২০২০ সালের বিশ্ব মহামারি: নতুনভাবে নিজেদের আবিষ্কারের বছর

সাদিকুর রহমান পরাগ: ২০২০ সাল পেরিয়ে আমরা প্রবেশ করেছি ২০২১ সালে। মানবজাতির ইতিহাসে ২০২০ সাল আলাদাভাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। কেননা, এই বছরটি এমন এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যা মানব অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর বিশ্ব আর কখনও এত বড় সংকটের মুখোমুখি হয়নি। তারপরও সেসব প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে মানবজাতি ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে। তার আগে একনজরে দেখে আসি ২০২০ সালের পৃথিবী কেমন ছিল।

কোভিড-১৯ মহামারি
২০২০ সালে পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও ২০২০ সালের পুরোটা জুড়েই করোনার তা-বে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে একের পর এক দেশ। এ পর্যন্ত প্রায় ৯ কোটি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষ মারা গেছে। বারবার রূপ বদল করা ভাইরাসটির প্রথম পর্যায়ের ঢেউ সামলে উঠতে-না-উঠতেই বছর শেষে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে এই রোগের দ্বিতীয় ঢেউ।

বিচ্ছিন্ন পৃথিবী, বিচ্ছিন্ন মানুষ
চিকিৎসা নেই বলে সংক্রামক ব্যাধি থেকে রক্ষা পেতে প্রথম থেকেই সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়াসহ বিভিন্ন রকমের করোনা শিষ্টাচার মেনে চলতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতির অবনতি হলে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিমান চলাচল, ট্রেন চলাচলসহ পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি দেশের অভ্যন্তরেও লকডাউন বা শাটডাউন ঘোষণা করা হয়, যাতে মানুষ বাইরে না গিয়ে ঘরেই অবস্থান করে। পৃথিবী কখনও এমনভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি। এক একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের অনুভূতিতে আচ্ছন্ন মানুষ উপলব্ধি করে তার অসহায়ত্ত।

ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা
সংক্রামক ব্যাধি বলে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকে আক্রান্তের হার। চিকিৎসা নেই বলে কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ সহজেই এই রোগে হার মেনে ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। এমনকি ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধারাও অসহায়ভাবে মারা যেতে থাকে। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর মিছিলে আমেরিকা, ব্রিটেন, ইটালি, ফ্রান্স, স্পেন, রাশিয়া, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। জ্ঞানবিজ্ঞানে এগিয়ে থাকা উন্নত এসব দেশও ব্যর্থ হয় এই সংকট মোকাবিলায়।

অর্থনৈতিক স্থবিরতা
লকডাউন এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে নেমে আসে স্থবিরতা। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা- বন্ধ হয়ে যায়। আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়ে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অপ্রতুলতা সংকটকে আরও তীব্র করে তোলে। বেড়ে যায় জনজীবনের ভোগান্তি। ২০২০ সালের করোনা পরিস্থিতির কারণে বড় ধরনের একটা খাদ্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে পৃথিবী। অনেক দেশ দুর্ভিক্ষাবস্থার মুখোমুখি হবে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে পৃথিবীর কয়েক কোটি মানুষ। দেশে দেশে দারিদ্র্য বাড়বে, বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকায়।
মহামারির কারণে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে নেমে আসে ধস। আগামীতে বিভিন্ন দেশের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। উন্নয়নশীল দেশের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। ৮১টি দেশ আইএমএফ-র কাছে অর্থ ছাড়ের জন্য আবেদন করেছে।
বলা হয় যে ১৯৩০ সালের মহামন্দার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে এত বড় ধস আর নামেনি। অর্থনীতির এই ক্ষত সারাতে বহু বছর লেগে যাবে।

আস্থার সংকট এবং দোষারোপের সংস্কৃতি
কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে বিশ্বাস ও আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়। অসহায়ত্ত এবং অনিশ্চয়তার বোধে শুরু হয় আন্তঃরাষ্ট্রীয় টানাপড়েন। যথাসময়ে রোগটি সম্পর্কে জানানো হয়নি, তথ্য গোপন করা হয়েছে, ভাইরাসটি মানুষের তৈরি, গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েছে, পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বছরজুড়েই ডালপালা মেলেছে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার না মেনে শুরু হয় দোষারোপের সংস্কৃতি। কোনো কোনো দেশ প্রকাশ্যে এবং কোনো কোনো দেশ ইশারা-ইঙ্গিতে এ-ধরনের কথা বলার চেষ্টা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো করোনার তথ্য গোপন এবং সংক্রমণের জন্য সরাসরি চীনকে দায়ী করেন। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকেও তার ভূমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। দোষ দিয়েই থেমে থাকেনি, সংস্থাটির কর্মকা- থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সরিয়ে নেয়। কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০ সালে প্রচলিত বিশ্বব্যবস্থাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

নতুন ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন
ইসরায়েল-আরব সম্পর্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো চুক্তি সম্পাদন করেছে। এই কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। অনেকে মনে করছেন, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্য শান্তি অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখবে। আবার অনেকেই মনে করছে যে এর ফলে নতুন সংকটেরও সৃষ্টি করবে, কেননা ফিলিস্তিনিরা একে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে মিশর এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডান ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল।
বিআরআই : চীনের তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) মাধ্যমে রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। এই সম্পর্ক চলমান বিশ্বব্যবস্থায় কী ধরনের প্রভাব ফেলবে আগামীতে সেটিও দেখার বিষয়।

বিশ্ব রাজনীতির উত্তেজনার ভরকেন্দ্র
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র : কোভিড-১৯-এ বিভিন্ন দেশ দিশেহারা হলেও ২০২০ সালের বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা কিন্তু বিরাজমান ছিল। বছরের শুরুতেই ইরানের ক্ষমতাধর সামরিক কমান্ডার কাশেম সোলায়মানিকে হত্যার পর ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হয়। ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ফলে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। স্বাভাবিকভাবেই বছরজুড়েই বিশ্বকে একটি শঙ্কার মধ্যে থাকতে হয়েছে।
চীন-ভারত : লাদাখের গালওয়ান অঞ্চলে সীমানা নিয়ে চীন এবং ভারতের মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষের কারণে দুই পরাশক্তির সম্পর্কের অবনতি ঘটে। উভয়পক্ষই সীমান্ত ঘিরে তাদের শক্তি সমাবেশ করে। ফলে ২০২০ সালে এই অঞ্চলটি ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও উত্তেজনার নতুন ভরকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়। সীমান্তজুড়ে উভয় পক্ষের শক্তি বৃদ্ধির তৎপরতা এখনও বিদ্যমান, তাই সহসা এই বিরোধ নিষ্পত্তির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
তুরস্ক : ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে দূরত্ব, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার নীতি, রাশিয়া থেকে অস্ত্র ক্রয়, সোমালিয়া, কাতার, লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া ও বলকান এলাকায় সৈন্য মোতায়েন এবং তুরস্কের নেতৃত্বে মুসলিম বলয় সৃষ্টির তৎপরতা- সব মিলিয়ে তুরস্ক ২০২০ সালের অন্যতম ভূ-রাজনৈতিক ভরকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব মনে করে যে নব্য অটোমান সাম্রাজ্য হিসেবে তুরস্ক তার প্রকাশ ঘটাতে চায়।
আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার যুদ্ধ : ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ককেশাস অঞ্চলের দেশ দুটির সংঘাতের এই ইতিহাস কয়েক দশকের পুরনো। তবে সাম্প্রতিক এই বিরোধে আজারবাইজানের পক্ষে তুরস্কের সমর্থন এবং রাশিয়ার সমর্থন আর্মেনিয়ার পক্ষে। এই বিরোধ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সংঘাতের পথকে প্রশস্ত করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
জঙ্গি তৎপরতা ও সন্ত্রাস : শ্রেণিকক্ষে মহানবী (সা.)-এর কার্টুন দেখানো নিয়ে প্যারিসের উপকণ্ঠে স্কুলশিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিকে শিরোচ্ছেদের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ফলে সেদেশের সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। বিগত পাঁচ বছরে উগ্রসন্ত্রাসী হামলায় ২৫০ জনের মতো মারা গেছেন। তবে ফ্রান্স সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের ভুল বার্তা পৌঁছয় বিভিন্ন দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে। ফলে বিভিন্ন মুসলিম দেশে ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের আহ্বানসহ ফ্রান্সবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত হয়। কোভিড পরিস্থিতির কারণে ইউরোপে সন্ত্রাসী তৎপরতা আপাতভাবে কম মনে হলেও ইউরোপ যে আবার সন্ত্রাসী সহিংসতার শিকার হবে না সেটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।

ব্ল্যাক লাইভ ম্যাটারস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পুলিশি হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে খোদ আমেরিকাতে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। মারা যাবার পূর্বমুহূর্তে জর্জ ফ্লয়েডের ‘আই কান্ট ব্রিদ’Ñ এই করুণ আর্তি বিশ্ববিবেককে নাড়া দেয়। সূচিত হয় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ‘ব্ল্যাক লাইভ ম্যাটারস’। বর্ণবাদসহ সব ধরনের বৈষম্য অবসানে উচ্চকিত হয়ে ওঠে বিশ্ববিবেক। আর এর প্রভাব পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। আমেরিকার ইতিহাসে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচিত হয়েছেন একজন নারী।
মানবিক বোধের বিকাশ
এই মহামারির সময়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে অনেক ইতিবাচক দিকও আমরা লক্ষ করেছি। আমরা দেখেছি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ পরস্পরের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, তাদের অভিজ্ঞতা এবং সামর্থ্য শেয়ার করেছে। মুনাফার কথা না ভেবে, বাণিজ্যের কথা না ভেবে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী, মেডিকেল কিট, প্রযুক্তিগত সহায়তা, আর্থিক সহায়তা, খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা নিয়ে দেশগুলো পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়েছে।

গ্লোবাল ভিলেজ
মহামারির কারণে ২০২০ সালের একটা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দেশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও এই সময় অনলাইন মাধ্যমের কারণে দেশে দেশে মানুষের মধ্যে সামাজিক নৈকট্যও অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার এবং মানুষের যোগাযোগের প্রধান বাহন হয়ে ওঠে অনলাইন। ফলে অনলাইনে জ্ঞানবিজ্ঞান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বেড়ে যায়। অনলাইনের কারণে পৃথিবী যেন হয়ে ওঠে এক গ্লোবাল ভিলেজ।

কেমন হবে কোভিডোত্তর পৃথিবী
পৃথিবী পা দিয়েছে ২০২১ সালে। ইতোমধ্যে করোনার টিকাও আবিষ্কৃত হয়েছে। ২০২১ সালের পুরোটাই যে কোভিড-১৯ এবং এর ভ্যাকসিনকে ঘিরেই আবর্তিত হবে, সেটি নিশ্চিত করেই বলা যায়। প্রি-অর্ডার, সরবরাহ, আর্থিক সামর্থ্যÑ সব কিছু মিলিয়ে ভ্যাকসিন নিয়ে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। যদিও ২০২০ সালটি মানুষ কখনও ভুলবে না বা ভুলতে পারবে না। জ্ঞানবিজ্ঞানের এত অগ্রগতি সত্ত্বেও ২০২০ সালে মানুষ তার নাজুক অবস্থাটি আবার নতুন করে আবিষ্কার করেছে। ফলে নতুনভাবেই ভাবতে হচ্ছে মানুষকে, ভাবতে হচ্ছে বিভিন্ন দেশকে। তারপরও আশা করব, ২০২০ সালের দুঃস্বপ্ন ভুলে মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
কেমন হবে কোভিডোত্তর বিশ্ব, কেমন হবে আগামীর পৃথিবী, কেমন হবে আগামীর জীবনযাত্রাÑ সেই ভাবনার প্রাথমিক রসদও মানুষ পেয়েছে ২০২০ সালের এই করোনা মহামারিতে। জবফবভরহরহম ড়ভ খরভবÑ অর্থাৎ নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হবে আমাদের জীবন, যার আলোকে পুনর্বিন্যস্ত হবে বিভিন্ন দেশ যেখানে যেখানে মূল বিবেচ্য হবে প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন, মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণ, ব্যক্তিজীবনে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য বর্জন, সুস্থতা নিশ্চিতকরণ, বিচ্ছিন্নতা নয় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার বোধ।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply