নাড়া দিতে হবে এবং পচা পিঁয়াজ বাছাই করতে হবে। বৃষ্টির দিনে বিশেষভাবে পিঁয়াজের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এ-সময় বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় পিঁয়াজ শুকায় না, ফলে পিঁয়াজ পচতে শুরু করে। এ অবস্থায় প্রয়োজনে পিঁয়াজ মাচা থেকে নামিয়ে ছায়ামুক্ত স্থানে পাতলা করে বিছিয়ে শুকিয়ে নিয়ে মাচায় উঠাতে হবে। উপরিউক্ত নিয়মে পিঁয়াজে সংরক্ষণ করা গেলে পিঁয়াজে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগোবে। সরকার পক্ষ থেকে পিঁয়াজ চাষিদের বীজ, উপকরণ, প্রযুক্তিসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে; তা নিরবচ্ছিন্নভাবে দীর্ঘমেয়াদি করতে হবে। আর প্রান্তিক পর্যায়েও নিশ্চিত করতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলিষ্ঠ নির্দেশনা দিয়েছেনÑ নির্বিঘেœ কৃষক পর্যায়ে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ বিতরণ করতে হবে। কৃষি উপকরণ নিয়ে দেশে হাহাকার নেই, সংকট নেই। নেই সার ও বীজ নিয়ে সমস্যা। ‘কৃষক বাঁচাও’ নীতিতে বিশ্বাসী আমাদের কৃষিবান্ধব সরকার দেশীয় পিঁয়াজ চাষিদের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, পিঁয়াজ চাষে উৎসাহ প্রদান এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসের লক্ষ্যে পিঁয়াজ আমদানিতে চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্কারোপ করেছিল। তবে সরকার বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ২০২১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পিঁয়াজ আমদানিতে আরোপিত ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি অশুভ চক্রের হাত থেকে পিঁয়াজের বাজার রক্ষার জন্য বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পিঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রেও ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিশেষ সুযোগ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেফার্ড এলসি খুলে পিঁয়াজ আমদানি করতে পারবে ব্যবসায়ীরা।
প্রসঙ্গত, সাধারণত ডেফার্ড এলসির মেয়াদ ১৮০ দিন হয়। তবে সাময়িক সময়ের জন্য দেওয়া এই নির্দেশনায় পিঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে ৯০ দিন মেয়াদে তা খুলতে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য বাকিতেও পিঁয়াজ আমদানি করতে পারবে আমদানিকারকরা। এতে আমদানির খরচ কমবে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর যৌথভাবে পিঁয়াজ নিয়ে কাজ করছে। এ ব্যাপারে বেশি ভাবছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক এমপি; তিনি বলেছেন, ‘আমরা পিঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথ ধরে এগোচ্ছি। এতদিন শুধু শীতকালীন পিঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। এখন গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজেরও বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবন করে চাষিদের দেওয়া হয়েছে। এতে পিঁয়াজের উৎপাদন বাড়ছে।’ কৃষিমন্ত্রী পিঁয়াজ মৌসুমে আমদানি বন্ধ রাখার চিন্তাও করছেন। যাতে আমাদের চাষিরা সঠিক মূল্য পায়।
নভেম্বর নাগাদ নতুন মুড়িকাটা পিঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করবে। দামও থাকবে ক্রয়সীমার মধ্যে। স্বভাবতই কমতে শুরু করবে ‘পিঁয়াজের ঝাঁজ’। পিঁয়াজ উৎপাদনের সাথে সাথে সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কার্যকরী বাজার তদারকি ব্যবস্থা বা বাজার মনিটর করতে হবে। অসৎ ও অতি মুনাফালোভী মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কৃষক পর্যায়ে দাম নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ঘাটতি পূরণ করতে গ্রীষ্মকালে পিঁয়াজ চাষ করতে হবে। এ সময় চাষের সফলতার জন্য বৃষ্টি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পলি-টানেল বা গ্রিন হাউসে পিঁয়াজ উৎপাদন করা যেতে পারে। সংকটকালে শুধু জেলা শহরে নয়; সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবি’র মাধ্যমেও ন্যায্যমূল্যে পিঁয়াজ বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষিপণ্য বহনের জন্য সুপরিকল্পিত পরিবহনের ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। বাড়াতে হবে কালো সোনা খ্যাত পিঁয়াজের বীজ উৎপাদন। পিঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে ভারতনির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য দেশের দিকে নজর দিতে হবে। তাহলেই আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পিঁয়াজ নিয়ে হাহাকার পরিবেশ ঠেকাতে পারব।

লেখক : শিক্ষক; পিএইচডি গবেষক, প্ল্যান্ট প্যাথলজি
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শেরে বাংলা নগর, ঢাকা
raziasultana.sau52@gmail.com

Leave a Reply