খুনি-ষড়যন্ত্রকারীদের ইতিহাস ক্ষমা করবে না

Spread the love

রায়হান কবির: ৩ নভেম্বর, গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পাতায় বাঙালির জাতীয় জীবনের একটি কালো দিন। ইতিহাসের কলঙ্কিত-অভিশপ্ত অধ্যায় এবং চিরজীবনের শোক ও সন্তাপে বিদগ্ধ দিন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আত্মদানে সমৃদ্ধ স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয়ের পর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সম্মুখযাত্রার উষালগ্নে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘাতকচক্র। এর দুই মাস ২০ দিন পর ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে।
শত শত বছর ধরে বিদেশি শাসকদের শোষণ-বঞ্চনা অত্যাচার-নির্যাতন নিপীড়ন-নিষ্পেষণে জর্জরিত বাঙালি জাতি পরাধীনতাকে তাদের নিয়তির মতোই সহ্য করে নিয়েছিল। বাঙালি জাতির নিথর-স্তব্ধ চেতনার ধমনিতে খরস্রোতা পদ্মার মতোই জাতীয় জাগরণের অনল-প্রবাহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে মুক্তির মহামন্ত্রে উজ্জীবিত করে ধাপে ধাপে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে এবং পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি রাখে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১৯৭০ সালে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্যদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরের আম্রকাননে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশ সরকার। সৈয়দ নজরুল ইসলাম গঠিত বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, এম মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এএইচএম কামারুজ্জামান খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন সরকার গঠন, সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় ছিল সেই সরকারের সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা এবং মুক্তির অদম্য স্পৃহায় উদ্বুদ্ধ ও চূড়ান্ত আত্মত্যাগে প্রতীজ্ঞ বাঙালি জাতিকে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে ঐক্যবদ্ধ করা এবং পাকিস্তানের ন্যায় হিংস্র-বর্বর শক্তিশালী একটি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা সহজ কথা নয়। বঙ্গবন্ধু জাতীয় জাগরণের যে অনল-প্রবাহ সৃষ্টি করেছিলেনÑ জনগণের মধ্যে যে ভালোবাসা-বিশ্বাস ও আস্থা সৃষ্টি করেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং একটি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র সংগ্রামে পরিচালনা ছিল কঠিন কাজ। তদুপরি নানা পথ, নানা মত, ভিন্ন ভাবাদর্শের অসংখ্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফরমকে ঐক্যবদ্ধ রাখাও ছিল দুরূহ ব্যাপার। সেই সাথে ছিল ভিতর ও বাইরের ষড়যন্ত্র মোকাবিলার পর্বত-সম চ্যালেঞ্জ। তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে জয় করতে সক্ষম হয়েছিল মুজিবনগর সরকার। পেরেছিলেন কারণ তারা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহচরÑ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও বিশ^স্ত সহযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় চার নেতা ছিলেন বদ্ধপরিকর। দেশমাতৃকার এবং দেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে সমর্থিত ছিল তাদের জীবন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও রাষ্ট্রের শক্তিশালী ভিত রচনায় তাদের কালজয়ী ভূমিকা বাঙালি জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। তাই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর জাতীয় চার নেতাকে খুনি মোশতাক-জিয়া-রশিদ-ফারুক ঘাতকচক্র এবং নেপথ্যের কুশীলবরা তাদের প্রধান প্রতিবন্ধক মনে করত। ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে কারারুদ্ধ করা হয়। বেইমান মোশতাক ক্ষমতা দখলের পর জাতীয় চার নেতাকে নানাভাবে প্রলুব্ধ করার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন এবং জাতীয় চার নেতাকে সরিয়ে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। জাতীয় চার নেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অবিচল থেকেছেন; ত্রিশ লক্ষ শহিদের বীরত্বকে হৃদয়ে ধারণ করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন, তবুও খুনিদের রক্তচক্ষুর কাছে মাথা নত করেননি।
১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর মধ্যরাতে (ঘড়ির কাঁটায় ৩ নভেম্বর) খুনি মোশতাক-জিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে একটি সেনা অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। খুনি মোশতাক-রশিদ-ফারুকরা মনে করেছিলেন সেই অভ্যুত্থান আওয়ামী লীগের পক্ষে যাবে এবং কারারুদ্ধ জাতীয় চার নেতাকে মুক্ত করে নতুন রাজনৈতিক সরকার গঠিত হতে পারে। তাই অভ্যুত্থানকালেই খুনি মোশতাক-রশিদ-ফারুকের প্রেরিত ঘাতক দল জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সেই রাতে জেলখানায় কী ঘটেছিল তার বর্ণনা পাওয়া যায় তৎকালীন আইজি প্রিজনস এন নুরুজ্জামানের প্রতিবেদন থেকে।
৩ নভেম্বর রাত প্রায় ৩টার সময় বঙ্গভবন থেকে খুনি মেজর রশিদ আইজি প্রিজনসকে ফোন করেন এবং তাকে বলেন ক্যাপ্টেন মোসলেম জেলেগেটে যাবেন; তাকে যেন ১. তাজউদ্দীন আহমদ ২. এম মনসুর আলী ৩. সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ৪. কামারুজ্জামানÑ এই চার বন্দির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় আইজি প্রিজনস রাষ্ট্রপতির সাথে কথা বলতে চাইলে খোন্দকার মোশতাক পরিষ্কারভাবে তাকে মেজর রশিদের নির্দেশ পালনের হুকুম দেন। এর কয়েক মিনিট পরই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে জলপাই রঙের একটি জিপ এসে থামে। জিপ থেকে নেমে আসেন সেনাবাহিনীর সশস্ত্র চার সদস্য। তাদের একজন রিসালদার মোসলেম কারাগারের জেলারকে জানান যে, ফারুক ও রশিদ তাদের পাঠিয়েছেন। কালো পোশাক পরা রিসালদার মোসলেম জেলগেটে পৌঁছে আইজি প্রিজনসকে বন্দি জাতীয় চার নেতার কাছে নিয়ে যেতে বলেন। আইজি প্রিজনস কারণ জানতে চাইলে খুনি মোসলেম বলেন তাদের গুলি করবেন। সে-সময় আবারও খুনি রশিদ ফোন করেন এবং মোসলেম সেখানে পৌঁছেছেন কি না জানতে চান? সে-সময় আইজি প্রিজনস মেজর রশিদকে মোসলেমের উদ্দেশ্যের কথা জানালে তিনি অবৈধ রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাকের কাছে ফোন দেন এবং খন্দকার মোশতাক ফোন ধরলে তাকে জানানো হয় রিসালদার মোসলেমকে জাতীয় চার নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘোষণা দিয়েছেন। তখন খন্দকার মোশতাক আইজি প্রিজনসকে মোসলেমের নির্দেশ প্রতিপালনের হুকুম দেন।
তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন নিউ জেলের ১ নম্বর সেলে। পরবর্তী সেলে ছিলেন মনসুর আলী ও কামারুজ্জামান। তাদের সবাইকে জড়ো করা হয় তাজউদ্দীনের সেলে। এরপর খুব কাছ থেকে তাদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। তাজউদ্দীন আহমদের পেটে ও হাঁটুতে গুলি লাগে। প্রচ- রক্তক্ষরণের পর দীর্ঘ সময় তিনি বেঁচেও ছিলেন। কিছুক্ষণ পর নায়েক এ আলীর নেতৃত্বে আরেকটি সেনাদল সকলে মারা গেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আবারও ১নং সেলে যান এবং পুনরায় মৃতদেহে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে জাতীয় চার নেতার মৃত্যু নিশ্চিত করে। শেষরাতে কারাভ্যন্তরে এমন নৃশংস এক হত্যাকা- সংঘটিত হলেও বাইরের পৃথিবীর কেউ তা জানত না। এমনকি সেলের মধ্যে সকাল ১০টা পর্যন্ত লাশগুলো তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরদিন ১০টার পর কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসকগণ সেলে প্রবেশ করেন। সেখানেই লাশের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এরপর ভীতিকর পরিবেশে ও কঠোর নজরদারির মধ্যে আরমানিটোলা মাঠে জাতীয় নেতাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাফনের প্রস্তাব করা হলে জানাজার পরপরই খন্দকার মোশতাকের পাঠানো একদল সেনা একটি পিকআপ এনে জোর করে অত্যন্ত অসম্মানজনকভাবে জাতীয় নেতাদের লাশ নিয়ে যায় এবং বনানী কবরস্থানে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও এম মনসুর আলীকে দাফন করা হয়। রাজশাহীতে দাফন করা হয় এএইচএম কামারুজ্জামানকে।
৩ নভেম্বরের মর্মন্তুদ জেলহত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে দেশবাসী। জাতির পিতার হত্যাকা-ের পর ৩ নভেম্বরের হত্যাকা-ের ফলে প্রতিরোধের ম্রিয়মাণ প্রদীপ নিভে যায়Ñ ঘুরে দাঁড়াবার সাহস হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরাজিত পাকিস্তানের ভাবধারায় ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী চরিত্রে পরিচালিত হতে শুরু হয় বাংলাদেশ। ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়Ñ বাঙালির বীরত্বপূর্ণ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চলে গভীর ষড়যন্ত্র।
প্রসঙ্গত, খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সংঘটিত সেনা অভ্যুত্থানের গতিবিধি ও চরিত্র যদি অন্যান্য অভ্যুত্থানের মতো হতো তাহলে অনেক কিছুই ঘটত না। ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর খালেদ মোশাররফ চতুর মোশতাকের প্রতারণার শিকার হন! যাদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান তাদের হত্যা বা কারারুদ্ধ না করা কিংবা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে রেডিও-টেলিভিশনে ভাষণ না দেওয়া বা নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা ও ক্ষমতা দখল কোনোটাই না করে খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধান পদের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান খুনিচক্রকে পদচ্যুত করতে সক্ষম হলে বাংলাদেশের ইতিহাস ভিন্ন হতে পারত। ৩ নভেম্বরের জেলহত্যা ও ৭ নভেম্বরের তথাকথিত সিপাহী বিপ্লব সংঘটিত হতো না। বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তানি ভাবধারায় দীর্ঘ স্বৈরশাসনে নিষ্পেষিত হতে হতো না। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মতো কালো আইন প্রণীত হতো না।
কোনো সভ্য স্বাধীন জাতির ইতিহাসে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে ৩ নভেম্বরের মতো কারা-অভ্যন্তরে নৃশংস হত্যাকা-ের শিকার হতে হয়নি। জাতির পিতা এবং জাতীয় নেতাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে আর কোনো জাতির প্রজন্মের ললাটে এমন কলঙ্ক-টিকা এঁকে দেওয়া হয়নি।
প্রজন্মের চোখে ক্যালেন্ডারের পাতায় নভেম্বরের ৩ তারিখে দৃষ্টি দিলে ভেসে আসে ১৫ আগস্টÑ ভেসে আসে অজস্র প্রশ্ন! কী দোষ ছিল জাতীয় চার নেতার? কেন তাদের কারাগারে থেকেও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের শিকার হতে হলো? তারা বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এ-কারণে? তারা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছেন, সেই প্রতিশোধ নিতে? বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক চরিত্র এবং আদর্শের ছায়া তাদের ব্যক্তিত্বে এবং চরিত্রে বিদ্যমান ছিল সে-কারণে? না-কি এদেশের মাটি ও মানুষ তাদের ভালোবাসে সে-জন্য? কী কারণে এবং কেন তাদের হত্যা করা হলো? বঙ্গবন্ধু-হত্যা ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের প্রধান প্রতিবন্ধক ছিলেন তাই? এমন অসংখ্য প্রশ্ন নিয়ে ক্যালেন্ডার পাতায় ৩ নভেম্বর চেয়ে থাকে প্রতিটি বাঙালির চোখে। সেই চাহনিতে তীব্র ঘৃণা, কলঙ্ক আর জাতিগত লজ্জার পটভূমি!
জাতীয় চার নেতা হত্যাকা-ের শিকার না হলে ইতিহাস কেমন হতো? স্বৈরাচার মুশতাক-জিয়া এবং তাদের উত্তরসূরিদের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু-হত্যা ষড়যন্ত্রের সফল রূপায়ণ কী সম্ভব হতো? মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী আদর্শ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ কী পেত? ’৭২-এর সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল শোষণবিহীন সমাজ-ব্যবস্থা কী অক্ষুণœ থাকত?
১৫ আগস্ট এবং ৩ নভেম্বরের হত্যাকা- একই সূত্র ও ষড়যন্ত্রের অংশ। স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানের খুনিদের কোনো ক্ষমা নেই। খুনি ও নেপথ্যের কুশীলবরা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। যারা খুনিদের রাজনৈতিক ভাবাদর্শকে বিশ^াস ও ধারণ করে এবং খুনিচক্রের হাতে গড়া রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে তাদের ক্ষমা করবে না ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। খুনি-ষড়যন্ত্রকারীদের ভাবাদর্শের ধারক-বাহকদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না ৩০ লাখ শহিদের রক্তস্নাত ইতিহাস।

লেখক : গবেষণা সহকারী, উত্তরণ

Leave a Reply