বঙ্গবন্ধুর সাথে অবিস্মরণীয় স্মৃতি

আ ব্দু ল মা লে ক ভূ ঞা:  মানুষের জীবনে কিছু অবিস্মরণীয় স্মৃতি থাকে। কোনো কোনো স্মৃতি শ্লাঘার, আনন্দের, গৌরবের। চিত্তমাঝে তা চির অমøান হয়ে রয়। আমার জীবনে ঐরূপ একটি গৌরবদীপ্ত স্মৃতি বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দাঁতের চিকিৎসা করার সুযোগ। যে-সময় আমার এই সুযোগ ঘটে তখন তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সদ্য স্বাধীন দেশকে সুখী, সুন্দর, উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সদাব্যস্ত। এই মহামানবের চিকিৎসা করতে গিয়ে আমার যা অভিজ্ঞতা তাতে আমি অভিভূত, মুগ্ধ। তার মহানুভবতার কথা আজীবন আমার স্মৃতিপটে ভাস্মর হয়ে থাকবে।
১৯৭৪ সালে সদ্য বিডিএস (Bachelor of Dental Surgery) পাস করে In Service Training করছি ঢাকা ডেন্টাল কলেজে। কলেজে শুনলাম বঙ্গবন্ধুর দাঁতে সমস্যা হচ্ছে। ডেন্টাল কলেজের Principal-এর নিকট সংবাদ এসেছে, তার চিকিৎসার জন্য একটি Team গণভবনে যাবে। প্রফেসর ডা. মঞ্জুরুল হক তখন Principal। সবাই উৎসুক হয়ে আছেন কার ডাক পড়ে এই মহান কাজের জন্য। এরপর শুনলাম গণভবন থেকে নির্দেশ এসেছে এই ঞবধস-এ দুজনের বেশি ডাক্তার যাওয়া যাবে না।
পরদিন Principal Sir  আমাকে ডেকে বললেন, ‘মালেক, আজ দুপুর তিনটায় বঙ্গবন্ধুর চিকিৎসার জন্য গণভবনে যেতে হবে। তুমি আমার সাথে যাবে। তুমি বাসায় চলে যাও। দুইটার মধ্যে আমার বাসায় চলে এসো। তোমাকে নিয়ে আমি বঙ্গবন্ধুর চিকিৎসার জন্য যাব।’ আমি খুব পুলকিত। বাসায় এসে যথাসময়ে স্যারের আজিমপুরের সরকারি কোয়ার্টারে পৌঁছলাম। যথাসময়ে গণভবন থেকে একটি গাড়ি স্যারের বাসায় এলো।
আমরা দুজন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি (Hand Instruments) সহকারে রওনা হলাম। গাড়িটি দেখলাম গধৎপরফরং ইবহুং। সাদা ধবধবে কাপড়ের আলগা কাভার দেওয়া। আমরা চুপচাপ বসে রইলাম। আজিমপুর থেকে গণভবনে আসতে বেশি সময় লাগল না। আমরা বিশ্রাম রুমে বসলাম।
তার আগে দেখলাম অফিসে প্রবেশের পরই তিনজন অফিসার একটা ডেস্কে বসে আছেন। আমাদের বিশ্রাম রুম দেখিয়ে বললেন, ‘আপনারা এখানে অপেক্ষা করুন। বঙ্গবন্ধু খাওয়া-দাওয়ার পর বিশ্রাম নিচ্ছেন। উনার বিশ্রাম শেষে আমরা আপনাদের নিয়ে যাব।’ কিছুক্ষণ পর আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো দোতলায় বঙ্গবন্ধুর কাছে তার বিশ্রাম কক্ষে। সেখানে আগেই একটা ডেন্টাল ইউনিট (Dental Unit; Dental Instrument Chair) বসানো হয়েছিল।
এর একটি ইতিহাস আছে। ৬টি Dental Unit স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বে, পূর্ব পাকিস্তান সরকারকে কোনো একটি সংস্থা অনুদান দিয়েছিল। এই ডেন্টাল ইউনিটগুলো জাহাজজাত করার পর দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারেনি। জাহাজ চলে গিয়েছিল বৈরুত বন্দরে এবং ওখানেই তারা যন্ত্রপাতি ফেলে রেখে গিয়েছিল। যুদ্ধ থামার পর কোনোভাবে আবার জাহাজজাত হয়ে ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল দুটি ডেন্টাল ইউনিট। বন্দরেই পড়ে ছিল অনেকদিন। পরে যথানিয়মে এ দুটি ডেন্টাল ইউনিট ঢাকার কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে আসে। ওখান থেকে একটি ইউনিট সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বসানো হয়েছিল। একটি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারেই পড়েছিল। পরে প্রশাসনিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে ঐ ডেন্টাল ইউনিটটি বঙ্গবন্ধুর চিকিৎসার জন্য তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব ডা. টি. হোসেন সাহেব গণভবনে স্থাপন করার নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, ঐ ধরনের ডেন্টাল ইউনিট আমরা তখনকার ডাক্তাররা এর পূর্বে আর দেখিনি এবং দাঁতের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করিনি।
আমার খুব শিহরণ হচ্ছে। ‘জেলের তালা ভাঙবো, বঙ্গবন্ধুকে আনবো’Ñ এই সেøাগান দিতে দিতে ১৯৬৯ সালে তার জন্য রাস্তায় নেমেছিলাম। ’৭০-এর নির্বাচনে যিনি ছিলেন প্রাণপুরুষ। তারপর মহান মুক্তিযুদ্ধে পুরো ’৭১ সালে যাকে সামনে রেখে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিÑ তার সামনে আমি দাঁড়িয়ে আছি। তাকে দেখছি এ যেন বিশ্বাসই হতে চাচ্ছিল না। আমরা দুজনই এগিয়ে গেলাম। শ্যামবর্ণের এক সৌম্য পুরুষ। বঙ্গবন্ধু ডেন্টাল চেয়ারে শুয়ে পড়লেন।
স্যার বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী অসুবিধা হয়?’ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘আমার দাঁতে ব্যথা, খেতে কষ্ট হয়। আমার দাঁতগুলি মনে হয় একটু নড়েও। গত রাতে ঘুমেরও ব্যাঘাত হয়েছে।’ আমরা দেখলাম রাতে নির্ঘুমের ছাপ চোখেমুখে পড়েছে। ‘দেখেন তো ডাক্তার সাহেব আমার দাঁতে কী হয়েছে’ বঙ্গবন্ধু বললেন। আমি ইনস্ট্রুমেন্ট ট্রে থেকে ডেন্টাল মিরর ও একটি প্রব বের করে দিলাম। স্যার মুখগহ্বরের ভিতর পরীক্ষা করলেন। তারপর বললেন, ‘আপনার Gingivitis with Periodontitis । এটি একটি মাড়ির প্রদাহ। এখন মাড়িতে একটু পুঁজ জমে গেছে, যার জন্য ব্যথা হচ্ছে। আমি আজ আপনাকে একটু খাওয়ার ওষুধ দিব। একটা ওষুধ দিয়ে কুলিও করতে দিব। এর দুদিন পর দাঁতগুলোকে Scaling করব। এতেই সুস্থ হয়ে যাবেন। কিন্তু দাঁতের আর একটু নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। নিয়মিত দাঁত মাজতে হবে এবং খাওয়ার পর ভালো করে কুলি করতে হবে। তাতেই ভালো থাকবেন।’ এই বলেই আমরা তার কাছ থেকে চলে এলাম। এই পুরো সময়টায় ডা. টি. হোসেন সাহেব তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব আমাদের সামনে ছিলেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কক্ষ থেকে বাইরে এসে চিকিৎসাপত্র লিখে দিলাম এবং খাওয়ার নিয়ম বুঝিয়ে দিলাম। চিকিৎসাপত্রে ছিল Tetracycline Cap 250mg একটা করে ছয় ঘণ্টা পরপর দিনে চারবার। Metronidazol Tab 400mg একটা করে দিনে তিনবার, খাওয়ার পর। Paracitamol Tab  দুবার খাওয়ার পর। একটা Mouth Wash খাওয়ার পর, এটা দিয়ে দুবার কুলি করতে হবে। আর ঐ দিন একটা Ointment আমরা মুখে লাগিয়ে দিয়ে এসেছিলাম। এই Ointment-এর সাথে আরও কিছু ওষুধ সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে অনুদান হিসেবে দিয়েছিলেন বুলগেরিয়া। এটা আমরা সাথে নিয়ে গিয়েছিলাম। এই ওষুধ বুঝিয়ে দিয়ে আমরা চলে এলাম এবং বললাম, ‘আমরা দুইদিন পর আবার আসবো।’ তখন অফিস থেকে একটি সময় বলে দেওয়া হলো। দুদিন পর আমরা আবার ঐ গাড়ি ও ড্রাইভারের সাথেই গণভবনে গেলাম। ঐ দিন সরাসরি আমাদের বঙ্গবন্ধুর কাছে নিয়ে গেলেন। বঙ্গবন্ধুকে আজ বেশ সপ্রতিভ ও হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। উনি আমাদের কুশলাদি জিজ্ঞেস করলেন। স্যার তাকে নিয়ে ডেন্টাল চেয়ারে বসালেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, ‘আজ কেমন আছেন?’ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘আজ বেশ ভালো।’ স্যার বললেন, ‘আজ আমি আপনার মুখের ভিতর যন্ত্র দিয়ে সামান্য চিকিৎসা করব।’ আমাদের সামনে ডা. টি. হোসেন স্যার ছিলেন। স্যার তাকেও চিকিৎসা সম্পর্কে বললেন। স্যার বঙ্গবন্ধুকে ডেন্টাল চেয়ারে আধশোয়া অবস্থায় শোয়ালেন। আমি যন্ত্রপাতি বের করে দিলাম। একটা মিরর, ৩টা Scaler, একটা Chisel। স্যার ঐ যন্ত্রের সাহায্যে খুবই হালকাভাবে মুখের অর্ধেক Scaling করে আজকের চিকিৎসা শেষ করলেন। স্যার বললেন, ‘এবার মুখ ধুয়ে ফেলুন।’ এরপর পূর্বদিনের মতো আমাদের সাথে নিয়ে যাওয়া বুলগেরিয়ার Ointment-টা লাগিয়ে এক মিনিট অপেক্ষা করে কুলি করতে বললেন। অল্পক্ষণ পর আমরা চলে এলাম। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব সাহেবকে বললাম, পূর্বের ওষুধ যথানিয়মে চলবে। আমরা কালকে আবার আসব। আজ দেখলাম অফিসে বেশ ব্যস্ততা, বেশ কয়েকজন লোক অপেক্ষমাণ। পরে শুনেছিলাম, উনারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঐ পর্যায়ের অফিসার।
গাড়িতে এসে আমি মঞ্জুরুল স্যারকে বললাম, ‘স্যার এত হালকাভাবে Scaling করলেন, এতে কাজ হবে? মুখে তো দেখলাম অনেক Tartar (পাথর)।’ স্যার বললেন, ‘বোঝ না, একটু ব্যথা পেলেই অনেক অসুবিধা। এইটা তুমি বুঝবে না। বঙ্গবন্ধু হয়তো আর চিকিৎসা নিতে চাইবেন না।’ আমি বিষয়টা অনুমান করলাম। স্যারকে আজিমপুর নামিয়ে ড্রাইভারই বলল, ‘এই স্যারের বাসা কোথায়? আমি নামিয়ে দিই।’ তাহলে তো ভালো হয়। ড্রাইভার আমাকে ছিদ্দিকবাজারের বাসায় নামিয়ে দিল।
তৃতীয় দিন ড্রাইভার আমাকে আমার বাসা থেকে তুলে মঞ্জুরুল স্যারের আজিমপুর কোয়ার্টারে গিয়ে স্যারকে নিয়ে আমাদের পূর্বনির্ধারিত সময়ে গণভবনে পৌঁছে দিল। একজন অফিসার আমাদের দোতলায় নিয়ে একটি কক্ষে অপেক্ষা করতে বললেন। অল্পক্ষণ পর ঐ অফিসার ডেকে নিয়ে ডেন্টাল চেয়ার বসানো রুমে নিয়ে সোফায় বসতে বললেন। এর প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর বঙ্গবন্ধু এলেন, আমরা দাঁড়ালাম। বঙ্গবন্ধু আমাদের সোফায় বসতে বললেন, আমরা দাঁড়িয়েই রইলাম। উনি একটু ইতস্তত করে ডেন্টাল চেয়ারে বসলেন। স্যার এগিয়ে গিয়ে সার্জনস স্টুলে আর আমি এসিস্টেন্ট স্টুলে বসলাম। মঞ্জুরুল স্যার বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘স্যার আজ কেমন আছেন? এখন একটু ভালো বোধ করছেন?’ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘হ্যাঁ, এখন অনেকটা ভালো। ব্যথাটা অনেক কমে গেছে।’ আমরা খুব স্বস্তিবোধ করলাম। মঞ্জুরুল স্যার বঙ্গবন্ধুকে ডেন্টাল চেয়ারে আধশোয়া অবস্থায় শোয়ালেন। আমি ইনস্ট্রুমেন্টগুলো ছোট ঝঃবৎরষরুবৎ থেকে বের করে ডেন্টাল চেয়ারের গড়াধনষব টেবিলে রাখলাম। স্যার প্রথমে ডেন্টাল আয়না ও প্রব দিয়ে মুখের ভিতরে আলতোভাবে দেখে পরীক্ষা করে বললেন, ‘Inflamation (প্রদাহ) অনেক কমে গেছে।’ এরপর যথাযথ যন্ত্রপাতি দিয়ে মুখের বাকি অংশের Scaling খুব খুঁটে খুঁটে নম্রভাবে সম্পন্ন করলেন। এতে প্রায় ১৫-২০ মিনিট লেগেছিল। বঙ্গবন্ধু তার চিকিৎসায় খুব সহযোগিতা করলেন। সাধারণত মানুষ দাঁতের চিকিৎসায় এত সহযোগিতা করে না। চিকিৎসা শেষে স্যার বঙ্গবন্ধুকে চেয়ারের Switch টিপে পূর্ণভাবে বসিয়ে দিলেন এবং বললেন, ‘স্যার একটু কুলকুচা করেন।’ বঙ্গবন্ধু পাশে রাখা গ্লাসের পানি দিয়ে তিন-চারবার কুলি করলেন। এর দুই মিনিট পর আমাদের সাথে নেওয়া বুলগেরিয়ার মলমটা দাঁতের মাড়িতে ভালোভাবে লাগিয়ে দুই মিনিট মুখ বন্ধ রাখার অনুরোধ করলেন। বঙ্গবন্ধু সেভাবেই করলেন। দুই মিনিট পর স্যার পাশে রাখা গ্লাস থেকে আবার কুলি করার অনুরোধ করলেন। এরপর স্যার ডেন্টাল চেয়ারের Flexible Instrument Tray-টা সরিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে চেয়ার থেকে উঠে আসার অনুরোধ করলেন। বঙ্গবন্ধু চেয়ার থেকে উঠে মুখ মুছে তার নির্ধারিত চেয়ারে বসলেন। স্যার ও আমি ইতোমধ্যে পাশের রুমে গিয়ে বেসিনে ভালোভাবে হাত-মুখ ধুয়ে আবার বঙ্গবন্ধুর টেবিলের সামনের চেয়ারে বসলাম। বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘দাঁতের চিকিৎসায় এতক্ষণ মুখ হা করে থাকতে হয়, এইটা একটু অসুবিধা।’ স্যার আরও বললেন, ‘স্যার এই পর্যায়ে আপনার চিকিৎসা শেষ, অর্থাৎ কষ্টের শেষ। আমি তিন দিন পর এসে আপনাকে দেখে যাব। আর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দিব।’ রুম থেকে আমরা বেরিয়ে এসে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারকে চিকিৎসাপত্র বুঝিয়ে দিলাম এবং আরও তিন দিন এই ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলাম। আমরা আর কোথাও দেরি না করে ঐ গাড়িতে এসে বসলাম। আমরা খুব স্বস্তিবোধ করছিলাম। গত তিন দিন বঙ্গভবনে গিয়ে এর অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করছিলাম। বঙ্গবন্ধু কত অমায়িক, কত হাস্যোজ্জ্বল। এত কাজের মাঝেও আমাদের সাথে কত সহযোগিতা, কত অমায়িক ব্যবহার করলেন। আমরা এই পুরো সময়টায় খুব অভিভূত ও রোমাঞ্চিত হয়েছি তার আচরণ-ব্যবহারে। আল্লাহ্র কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম। বঙ্গবন্ধুর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম। এই আলাপ করতে করতে আজিমপুর পৌঁছে গেলাম। এরপর ড্রাইভার আমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে চলে গেল। তিন দিন পর চতুর্থ দিন আমরা গণভবনে গেলাম। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা Checkup-এর পর অভ্যর্থনা কেন্দ্রে বসলাম। ইতোমধ্যে গণভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনেকেই আমাদের চিনে ফেলেছেন। আমরা বঙ্গবন্ধুর ডাক্তার। তাই অফিসের সবাই বেশ সমীহ করছে। আজও একজন ব্যক্তিগত অফিসার আমাদের নিয়ে উপরে বঙ্গবন্ধুর চিকিৎসা রুমের পাশের ঘরে বসালেন। প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর ঐ ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আমাদের চিকিৎসা কক্ষে প্রবেশ করিয়ে তার দায়িত্ব শেষ করলেন। আমরা রুমে গিয়ে দেখি বঙ্গবন্ধু তার চেয়ারে বসে মনোযোগ দিয়ে কি একটা পড়ছেন। আমাদের পায়ের শব্দ শুনে আমাদের দিকে দৃষ্টি দিলেন এবং বললেন, ‘ডাক্তার সাবরা কেমন আছেন? ভালো তো?’ আমি এ সম্বোধনে অভিভূত হয় গেলাম। হয়তো স্যারও। আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম, বঙ্গবন্ধু উঠে Dental Chair-এর দিকে এগিয়ে গেলেন, Chair-এ বসলেন। আমরা আমাদের নির্দিষ্ট স্টুলে বসলাম। মঞ্জুরুল স্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘স্যার আজ কেমন আছেন? এখন ব্যথা আছে? খেতে পারছেন?’ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘হ্যাঁ, এখন আমি বেশ ভালো আছি। খেতে অসুবিধা হচ্ছে না।’ আমরা বেশ স্বস্তিবোধ করলাম। স্যার এবার বললেন, ‘আমি আবার আপনাকে আধশোয়া অবস্থায় নিয়ে আপনার মুখগহ্বর ও মাড়ি পরীক্ষা করব।’ স্যার সেভাবে বঙ্গবন্ধুকে চেয়ারে আধশোয়া অবস্থায় শোয়ালেন। আমি যন্ত্রপাতি বের করে দিলাম। স্যার পরীক্ষা করে বললেন, ‘বেশ ভালো আছেন। এখন প্রদাহ নেই।’ স্যার আরও বললেন, ‘আমি আপনার মাড়িতে একটু ওষুধ লাগিয়ে দিব।’
যথারীতি ওষুধ লাগিয়ে কুলি করিয়ে মঞ্জুরুল স্যার বললেন, ‘আপনি উঠে আসুন, মুখ মুছে নিন।’ ইতোমধ্যে ঐ রুমে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আরও চারজন প্রফেসর (ডাক্তার) এসে বসেছেন। এর মধ্যে একজন প্রফেসর সাকুর স্যার। Radiology বিভাগের অধ্যাপক। বঙ্গবন্ধু উঠে সাকুর স্যারকে দেখে সামনে এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘সাকুর সাব কেমন আছেন?’ বুঝলাম সাকুর স্যার পূর্ব পরিচিত। সাকুর স্যার ডাক্তার হলেও খুব সংস্কৃতমনা মানুষ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদের সংস্কৃতি সপ্তাহে প্রফেসরদের নিয়ে একটি নাটকে তাকে অভিনয় করতে আমি দেখেছি। পরস্পর কুশলাদি বিনিময়ের পর বঙ্গবন্ধু স্যারকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘মঞ্জুর সাব আপনার চিকিৎসা শেষ?’ স্যার বললেন, ‘১৫ দিন পর এসে Checkup করে যাব।’ বঙ্গবন্ধু এবার হেসে হেসে বললেন, ‘আপনার চিকিৎসা প্রক্রিয়া দেখে আমার বাড়ি বানানোর অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ছে। রাজমিস্ত্রি প্রথম বলল, ১৫ হাজার ইটা আনান। আবার বলল, আরও ১৫ হাজার ইটা আনান। রাজমিস্ত্রির ১৫ হাজার আর শেষ হয় না। আমি তাকে বললাম, আগে জানলে বাড়ির কাজই ধরতাম না। দাঁতের চিকিৎসার অবস্থাও সে-রকম।’ এতে সমস্ত রুমে খুব হাস্যোজ্জ্বল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় বঙ্গবন্ধুকে সালাম জানিয়ে গণভবন থেকে বিদায় নিলাম। পথিমধ্যে কথা প্রসঙ্গে গাড়ির ড্রাইভার বলল, এই Marcidis Benzsগাড়িটা আগে বঙ্গবন্ধু ব্যবহার করতেন। পরে শুনেছেন পুরনো এই গাড়িটি অনেক তেল খায়। গাড়িটি পুরনো হওয়ার জন্য সমস্ত গাড়িতে সাদা কভার দেওয়া হয়েছে। এই কথা শোনার পর বঙ্গবন্ধু এই গাড়িটি আর কখনও ব্যবহার করেননি। বঙ্গবন্ধু এত মিতব্যয়ী, সচেতন শুনে আমরা অভিভূত হয়ে গেলাম। আমাদের চিকিৎসাটা হাস্যোজ্জ্বল পরিবেশে শেষ হওয়ায় আমরা উৎফুল্ল, আনন্দিত ছিলাম। গাড়ি আজিমপুর এলে স্যারকে কোয়ার্টারে নামিয়ে দিয়ে আমি সিদ্দিকবাজারের বাসায় নামলাম। ড্রাইভারকে আমি ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় দিলাম।
এর ১৫ দিন পর আবার গণভবন থেকে ফোন এলো, বঙ্গবন্ধুকে দেখতে এবার যেতে হবে বিকাল ৫টায় তার ৩২ নম্বরের ধানমন্ডির বাড়িতে। ঐ ড্রাইভারই আমাকে ছিদ্দিকবাজারের বাসা থেকে গাড়িতে উঠিয়ে মঞ্জুরুল স্যারসহ ৩২ নম্বরে নামিয়ে দিল। আমি প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতি Sterilize করে ছোট একটি Sterilizer-এ রেখে দিয়েছিলাম। স্যার ঐ Sterilizer-টি কলেজ থেকে এনে বাসায় রেখে দিয়েছিলেন। আমি ঐ Sterilizer-টি বাসা থেকে তুলে স্যারকে নিয়ে গাড়িতে উঠলাম। আজ আমার অনুভূতি আর একটু অন্যরকম। ৩২ নম্বরের ধানমন্ডির বাসায় যাচ্ছি বঙ্গবন্ধুর চিকিৎসার জন্য। বেশ পুলকিত মনে হচ্ছে। অল্পক্ষণে ধানমন্ডির বাসায় এসে পৌঁছলাম। বাসার প্রবেশমুখে আমাদের পরিচয় দিতে নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রবেশের অনুমতি দিল। Reception-এ এসে পরিচয় ও উদ্দেশ্য জানার পর একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আমাদের দোতলায় নিয়ে এলেন। আমরা দাঁড়ালাম, বঙ্গবন্ধু আমাদের কুশলাদি জিজ্ঞেস করে তার চেয়ারে বসলেন। মঞ্জুর স্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘স্যার এখন কেমন বোধ করছেন?’ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘বেশ ভালো।’ পাশে একটি আরাম কেদারা ছিল। স্যার কেদারাটি দেখিয়ে বললেন, ‘স্যার এখানে এসে বসুন, আমাদের সুবিধা হবে।’ বঙ্গবন্ধু আরাম কেদারায় আধশোয়া অবস্থায় শুলেন। আমি Sterilizer থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বের করে একটি Kidney Disk একটি কাঠের টুলে রাখলাম। স্যার ও আমি দুজন দুই পাশে দাঁড়ালাম। স্যারকে আমি Dental Mirror ও Probe এগিয়ে দিলাম। স্যার বঙ্গবন্ধুর মুখগহ্বরের ভিতর দাঁত ও মাড়ির সব খুঁটিয়ে পরীক্ষা করলেন। তারপর বললেন, ‘আপনার মাড়ির প্রদাহ সেরে গেছে। তবে কোনো কোনো জায়গায় এখনও কিছু কিছু Tartar লেগে আছে, এটা আমি বের করে দিব। তাতে আপনি দীর্ঘদিন ভালো থাকবেন।’ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘আপনি যা বুঝেন।’ আমি মঞ্জুরুল স্যারের হাতে একটি Mirror ও একটি Intradental Scaler তুলে দিলাম। স্যার Intradental Scaler দিয়ে মাঝে যে Tartar ছিল তা আস্তে আস্তে তুলে দিলেন। তারপর সবগুলো মাড়ি হালকাভাবে Currate করে দিলেন। এরপর বঙ্গবন্ধুকে কুলি করতে বললেন, বঙ্গবন্ধু দু-তিনবার কুলি করলেন। মুখ মোছার পর মঞ্জুর স্যার নতুন একটি মাড়ির Ointment সমস্ত মাড়িতে হালকাভাবে লাগিয়ে দিলেন। দুই মিনিট মুখ বন্ধ রাখার অনুরোধ করলেন। দুই মিনিট পর আবার কুলি করে বঙ্গবন্ধু তার আগের চেয়ারে বসে ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে বললেন, ‘মহিউদ্দিন কোথায়? ডাক্তার সাহেবদের চা-নাস্তা দিতে বল।’ বঙ্গবন্ধু আমাদেরও বললেন, ‘আপনারা চা-নাস্তা খেয়ে যাবেন।’ বঙ্গবন্ধুর এই ব্যক্তিগত অ্যাপায়ন ও তদারকিতে আমরা অভিভূত হয়েছিলাম। স্যার বঙ্গবন্ধুকে বললেন, ‘আমরা পরশু আবার আসব।’ ঠিক আছে। পাশের রুমে যেতে ছাদের চারদিক তাকালাম, আমি দেখলাম ছাদের চারদিকে ছোট অনেকগুলো টবে মরিচ গাছ লাগানো। অনেক গাছে থোকায় থোকায় কাঁচামরিচ ধরে আছে। তখন বাজারে কাঁচামরিচের আকাল। কাঁচামরিচের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু বক্তৃতায় যেমন জনগণকে বলতেন, আপনারা আঙিনায় কাঁচামরিচের চাষ করুন। মরিচের অভাব থাকবে না। তেমনি নিজেও তার Practice করতেন। শুধু জনগণকে উপদেশ দিয়েই তার দায়িত্ব শেষ করতেন না। এই বোধটাও আমাকে বেশ অবাক করেছিল। মহিউদ্দিন ভাই আমাদের জন্য চা-বিস্কুটের ব্যবস্থা করে সামনে বসলেন। আমরা তার কুশলাদি জিজ্ঞেস করলাম। আমি মহিউদ্দিন ভাইকে আগে থেকেই চিনতাম। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা। অফিসের পর সর্বক্ষণ তিনি বঙ্গবন্ধুর কাছে কাছে পাশে পাশে থাকেন। এই ফাঁকে আমি আমার ব্যক্তিগত পরিচয় দিলাম। মহিউদ্দিন ভাই, ‘আমার বাড়ি শ্রীনগর।’ শুনে খুশি হলেন। আমি বললাম, ‘আমরা আবার পরশু আসব।’ মহিউদ্দিন ভাই বললেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে বলেছেন?’ স্যার বললেন, ‘হ্যাঁ বলেছি।’ তিনি বললেন, ‘আমি সিকিউরিটি ও অন্যদের বলে রাখব।’ আমরা চলে এলাম।
একদিন পর আবার যন্ত্রপাতি নিয়ে মঞ্জুর স্যার ও আমি ৩২ নম্বরের বাসায় গেলাম। গেটে সিকিউরিটিদের পরিচয় দেওয়ায় আমরা ব্যক্তিগত কর্মকর্তার সাথে উপরে চলে গেলাম। ছাদে দেখলাম মহিউদ্দিন ভাই পায়চারী করছেন আর সাগরকলা খাচ্ছেন। আমাদের দিকে এগিয়ে এসে মৃদু হেসে উপরের রুমে নিয়ে গেলেন। অল্পক্ষণ পর বঙ্গবন্ধু এলেন এবং আজ সরাসরি আরাম কেদারায় গিয়ে বসলেন। আমরা এগিয়ে গিয়ে যন্ত্রপাতি বের করে তার পাশে দাঁড়ালাম। এখানে দাঁড়িয়েই চিকিৎসা দিচ্ছি। স্যার বললেন, ‘আজ কেমন আছেন?’ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘ভালো।’ স্যার Dental Mirror I Probe দিয়ে মুখগহ্বর পরীক্ষা করে আগের দিনের Lotion-টা সমস্ত মাড়িতে আলতো করে লাগিয়ে দিলেন। একটু পরই বঙ্গবন্ধু কুুলি করে উঠে দাঁড়ালেন এবং তার চেয়ারে না বসে চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিলেন। স্যার এই ফাঁকে বললেন, ‘স্যার দুদিন পর আমরা আর একবার আসব। হয়তো আর আসতে হবে না।’ আমাদের বললেন, ‘ডাক্তার সাহেবরা চা-নাস্তা খেয়ে যাবেন।’ আমরা অনুমান করলাম, আজ বঙ্গবন্ধু কোনো বিষয় নিয়ে ব্যস্ত আছেন। মহিউদ্দিন ভাই আমাদের নিয়ে আগের কামরায় বসালেন ও চা-বিস্কুট আনার অর্ডার দিলেন। চা-বিস্কুট এলে আমরা চা-বিস্কুট খেয়ে বিদায় নিলাম। মহিউদ্দিন ভাই আর একবার আমার নাম জিজ্ঞেস করলেন। নাম বলে আমি বললাম, ‘মহিউদ্দিন ভাই, আমাদের দুদিন পর আর একবার আসতে হবে।’ মহিউদ্দিন ভাই বললেন, ‘ঠিক আছে, আমি সব ব্যবস্থা করে রাখব।’ কুশলাদি জানিয়ে আমরা বিদায় নিলাম।
যথাবিহীত দুদিন পর আমরা বঙ্গবন্ধুর বাসায় গেলাম। নিরাপত্তা পেরিয়ে ভিতরে যাওয়ার পর একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা দোতলায় নিয়ে গেল। আজও দেখলাম পড়ন্ত বিকেলে মহিউদ্দিন ভাই পায়চারী করছেন আর সাগরকলা খাচ্ছেন। মরিচ গাছে থোকায় থোকায় কাঁচা-পাকা মরিচ ঝুলছে। দৃশ্যটা আমার বেশ ভালো লাগল। আজ মহিউদ্দিন ভাই আমাদের নিয়ে আগের রুমে বসালেন এবং বললেন, ‘আপনারা বসুন, আমি বঙ্গবন্ধুকে আপনাদের আসার কথা জানাই।’ আজ বেশ কিছুক্ষণ পর বঙ্গবন্ধু এলেন এবং আরাম কেদারায় গিয়ে বসলেন। স্যার মুখের ভিতর দাঁত ও মাড়ি পরীক্ষা করে ঐ Lotion-টা মাড়িতে ভালোভাবে লাগিয়ে দিলেন। মুখ বন্ধ করে একটু অপেক্ষা করতে বললেন। অপেক্ষার শেষ হলে স্যার কুলি করতে অনুরোধ করলেন। এরপর স্যার বললেন, ‘এই পর্যায়ে আপনার চিকিৎসা শেষ। পরে কোনো সময় অসুবিধা হলে আমাকে জানাবেন।’ আমরা শেষ কুশলাদি জানালাম।
মহিউদ্দিন ভাই কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাকে বললেন, ‘ডাক্তার সাহেবদের চা-বিস্কুট দাও।’ ‘আপনাদের ধন্যবাদ’ বলে বঙ্গবন্ধু চলে গেলেন।
মহিউদ্দিন ভাই বললেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দাঁতের চিকিৎসা শেষ?’ আমরা বললাম, ‘হ্যাঁ শেষ।’ যথারীতি আমাদের জন্য চা-বিস্কুট এলো। খোস গল্প করতে করতে আমরা চা-বিস্কুট খাওয়া শেষ করলাম। আমি মহিউদ্দিন ভাইকে বললাম, ‘আপনাদের দাঁতের সমস্যা হলে ডেন্টাল কলেজে বা বিকালে আমার চেম্বারে চলে আসবেন।’ আমার চেম্বারটা কোথায় জিজ্ঞেস করায় আমি আমার অবস্থান সবিস্তারে বুঝিয়ে দিলাম। মহিউদ্দিন ভাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুর বাড়ি থেকে চলে এলাম। পথিমধ্যে স্যার ও আমি বঙ্গবন্ধুর চিকিৎসার পুরো সময়টায় আমাদের ব্যক্তিগত অনুভূতি, বঙ্গবন্ধুর এত ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের ব্যক্তিগত ও অ্যাপায়নের এত খোঁজখবর নেওয়া ও অন্যান্য স্মৃতি ও অনুভূতি নিয়ে আলাপ করতে করতে স্যারের বাসায় চলে এলাম। স্যার নেমে গেলেন। ড্রাইভার আমাকে আমার ছিদ্দিকবাজারের বাসায় পৌঁছে দিল। আমি ড্রাইভারকে বললাম, ‘বঙ্গবন্ধুর চিকিৎসা শেষ। আর আপনাকে আসতে হবে না।’ ড্রাইভার এবং আমি কুশলাদি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে আমার বঙ্গবন্ধুর দাঁতের চিকিৎসা শেষ হলো। সারাজীবনের জন্য আমার হলো বদান্যতা, ভালো ব্যবহার ও আপ্যায়নের সুশিক্ষা ও বহু স্মৃতি রোমন্থনের পালা।

লেখক : দন্ত চিকিৎসক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply