সেদিনের বাংলাদেশ বনাম আজকের বাংলাদেশ প্রেক্ষিত : ধর্ষণমুক্ত সমাজ

Spread the love

সাদেকুর রহমান চৌধুরী পরাগ: শুরুর আগের কথা
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। মূল রচনায় যাবার আগে তিনটি ঘটনার কথা উল্লেখ করছি।
ঘটনা এক : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পূর্ব দেলুয়া গ্রামের পূর্ণিমা রাণী শীল। ২০০১ সালের ৮ অক্টোবর রাতে ২৫/৩০ জনের একটি দল পূর্ণিমাদের বাড়িতে হামলা করে। তখন সে দশম শ্রেণির ছাত্রী। নৌকায় ভোট দেওয়ার অপরাধে ঐ রাতে কিশোরী পূর্ণিমাকে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়। মেয়েকে বাঁচাতে অসহায় মা একসময় বলে ওঠে, আমার মেয়েটা ছোট, তোমরা একজন একজন করে আসো…। কতটা অসহায়ত্ত থেকে একজন মা’কে সেদিন এ-কথা বলতে হয়েছিল।
ঘটনা দুই : রাজশাহীর পুঠিয়ার দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মহিমা অনেক স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করত। সেই মহিমাকে স্থানীয় জামাতি দুর্বৃত্তরা বাড়ির পাশের ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং তার ভিডিও ছড়িয়ে দেয়। লজ্জায় অপমানে মহিমা আত্মহত্যা করে। সেই সময় ঘটনা তদন্ত করতে ঢাকা থেকে বিশিষ্ট নাগরিকদের একটি প্রতিনিধি দল গিয়েছিল মহিমাদের বাড়িতে, ভীত-সন্ত্রস্ত বাবা-মা’কে সাহস জোগাতে।
ঘটনা তিন : ভোলা জেলার লালমোহন থানার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের অন্নদা প্রসাদ গ্রামের মানুষ কখনোই ভুলতে পারবে না ২০০১ সালের ২ অক্টোবরের বিভীষিকাময় রাতটির কথা। প্রায় ৮/১০টি দলে বিভক্ত শত শত নরপশু পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় অন্নদা প্রসাদ গ্রামে। অর্ধশতাধিক নারী সেই রাতে ধর্ষণের নির্মম শিকার হয়। এর মধ্যে ১০ বছরের শিশু থেকে ৬৫ বছরের বৃদ্ধাও বাদ পড়েনি।
সেদিন সবাই যখন প্রাণভয়ে পালাচ্ছিল তখন ক্রাচে ভর দিয়ে পালাতে পারেনি সেই গ্রামের শেফালি। এর আগে বাবরি মসজিদকে ঘিরে যে নারকীয় দাঙ্গা হয়েছিল, সেই দাঙ্গায় পা হারিয়েছিল শেফালি। ক্ষেতের আড়ালে আশ্রয় নেয় সে। সেখান থেকে ধরে নিয়ে যায় পঙ্গু শেফালিকে। পাশবিক গণধর্ষণে চার দিন অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে সে। তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী, আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় পরবর্তীতে শেফালিকে কৃত্রিম পা সংযোজন করে দেওয়া হয়।

শুরুর কথা
যখন একটি রাষ্ট্রে অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ শাসন-ব্যবস্থা থাকে, দীর্ঘসময় ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু থাকে, কোনো ধরনের জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন অনুপস্থিত থাকেÑ তখন সেই রাষ্ট্রে পেশিশক্তির উত্থান ঘটে, সন্ত্রাস ও মাদকের বিস্তার ঘটে, দুর্নীতি ও কালো টাকার দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়, সেই সঙ্গে বেড়ে যায় বিভিন্ন ধরনের নারী নিপীড়ন-নির্যাতন ও বিকৃতির ঘটনা। দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশকে সেইরকম একটি দীর্ঘ অন্ধকার সময় পাড়ি দিতে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে, এক রকম শূন্য থেকেই দেশ বিনির্মাণের কাজটি শুরু করতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ফলে সব উন্নয়ন কাজ একই সময়ে করা কিংবা সমাজকে সব জঞ্জাল থেকে একই সময়ে মুক্ত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আর বাস্তবিকপক্ষে সেটি সম্ভবও না। তাই আশু করণীয় ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেই তাকে সরকার পরিচালনা করতে হয়েছে এবং হচ্ছে। তার ফলও আমরা দেখতে পাচ্ছি। নিম্নআয়ের দেশ থেকে বাংলাদেশ একটি মধ্যমআয়ের দেশে পরিণত হতে চলেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সফলতা আসছে। আর এই অগ্রগতির ফলে শিক্ষাদীক্ষার পাশাপাশি আমাদের সংবেদনশীলতাও বেড়েছে। আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে একটি উন্নত মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারব। আর এটা সম্ভব হয়েছে জাতির পিতার কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা এই রাষ্ট্রটি পরিচালনা করছেন বলে। তিনি বিশ্বাস করেন, নারী-পুরুষের সম্মিলিত শক্তি যদি কাজ না করে তাহলে কখনোই একটি দেশ এগুতে পারে না। নারীর মর্যাদা যদি প্রতিষ্ঠিত করা না যায়, তাহলে সেই সমাজ কখনও সভ্য সমাজ হিসেবে গড়ে ওঠে না। সেজন্য নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য দূর করতে এবং সমাজ বিনির্মাণে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১, যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৯, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন-২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে স্থানীয় সরকারসহ সকল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীর জন্য কর্মবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এবং নারীর প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন করা হয়েছে।
কিন্তু এই সকল অর্জন মøান হয়ে যায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনায়। এইসব বর্বরোচিত ঘটনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বের বুকে যখন মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, মানুষের মাথাপিছু আয় যখন বাড়ছে, বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে বহির্বিশ্বেও যখন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তখন এ-ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য লজ্জাজনক। জাতি হিসেবে বিশ্বের কাছে আমরা ছোট হয়ে যাই। পাশাপাশি এসব ঘটনায় দেশের মানুষের মধ্যে শঙ্কা ও আস্থাহীনতা তৈরি করে। এর ফলে আইনের শাসনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। যিনি জনগণের জন্য রাজনীতি করেন, জনগণের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন, সব সময় জনগণের কথা ভাবেনÑ তিনি কখনোই এসব ঘটনায় নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকতে পারেন না। পারেন না বলেই এসব ঘটনায় আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতি। ধর্ষক যে-ই হোক তার বিচার করতে তিনি বদ্ধপরিকর।
তবে এখানে লক্ষণীয় যে, জনমনের ক্ষোভকে পুঁজি করে কোনো কোনো মহল জল ঘোলা করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। ধর্ষণের বিচার চেয়ে তারা অগণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার উৎখাত করতেই বেশি আগ্রহী। কিন্তু বিএনপি-জামাত যখন ক্ষমতায় ছিল তখনকার চিত্র আর এখনকার চিত্রের মধ্যে কতটা ফারাক সে-বিষয়টি হয়তো অনেকের মাথায় নেই। সে-সময় ধর্ষণকে রাজনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ব্যবহার করা হতো বিরুদ্ধ মত দলনে। এমনকি ভোট দেওয়ার অপরাধে নিরীহ নারীদের ধর্ষণ করা হতো। আর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অহরহ ধর্ষণের ঘটনা তো ঘটতই। সে-সময়কার পত্র-পত্রিকাগুলো ঘাঁটলেই এ চিত্রটি দেখতে পাওয়া যায়। চলুন তবে দেখে আসি কেমন ছিল সেদিনের বাংলাদেশ।

কেমন ছিল সেদিনের বাংলাদেশ?
সাম্প্রতিককালে কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষিতে অতীতের অনেক কথাই মনে পড়ল। অনেকে হয়তো সেসব ঘটনা ভুলে গেছে। এখনকার প্রজন্ম হয়তো সেসব ঘটনার কথা জানেই না। ২০০১ সালের অক্টোবর মাসজুড়ে এক নারকীয় তা-ব ঘটে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। অনেক কিশোরী, অনেক নারীকে তখন গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে।

  • ভোলা জেলার লালমোহন থানার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের অন্নদা প্রসাদ গ্রামের ৫০ জন নারী একই দিনে, ভেন্ডারবাড়ি পুকুরপাড়ে মা ও শিশু, ঠাকুরগাঁও বামনপাড়া গ্রামে মালা রানী ও পরীবালা গণধর্ষণের শিকার হয়। দিনাজপুরের ধনগ্রামের মালা রানীকে শ্লীলতাহানি এবং গীতা রানীকে বিবস্ত্র করা হয়।
  • ফরিদপুরে ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের কলেজ পড়–য়া কন্যাকে মায়ের সামনে রাত ১টা পর্যন্ত ধর্ষণ করা হয়। এরপর তাকে বাড়ি থেকে অন্যত্র নিয়ে পুনরায় গণধর্ষণ করে ভোরবেলা আহত অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায়।
  • বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের রাজারচর গ্রামের পবিত্র মিস্ত্রির স্ত্রী, মেয়ে ও বোনকে গণধর্ষণ করে। গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে দুই ভাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। একই উপজেলার আশককাঠিতে ২৩ বছরের এক গৃহবধূ, একজন স্কুলছাত্রী, একজন শিক্ষকের মেয়ে, একই গ্রামের ২০ বছরের তরুণী, উত্তর চাদসী গ্রামের নববিবাহিত স্ত্রী, কাপালি গ্রামের ১৪/১৫ বছরের তিন কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয়। একই জেলার উজিরপুর থানার সাতলা গ্রামের এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
  • বাগেরহাটের কোড়ামারা গ্রামের নারায়ণ দাসের পুত্রবধূকে তার সামনেই ২০/২৫ জন গণধর্ষণ করে। মোল্লারহাট উপজেলার বড়গাওলা গ্রামের সুনীতি মালাকার এবং তার কন্যা টুলুসহ তিন মহিলাকে ২০/২৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে গণধর্ষণ করে।
  • কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৭/৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। দৌলতপুরের গুড়ারপাড়া গ্রামের গৃহবধূ আনোয়ারা বেগমকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
  • যশোরের শার্শা থানার গাতিপাড়া গ্রামের দুই সন্তানের জননী আঞ্জুয়ারাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
  • মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নহাটা গ্রামে দুই সংখ্যালঘু ছাত্রীকে সারারাত গণধর্ষণ করে একটি মাঠে ফেলে রেখে যায়।
  • কেরানীগঞ্জের বেলনা গ্রামে পাঁচ তরুণী ও মহিলা পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়। তাদের বয়স ১৪ থেকে ৪৮ বছরের মধ্যে।
  • নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামের স্টিফান মারান্দ্রির স্ত্রী ধর্ষিত হয়।
  • বরগুনার পাথরঘাটার হোগলাপাশা গ্রামের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়।
  • মুন্সিগঞ্জের পঞ্চশাল দশকানির বাসিন্দা নওয়াব আলীর তিন কন্যা গণধর্ষণের শিকার হয়।
  • বান্দরবান জেলা সদরের তমপ্রুপাড়ার মারমা তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয়। কন্যার সম্ভ্রম বাঁচাতে গিয়ে পিতা ব্র মংউ গুলিবিদ্ধ হয়।

২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের এক মাসের মধ্যেই এসব নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংঘটিত হয়। তাদের অপরাধ ছিল তারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিল। তাদের অপরাধ ছিল তার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চেয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ২০০২ সালে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত নাগরিক কমিটির উদ্যোগে সেসব ঘটনা উদ্ঘাটনে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ শীর্ষক একটি কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। তখনকার পত্র-পত্রিকা খুললেই যে কেউ এসব ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারবে।

কেমন আছে আজকের বাংলাদেশ
বিচারের দীর্ঘসূত্রতা, সুরক্ষা না পাওয়া, সামাজিকভাবে নিগৃহীত হবার শঙ্কাসহ নানা কারণে ধর্ষণের বিচার বাধাগ্রস্ত হয়। এই উপলব্ধি থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার এ-বিষয়টি নিয়ে সচেতন রয়েছে।
আজকের বাংলাদেশে ভোট দেওয়ার অপরাধে কিংবা রাজনৈতিক বিরুদ্ধমত দলনের হাতিয়ার হিসেবে কিংবা ধর্মীয় সংখ্যালঘু হবার কারণে ধর্ষণের ঘটনা বন্ধ হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে দেশ ধর্ষণমুক্ত এখনও হয়নি। তবে নারী ধর্ষণে হার ক্রমশ কমে আসছে। অধিকার নামে একটি গবেষণা সংস্থার হিসাব অনুসারে ২০০২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত

নারী ধর্ষণের চিত্রটি এ-রকম
উপরের ছকটি থেকে এটি পরিষ্কার যে নারী ধর্ষণের সংখ্যা বিএনপি-জামাত সরকারের তুলনায় কমে এসেছে। তবে কমে আসাটাই বড় কথা নয়। সংখ্যা যা-ই হোক-না-কেন ধর্ষণের যে কোনো ঘটনাই উদ্বেগজনক এবং কমে গেছে বলে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার কোনো অবকাশ নেই। শিশু ধর্ষণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছেÑ এটিও সমানভাবে উদ্বেগজনক।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত কঠোর মনোভাব নিয়ে যে কোনো মূল্যে একে জিরো লেভেলে নামিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে তার উদ্যোগে গত ২০০০ সালের ১২ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ-ের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ-ের বিধান দেওয়া দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। শুধুমাত্র আইন সংশোধন করেই তিনি থেমে থাকেননি। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে তিনি কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন বিচারের দীর্ঘসূত্রতা পরিহারের। ছয় মাসের মধ্যে ধর্ষণের বিচার নিষ্পত্তি করার জন্যও তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু-কন্যার কঠোর মনোভাব এবং জিরো টলারেন্স নীতির কারণে অচিরেই বাংলাদেশ ধর্ষণমুক্ত হবে।
লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

Leave a Reply