দুর্যোগ প্রশমন দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, পাশবিকতা নিয়ন্ত্রণেই ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডর বিধান

Spread the love

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অ্যাসিড-সন্ত্রাসের মতো ধর্ষণ নামের পাশবিকতা নিয়ন্ত্রণেই তার সরকার আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদ-ের বিধান সংযুক্ত করেছে। গত ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষণ একটা পাশবিকতা, মানুষ পশু হয়ে যায়। যার কারণে আমাদের মেয়েরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেজন্য আমরা ধর্ষণ করলে যাবজ্জীবনের সঙ্গে মৃত্যুদ-ের বিধান রেখে আইনটি সংশোধন করে কেবিনেটে পাস করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যাসিড নিক্ষেপকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। কারণ সেখানে আমরা আইন সংশোধন করেছিলাম। যেহেতু পার্লামেন্ট সেশন নাই, তাই আমরা এক্ষেত্রে অধ্যাদেশ জারি করে দিচ্ছি। যে কোনো একটা সমস্যা দেখা দিলে সেটাকে মোকাবিলা করা এবং দূর করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আজকে সমগ্র বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা মনে করি যে কোনো অবস্থাতেই যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করতে আমরা পারব এবং বাঙালি পারে।’ কোভিড-১৯-কে আরেকটি দুর্যোগ আখ্যায়িত করে তিনি বিএনপি-জামাতের অগ্নিসন্ত্রাসের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে অনেক সময় মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগও মোকাবিলা করতে হয়। তিনি বলেন, ‘এর আগে আপনারা দেখেছেন বিএনপি-জামাতের সেই অগ্নিসন্ত্রাস। জীবন্ত মানুষগুলোকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেটাও কিন্তু আমরা মোকাবিলা করেছি।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো এনামুর রহমান এমপি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে ১৭ হাজার ৫টি দুর্যোগসহনীয় গৃহ প্রদান কর্মসূচি এবং ১৮ হাজার ৫০৫ জন নারীকর্মী সংবলিত ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি-সিপিপি’র নতুন একটি নারী ইউনিট উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে তার পক্ষে প্রতিমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪২ জন পুরুষ এবং ৪২ জন নারীর মধ্যে পদক বিতরণ করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি তাজুল ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। দুর্যোগসহনীয় ঘরপ্রাপ্ত উপকারভোগীদের পক্ষে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার বেদেনী নুরুন্নাহার, গাইবান্ধার মো. রিয়াজুল হক এবং নারী সিপিপি কর্মী কাশফিয়া তালুকদার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ৫৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছেন। এর মধ্যে নারী স্বেচ্ছাসেবকেরাও যথেষ্ট ভূমিকা রাখছেন। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।’ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপকূলে ব্যাপক হারে গাছ লাগিয়ে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা, দুর্যোগ সহনীয় ঘরবাড়ি তৈরি করার মতো কার্যক্রম তার সরকার বাস্তবায়ন করছে। ড্রেজিং করে খাল খননের মাধ্যমে নদীগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

Leave a Reply