দ্রব্যমূল্য সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার কাজ করছে : ওবায়দুল কাদের

Spread the love

উত্তরণ প্রতিবেদন: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, দ্রব্যমূল্য ওঠানামার পেছনে বাজারে একটা সিন্ডিকেট সব সময় কাজ করে। তবে সরকার সিন্ডিকেটের কাছে হেরে যাচ্ছে এ-কথাটা ঠিক নয়। গত ২৩ অক্টোবর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সেখানে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন। আওয়ামী লীগ টানা দুই মেয়াদ শেষ করে তৃতীয় মেয়াদে সরকারে আছে, তারপরও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের কাছে হেরে যাচ্ছে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের সার্বিক পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা প্রতিবেশী সব দেশের দিকে তাকান, এই করোনা পরিস্থিতিতে বাজারমূল্য, কোথাও আমদানি-রপ্তানিতে আগের পর্যায়ে কেউ নেই এবং এখানে উৎপাদনেরও একটা ব্যাপার আছে। পেঁয়াজ যদি আমাদের দেশে ঘাটতি থাকে, সেটা আমরা কাছের দেশ ভারত থেকে আনি। আমাদের সরকারের চেষ্টার ফলে ভারতীয় পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও ওঠানামা করবে। এখন বর্ষা, এ সময়ে একটু দ্রব্যমূল্য বাড়ে, আবারও এগুলো ঠিক হয়ে আসে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার কোনো অপরাধীকে ছাড় দিচ্ছে না। এই যে ধর্ষণবিরোধী, নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন, সামাজিক আন্দোলনÑ সেখানেও আমাদের পার্টি আছে। ধর্ষণ-নারী নির্যাতনের সঙ্গে যারাই জড়িত, কোনো অপারাধীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড় দেননি। কোনো প্রকার আপস করা হয়নি। করোনার কারণে দেশে-বিদেশে পারিবারিক সহিংসতা, সামাজিক অবক্ষয় বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ব্রিটেনের মতো দেশে ৫৫ হাজার নারী ধর্ষিত, নির্যাতিত হয়েছে। করোনার জন্য সারাবিশ্বে পারিবারিক সহিংসতা বেড়ে গেছে। নারীরা বেশি শিকার হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ ব্যতিক্রম নয়। আমাদের দেশের হিসাবে এক বছরে ১ হাজার ধর্ষণ-নির্যাতনের কথা আপনি আনতে পারেন। কিন্তু ব্রিটেনের মতো দেশে এই যে ৫৫ হাজার নারী নির্যাতিত হয়েছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকারের পদত্যাগের দাবি কেউ করেনি।’
বিএনপি’র আন্দোলনের আহ্বান নিয়ে কটাক্ষ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তারা বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে বারবার ব্রিফিং করে আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন। পরীক্ষার পরে আন্দোলন, রোজার ঈদের পরে আন্দোলন, কখনও কোরবানির পরে আন্দোলন; কত রোজা গেল, ঈদ কত গেল, কত পরীক্ষা চলে গেল, এই বছর না ওই বছর, আন্দোলন করে বিএনপি। আজকে বিএনপি মহাসচিবের কাছে জানতে চাই, আর সাংবাদিকদেরও বলতে চাই, আপনারা কি বিশ্বাস করেন যে বিএনপির আন্দোলনের হাঁকডাকে আষাঢ়ে তর্জন-গর্জনই সার? বেগম জিয়াকে মুক্ত করার জন্য এই বিএনপি ঢাকা মহানগরীতে একটা বড় বিক্ষোভ সমাবেশ করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিকতা, উদারতায় বেগম জিয়ার বয়সজনিত বিষয়টি চিন্তা করে তাকে আজকে কারাদ-াদেশ স্থগিত করে ছয় মাস। এটি বিএনপির আন্দোলনের ফসল নয়, এটা শেখ হাসিনার মানবিকতা এবং উদারতার দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ‘বিএনপির পুনর্নির্বাচনের দাবি অযৌক্তিক। নির্বাচন এলেই সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করতে তাদের অপতৎপরতা শুরু হয়। তারা সব সময় নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চায়। বিএনপির আন্দোলনের হাঁকডাক তর্জন-গর্জনই সার।’ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একটা কথা বলা হয়, এতদিন সব সাংগঠনিক কার্যক্রম না-কি বন্ধ ছিল। এ-কথা ঠিক নয়। সাত মাস ধরেই আমাদের রাজনৈতিক সাংগঠনিক কার্যক্রম ছিল। সারাদেশে বন্যা মোকাবিলা, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বৈশ্বিক মহামারি করোনা মোকাবিলায় আমাদের নেতাকর্মীরা সারাদেশে সক্রিয় ছিল। আওয়ামী লীগ কোথাও অনুপস্থিত ছিল না। আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলো কৃষকদের ধান কেটে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে। এগুলো তো আওয়ামী লীগের কর্মকা-ের বাইরে নয়। এগুলো আমরা আমাদের দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করেছি। শুধু আপনি এটুকুই বলতে পারেন যে, করোনাকালে আমাদের কমিটি গঠন প্রক্রিয়াটা বন্ধ ছিল।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী মাস থেকে দলীয় কর্মকা- পুরোদমে শুরু করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আগামী ৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে স্বল্প পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলহত্যা দিবসের আলোচনা হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি আলোচনায় অংশ নেবেন। সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানের উত্তরার নিজ ফ্ল্যাটে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচার চলছে। এ থেকে সাংবাদিকরাও বাদ যাচ্ছেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানের বাসায় বর্বরোচিত হামলা করা হয়েছে। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এ হামলার সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানের বাসায় এ ধরনের হামলা কাম্য নয়। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। যে কোনো গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছে সরকার।’
ধর্ষকদের জন্য আওয়ামী লীগের
দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ধর্ষণসহ সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনকারীদের কেবল দল থেকে বহিষ্কারই করা হবে না, তাদের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। এ জাতীয় ঘৃণ্য অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের পথ বন্ধ করে দিতে হবে।
গত ২৫ অক্টোবর নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর বসুরহাট ও কবিরহাটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনকারীদের দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এরা হলো দুর্বৃত্ত। ধর্ষক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীর পরিচয় অপরাধী।
সম্প্রতি নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে নোয়াখালীতেও নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের মতো কতগুলো অশুভ ঘটনা ঘটে গেছে। নোয়াখালীর মানুষ হিসেবে এজন্য আমি নিজেও লজ্জিত। এ ধরনের ঘটনা যারা করে তাদের দলীয় কিছু নেই। তারা হলো দুর্বৃত্ত। এই দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অদম্য গতিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে যাওয়া যাদের গাত্রদাহ সৃষ্টি করেছে তারা নানান অপকৌশলে দেশকে পিছিয়ে দিতে চায়। তাদের অপকৌশলের একটি হচ্ছে হিন্দু-মুসলমান বৈরিতা সৃষ্টি করা। সেতুমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। এদেশে হিন্দু, মুসলমান ও অন্য ধর্মালম্বী সকল লোকজনের সমান অধিকার। আমাদের মিলেমিশে চলতে হবে। কোনো ধর্মের লোক যেন তাদের মাইনরিটি না ভাবেন। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নেই। আমরা প্রতিবেশী, আমরা একে অপরের সহমর্মি। আমরা একই দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের সংবিধানে আপনার যে অধিকারÑ আমারও সেই অধিকার। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু বলে আপনারা নিজেদের দুর্বল ভাববেন না। এদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প তারাই ছড়ায়, যারা আবহমান কাল থেকে এদেশে চর্চিত সম্প্রীতির বীজতলা নষ্ট করতে চায়। সমস্যা তৈরি করে সাম্প্রদায়িক দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে চায়। আমাদের বরাবরের মতো সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দুর্বল হয়েছে কিন্তু নির্মূল হয়নি। তাদের শব্দহীনতা কিংবা আড়ালে থাকা শক্তি সঞ্চয়ের কৌশলও হতে পারে। এ সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নানা ধরনের মিথ্যাচার বা উসকানিমূলক পোস্ট না দেওয়ার জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, যে ধর্মের অনুসারীই আমরা হই না কেন, প্রকৃত ধর্মানুশীলন মানুষের আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তোলে। ধর্মচর্চা মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। অপরাধ এবং চিত্ত ও বিত্তের নেতিবাচক ভাবনা থেকে সুরক্ষা দেয়। তাই আমি অপরাধ থেকে সুরক্ষা পেতে আত্মিক শক্তি জোরদারে নিজ নিজ ধর্মের মূল বাণী পাঠ ও চর্চার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আহ্বান জানাচ্ছি ধর্ম নিয়ে যারা বাড়াবাড়ি করে, তাদের সম্পর্কে সচেতন থাকতে। তিনি সনাতন ধর্মালম্বীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। নোয়াখালীতে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ চলছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এখনও যেসব কাজ বাকি রয়েছে, বর্তমান সরকারের আমলেই তা শেষ করা হবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য সবকিছুই করা হবে।’
এ সময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির কমপ্লেক্সে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীর, হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রামের বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু অরবিন্দু ভৌমিক, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সেক্রেটারি রনজিত কর্মকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান, সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং কবিরহাট উপজেলার দরাফ নগর শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দিরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মীর রাশেদুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন রুমি এবং সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জহিরুল হক রায়হান-সহ বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply