নারীরা ‘পরগাছা’ নয় ‘মানুষ’

Spread the love

ড. জেবউননেছা: নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তার ‘অবরোধবাসিনী’ নামক গ্রন্থের প্রথম লাইনে উল্লেখ করেছেন এভাবেÑ “আমরা বহুকাল হতে অবরোধে থাকিয়া অভ্যস্ত হইয়া গিয়াছি। সুতরাং অবরোধের বিরুদ্ধে বলিবার আমাদেরÑ বিশেষতঃ আমার কিছুই নাই।” উনিশ শতকে তিনি এ-কথাটি বলেছিলেন সমাজে জাগরণের জন্য। একবিংশ শতকে ২০০২ সালে দক্ষিণ এশিয়ার নারীবাদী কমলা ভাসিনের জেন্ডার প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়েছিল আমার। দুদিনব্যাপী সেই কর্মশালায় জেনেছিলামÑ নারীদের সমতা অর্জনের জন্য পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে, নারী-পুরুষের আত্মিক ও মানসিক পরিবর্তন করতে হবে। উক্ত পরিবর্তনের ফলেই সমাজে নারী-পুরুষের সমতা আসতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে যখন কর্মজীবনে ব্যস্ত তখন একদিন পত্রিকার পাতা উল্টাতে গিয়ে দেখি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শ্রেণিবন্ধু মীনা মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছেন। তার মৃত্যু আত্মহত্যা না-কি কোনো চক্রান্ত ছিল, তা জানি না। ১২ জুন ২০১১ তারিখে জাতীয় বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক রুমানা মনজুরকে ১০টি বছর ধরে নির্যাতন করেছিল তার স্বামী। কিন্তু লোকলজ্জা আর সমাজের ভয়ে ১০টি বছর মুখ বুজে সহ্য করে গেছেন তিনি। জানা যায়, তার স্বামী ছিলেন বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পাস করা একজন ইঞ্জিনিয়ার। একজন শিক্ষিত মানুষ হয়ে কী করে এ জঘন্য কাজটি করেছিল, তা জানা নেই। কী দোষ ছিল শিক্ষক রুমানা মনজুরের? উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ পড়তে যাওয়ার ফলে না-কি একতরফা স্বামীর চোখের সামনে স্ত্রীর ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার হীনন্মন্যতা? অথচ নির্যাতিতা রুমানা অন্ধত্ব নিয়েও জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, অদম্য ইচ্ছেশক্তি মানুষকে এগিয়ে নিতে পারে বহুদূর। এমন হাজারো রুমানা মনজুর আছে। যারা মুখ বুজে সহ্য করে যায়, লোকলজ্জার ভয়ে প্রকাশ করে না। মেকি হাসি আর রঙিন শাড়ির আঁচলে ঢেকে রাখে নির্যাতনের বেদনা।
সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের নারীর ক্ষমতায়নের ভিত রচিত হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭-এ বলা আছে “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।” অনুচ্ছেদ ২৮(২)-এ উল্লেখ রয়েছে “রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন।” সমাজে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু তার সময়ে সরকারি চাকরিক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করেন। সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদে নারীর জন্য জাতীয় সংসদের আসন সংরক্ষিত হয়েছে। অতঃপর সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা থাকলেও ৬৫(২) অনুচ্ছেদের অধীনে প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত ৩০০ আসনে ও নারীর অংশগ্রহণের সমান সুযোগ রয়েছে। ১৯৭১-এ পাকহানাদার বাহিনীর হাতে পাশবিকতার শিকার নারীদের তিনি ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধিতে ভূষিত করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৭৩-১৯৭৮)-এ স্বাধীনতাযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ১৯৭২ সালে গঠিত হয় ‘নারী পুনর্বাসন বোর্ড’। উক্ত বোর্ডে ১১ জন প্রখ্যাত শিক্ষক নারীনেত্রী এবং রাজনৈতিক কর্মী সদস্য ছিলেন। ১৯৭৩ সালে জাতির পিতার মন্ত্রিসভায় দুজন নারী সদস্য ছিলেন। উক্ত বোর্ডটি ১৯৭৪ সালে সংসদে অ্যাক্টের মাধ্যমে ‘নারী পুনর্বাসন ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এ রূপান্তর করা হয়। নারীদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করার জন্য ১৯৭৩ সালে সাভারে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ৩৩ বিঘা জমির ওপর চালু হয় কৃষিভিত্তিক কর্মসূচি।
তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু-কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্তানের নামের সাথে বাবার নামের পাশাপাশি মায়ের নাম যুক্ত করেন। তার সময়ে ‘পারিবারিক সহিংসতা (দমন এবং নিরাপত্তা) আইন ২০১০’ প্রণয়ন করা হয়েছে। উক্ত আইনকে বাস্তবায়ন করার জন্য ২০১৩ সালে পারিবারিক সহিংসতা (দমন এবং নিরাপত্তা) বিধি সম্প্রতি করা হয়। নারীর সম্পত্তিতে সমান অধিকার ও ব্যবসায়ে সমান সুযোগ সৃষ্টির জন্য ২০১১ সালে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি পাস করা হয় এবং বাল্যবিবাহ আইন ১৯২৯ সংশোধন করা হয়েছে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। নারী উন্নয়ন ও সমতার লক্ষ্যে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য এবং দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রের আলোকে জাতীয় বাজেটে নারীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়। জাতীয় সংসদে নারীর আসন বৃদ্ধি করে ৫০ করা হয়েছে। এছাড়াও নারীদের জন্য দুস্থ নারী ভাতা, মাতৃত্বকালীন এবং দুগ্ধবতী মায়েদের জন্য ভাতা, অক্ষম মায়ের ভাতা, তালাকপ্রাপ্তা ভাতা, গ্রামের নারীদের জন্য ৫ শতাংশ সেবামূল্যের বিনিময়ে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হয়, নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ১০ শতাংশ এবং বাণিজ্যিক খাতের জন্য ১০ শতাংশ পেয়ে থাকেন। নারীরা ২৫ লাখ পর্যন্ত কোনোরকমের জামানতদার ছাড়াই এসএমই ঋণ সুবিধা ভোগ করতে পারেন। মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম করা হয়েছে। নারীর সামর্থ্য উন্নীতকরণ, নারীর অর্থনৈতিক প্রাপ্তি বৃদ্ধিকরণ, নারীর মতপ্রকাশ ও মতপ্রকাশের মাধ্যম সম্প্রসারণ এবং নারী উন্নয়নে পরিবেশ সৃষ্টিকরণ, নারী উন্নয়নে পরিবেশ সৃষ্টিকরণÑ এই ৪টি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সমাজের সকল ক্ষেত্রে এখন নারীদের অংশগ্রহণ দৃশ্যমান। এই অভূতপূর্ব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায়। গত ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রিত্ব করছেন নারী। নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অসামান্য অবদানের জন্য জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের সভায় নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ নামক পুরস্কার অর্জন করেছে।
সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিতের জন্য। কিন্তু কূপম-ূকতা এবং কুসংস্কার যারা আঁকড়ে রাখে তাদের পরিবর্তন তো সরকার করতে পারবে না। তার জন্য দরকার আত্মোন্নয়ন, নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, সর্বোপরি, পারিবারিক শিক্ষা। সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে প্রতিটি স্তরে নারীকে সম্মান করার বিষয়ে পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা। শিক্ষায় শিশুদের আগ্রহী করে তোলা। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা। যৌতুক প্রথার উচ্ছেদ সাধন, নারী শিক্ষার বিস্তার, বাল্যবিবাহ দূরীকরণ, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, ধর্মীয় গোঁড়ামির পরিবর্তন, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং গণমাধ্যম্যের শক্তিশালী ভূমিকার মাধ্যমে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
জাতীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছিলাম, উচ্চ শিক্ষিত নারীরা বেশি নির্যাতিত; কিন্তু কিছু বলতে পারছে না। বেগম রোকেয়ার সমাজ এখনও আছে। কিন্তু তার খোলস পাল্টেছে মাত্র। অথচ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী স্থানে নারীদের অবস্থান রয়েছে। সত্য হচ্ছে এই যে, সারা পৃথিবীতেই সামাজিক লিঙ্গীয় পার্থক্য হচ্ছে মূলত পিতৃতান্ত্রিক, যার গোড়ায় রয়েছে পুরুষ আধিপত্য। এগুলো পুরুষকে সহায়তা করে। কারণ বিরাজমান সামাজিক লিঙ্গীয় পার্থক্য আসলে নারীবিদ্বেষী। ফলে নারীরা বহু প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে থাকে এবং তারা বৈষম্য ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয় প্রতিনিয়ত।
শুরু করেছিলাম বেগম রোকেয়ার উনিশ শতকের লেখা নিয়ে। কারণ আমরা এখনও মানসিকভাবে উনিশ শতকে পড়ে আছি। যুগের পর যুগ অতিবাহিত হয়েছে, শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিক্রান্ত হয়েছে। সমাজে অর্থনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে, বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে গতি এসেছে। কিন্তু নারীর প্রতি সমাজের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মনোভাবের উত্তরণ এখনও ঘটেনি। নারীরা পুরুষের আধিপত্যের দ্বারা শোষণের শিকার, অন্যায়ভাবে বল প্রয়োগের ফলে উৎপীড়নের শিকার। নারী হিসেবে অনুভব করতে পেরেছি। এ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে একজন নারীর কি পরিমাণ সমস্যা ভোগ করতে হয়। কাজেই নারীদের অবস্থার পরিবর্তন এবং সমাজ পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নারীকে হতে হবে নারীর বন্ধু।
হাজার বছরে গড়ে ওঠা এ-সমাজ শৃঙ্খলকে ভেঙে ফেলা বড়ই কঠিন। সমাজের প্রতিটি অঙ্গে বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে গেছে নারীর প্রতি বৈষম্য। এ বৈষম্য যেন হয়ে গেছে চলমান আইন। বৈষম্য নারীর পরম দুর্ভাগ্য, নিয়তি তার ছায়া। একে রুখব কী করে? তাই তো নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার ‘অবরোধবাসিনী’ নামক গ্রন্থের এক পর্যায়ে বলেছেন, “যেটার সাথে আমিও একমত।” এখন আর আমাদের হৃদয়ে স্বাধীনতা, ওজস্বিতা বলে কোনো বস্তু নেই এবং তা লাভ করার প্রবৃত্তি পর্যন্ত লক্ষিত হয় না ! তাই বলতে চাই :
“অতএব জাগ, জাগ গো ভগিনি!”
প্রথমে জেগে ওঠা সহজ নয়, জানি; সমাজ মহাগোলযোগ বাধাবে জানি; ভারতবাসী মুসলমান আমাদের জন্য ‘কতল’-এর (অর্থাৎ প্রাণদ-ের) বিধান দেবেন এবং হিন্দু চিতানল বা তুষানলের ব্যবস্থা দেবেন জানি! (এবং ভগ্নিদিগেরও জাগবার ইচ্ছে নেই, জানি!) কিন্তু সমাজের কল্যাণের নিমিত্তে জাগতে হবেই। ‘বলেছি তো কোনো ভালো কাজ অনায়াসে করা যায় না।’
এক কথায়, নারী যেন নদী, বয়ে যায় নিরবধি। শত শত দুঃখ তার জীবনে স্রোত হয়ে ভাসে। তবু যেন তার স্থিরতা নেই। স্বপ্নগুলো তার জীবনে জোয়ার হয়ে আসে। ব্যর্থতাগুলো ভাটা হয়ে থাকে। গতিহীনভাবে সে বয়ে যায় প্রকৃতির নিয়মে। সাগরে মিশে তার শেষ গন্তব্য। অতঃপর শেষ হয় তার অন্তহীন পথচলা। তবে আমরা যদি সত্যিই চাই, তাহলে এমন একটি সমাজ গড়তে পারি, যেখানে নিয়মকানুন, দায়িত্ব, গুণাবলি এবং আচরণের ধরন সামাজিক লিঙ্গ, বর্ণপ্রথা, শ্রেণি বা গায়ের রং দ্বারা নির্ধারিত ও আরোপিত হবে না। এটি হবে এমন একটি সমাজ, যে সমাজে সবারই অধিকার ও স্বাধীনতা থাকবে নিজস্ব ইচ্ছেনুযায়ী ভূমিকা পালনের, মেধা বিকাশের এবং নিজস্ব পছন্দানুযায়ী জীবনযাপনের।
প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করে থাকে। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিকতার আড়ালে যে কুহক সে কুহকেই থেকে যায়। যথাযথ আইন প্রয়োগ এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্ধ হতে পারে নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি, শ্লীলতাহানি, বাল্যবিবাহ, মানসিক নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপ এবং নানা ধরনের প্রতারণামূলক নির্যাতন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নারী উন্নয়নের বিষয়ে তৎপর। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতার মধ্য দিয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে সহজ হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন নারী হলেও শত বাধাবিপত্তি এবং ১৯ বার তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করলেও দমিয়ে রাখতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছেশক্তি এবং মেধার প্রাজ্ঞতা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দেশকে। তিনি একজন নারী হলেও তিনি সর্বোপরি একজন ‘মানুষ’। সমাজের প্রতিটি নারীকে ‘মানুষ’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। শ্রেণিকক্ষে ছাত্রবৃন্দের এই মন্ত্রে শিক্ষা দেই, আমরা পশু নই, পুরুষ, পুরুষ নই, ‘মানুষ’। সমাজের সকল স্তরে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। যেদিন থেকে এই সমাজে নারীকে ‘মানুষ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, সেদিন থেকে কোনো নির্যাতন এবং বৈষম্য থাকবে না।
শুরু করেছিলাম বেগম রোকেয়ার একটি উক্তি দিয়ে। শেষ করব নারী ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদান রাখায় ‘গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ’ এবং ‘প্লানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কারপ্রাপ্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি উক্তি দিয়ে। উক্তিটি ছিল এ-রকমÑ “মূল জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী। নারীদের উন্নয়নের বাইরে কখনও প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। কোনো দেশই মূল জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন করতে পারে না। সমাজের সবাইকে সঙ্গে করেই আমাদের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।” সমাজের সর্বস্তরে নারীদের ‘মানুষ’ ভাবা এখন সময়ের দাবি। সকলে সমস্বরে বলি “নারীরা ‘পরগাছা’ নয় ‘মানুষ’।” কারণ তাদের ও সাধ-আহ্লাদ আছে, আছে মতপ্রকাশের অধিকার। আছে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস গ্রহণের অধিকার।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, লোক প্রশাসন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply