ডিসেম্বরে দৃশ্যমান হবে পদ্মাসেতুর পুরো অবকাঠামো

Spread the love

উত্তরণ ডেস্ক: পিয়ারের ওপর পদ্মাসেতুর ৩৫তম স্প্যান সফলভাবে বসানো হয়েছে। ৩৪তম স্প্যান বসানোর সাত দিনের মাথায় গত ৩১ অক্টোবর দুপুরে ৮ ও ৯ নম্বর পিয়ারের ওপর এটি বসানো হয়। এতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৫ কিলোমিটারের বেশি। আর মাত্র প্রায় ১ কিলোমিটারে ৬টি স্প্যান বসে গেলে পদ্মাসেতুর পুরো অবকাঠামো দৃশ্যমান হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এ কাজ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। সংশোধিত সময় অনুযায়ী ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পদ্মাসেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
পদ্মাসেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের জানান, গত ৩১ অক্টোবর দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে ৩৫তম স্প্যানটি পিয়ারের ওপর সফলভাবে বসিয়েছেন প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা। এর আগে ৩১ অক্টোবর সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টিল ট্রাস জেটি থেকে স্প্যানটি নিয়ে যাওয়া হয় নির্দিষ্ট পিয়ারের কাছে। এরপর স্প্যানটি ২টা ৪৩ মিনিটে পিয়ারের ওপর সফলভাবে বসানো হয়।
পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৩৫তম স্প্যানটি ৩০ অক্টোবর বসানোর কথা ছিল। পদ্মা নদীতে নাব্য সংকটের কারণে ওইদিন স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়নি।
নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, এ পর্যন্ত পদ্মাসেতুতে ৩৫টি স্প্যান বসানো হয়েছে। এতে সেতুটির ৫ হাজার ২৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। বাকি রয়েছে ৬টি স্প্যান বসানোর কাজ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সব স্প্যান বসানোর কাজ শেষ করা হবে। সেই অনুযায়ী ৬ নভেম্বর পিয়ার ২ ও ৩ নম্বরে ৩৬তম স্প্যান, ১১ নভেম্বর পিয়ার ৯ ও ১০ নম্বরে ৩৭তম স্প্যান, ১৬ নভেম্বর পিয়ার ১ ও ২ নম্বরে ৩৮তম স্প্যান, ২৩ নভেম্বর পিয়ার ১০ ও ১১ নম্বরে ৩৯তম স্প্যান, ২ ডিসেম্বর পিয়ার ১১ ও ১২ নম্বরে ৪০তম স্প্যান এবং ১০ ডিসেম্বর সর্বশেষ ৪১ নম্বর স্প্যান বসবে ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের ওপর।
তিনি আরও জানান, সংশোধিত সময় অনুযায়ী ২০২১ সালের জুনের মধ্যে পদ্মাসেতুর কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। মোট ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৫টি স্প্যান বসে গেছে। বাকি রয়েছে ৬টি স্প্যান বসানোর কাজ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেগুলো বসানোর কাজও শেষ করা হবে। অন্যদিকে রোডওয়ে সø্যাব ও রেলওয়ে সø্যাব বসানোর কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে সø্যাবের মধ্যে বসানো হয়েছে ১ হাজার ১৬৬টি। ২ হাজার ৯৬৯টি রেলওয়ে সø্যাবের মধ্যে বসানো হয়েছে ১ হাজার ৬৪৬টি। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে ভায়াডাক্টের মোট ৪৮৪টি সুপারগার্ডারের মধ্যে ২৫৮টি বসানো হয়েছে।
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণে কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) এবং নদীশাসনের কাজ করছে সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন।
৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এই সেতুর মূল কাঠামো।

Leave a Reply