চতুর্থ শিল্পবিপ্লব : বাংলাদেশের অবস্থান

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ: একদিন মানুষ গুহায় বাস করত, এখন মহাকাশে বিচরণ করে। এক সময় মানুষ গাছের ছাল পরত, এখন কত বর্ণের কত রঙের বাহারি কাপড় পরে। একদা মানুষ পাথরে পাথর ঘষে আগুন ধরাত, এখন পানি, সূর্যরশ্মি ও বাতাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশি নজর। পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ঝুঁঁকির কারণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। কয়লা বিদ্যুৎ তো পুরনো গল্প এবং পরিবেশ দূষণ করে বলে বর্জনীয়। একদিন খবর আদান-প্রদান করা হতো সশরীরে হাজির হয়ে, এখন সেটা হয় চোখের পলকে ফোন, এসএমএস, ফেইসটাইম এবং আরও নানা তাৎক্ষণিক যোগাযোগ-ব্যবস্থার মাধ্যমে। একদিন এক স্থান থেকে অন্য কোথাও যাতায়াত ছিল নিজ পদযুগলনির্ভর, তারপর গরুর গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়ি, এখন দ্রুতযান- মোটরগাড়ি, রেল ও বিমান। একদিন রোগবালাই হলে গাছ-গাছালির পাতা-শেকড় দিয়ে চিকিৎসা করা হতো, এখন অত্যাধুনিক চিকিৎসা (ব্যবস্থাপনা, ঔষধ ও শৈল) এবং প্রতিষেধক মানুষের করায়ত্ত- তদুপরি চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন শুধু অভূতপূর্ব উচ্চতায় নয়; বরং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আবিষ্কারে সমৃদ্ধ হচ্ছে। একদিন যুদ্ধ করা হতো পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে তলোয়ার দিয়ে, এখন মারণাস্ত্র অত্যাধুনিক- নিমিষে পরমাণু অস্ত্রের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া যাবে জনপদ, দেশ, অঞ্চল, মহাদেশ এবং সারাবিশ্ব। এছাড়া লক্ষ্যভুক্ত নির্দিষ্ট স্থানে দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত রকেট ও ড্রোনের মাধ্যমে ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালানো যায় এবং চালানো হচ্ছে।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের অচিন্তনীয় উৎকর্ষ সাধনের ফলে সম্পদ সৃষ্টি, কিছু মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা অভূতপূর্ব উচ্চতায় নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে এই উন্নতি থেকে বঞ্চিত থেকে গেছে বিশ্বব্যাপী অসংখ্য মানুষ। ফলে আজ আন্তর্জাতিক পরিম-লে দেশে দেশে এবং প্রত্যেক দেশের অভ্যন্তরে প্রকট বৈষম্য বিরাজমান। অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের বদৌলতে যুদ্ধাস্ত্রের ধ্বংসলীলা ঘটানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে ভয়ঙ্কররূপে।
আবার সম্পদ ও আয় বৃদ্ধি এবং ধনীদের ভোগ-বিলাসিতার জীবনযাপন নিশ্চিত করতে নির্বিচারে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে ভীতিপ্রদ অবনমন ঘটেছে। কয়লা, তেল ও অন্যান্য গ্র্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণকারী জ্বালানিনির্ভর ‘উন্নত’ প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও ব্যাপক ব্যবহার পৃথিবীর মানুষকে এমনকি গোটা পৃথিবীকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অস্তিত্বের ঝুঁঁকির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
শিল্প ও অর্থনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমে সম্পদ সৃষ্টি ও আয়-বৃদ্ধিতে উল্লম্ফন এবং একই সাথে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট ও জলবায়ু পরিবর্তন আর পারমাণবিক ভীতিপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বর্তমান পর্যায়ে এসেছে বিগত মাত্র ২৬০ বছরের পথ-পরিক্রমায়- ১৭৬০ সালে প্রথম শিল্পবিপ্লবের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তীতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বর্তমানে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের স্তরে উপনীত হওয়া পর্যন্ত।
এই নিবন্ধে উল্লিখিত পথ-পরিক্রমার কিছু ধাপ এবং বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় ঘুরে দাঁড়ানো, এগিয়ে চলা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কিছু দিক সংক্ষেপে আলোচনা করছি। তবে এই লেখা গবেষণাভিত্তিক নয়। অনেকটা সাধারণ জ্ঞান উৎসারিত। উত্তরণ-এর পাঠকদের জন্য চতুর্থ শিল্পবিপ্লব সম্বন্ধে প্রাথমিক কিছু ধারণা দেওয়ার জন্য অনুরুদ্ধ হয়ে অনাগ্র্রহ থাকা সত্ত্বেও লিখতে রাজি হয়ে যাই। তবে এ সম্বন্ধে বলতে গেলে পেছনের গল্পের অর্থাৎ পূর্ববর্তী শিল্পবিপ্লবগুলো সম্বন্ধে কিছু বলা প্রয়োজন।
প্রথম শিল্পবিপ্লব শুরু হয় ১৭৬০ সালের দিকে এবং চলে ১৮২০ বা ১৮৪০ সাল পর্যন্ত। এর মূল চালিকাশক্তি ছিল পানি ও বাষ্পশক্তি। এই শক্তি ব্যবহার করে যোগাযোগ (রেলগাড়ি) ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার যান্ত্রিকীকরণ করা হয়। এর আগে উৎপাদন পুরোপুরি মানুষের হস্তনির্ভর ছিল। যুক্তরাজ্যে শুরু হয়ে এই বিপ্লব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠে বস্ত্রকল। অন্যান্য বিস্তৃতি লাভ করা শিল্পের মধ্যে ছিল রাসায়নিক, ইস্পাত এবং মেশিন ও যন্ত্রপাতি উৎপাদন। এ সময় মেশিন ও যন্ত্রপাতিভিত্তিক কারখানা পদ্ধতি বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে। সাধারণভাবে মানুষের আয় বাড়ে এবং জীবনমান উন্নততর হয়।
দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব শুরু হয় ১৮৭০ সালের দিকে এবং চলে ১৯৬০-এর দশক পর্যন্ত। এই বিপ্লব শুরু হয় এবং এগিয়ে চলে বিদ্যুৎ আবিষ্কার ও বিদ্যুতের বহুল ব্যবহারের মাধ্যমে। বিদ্যুৎ বিতরণে গ্র্রিড-ব্যবস্থা চালু করা হয়। এ সময় বিভিন্ন পণ্যের গণ-উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাপকতা লাভ করতে থাকে। অ্যাসেম্বলি পদ্ধতিতে অর্থাৎ একটি পণ্য উৎপাদনকে বিভিন্ন ধাপে ভাগ করে সেভাবে কারখানা সাজিয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুততর ও মানসম্পন্ন করার দিকে নজর দেওয়া হয়। নতুন ও উন্নতমানের ইস্পাত তৈরি-পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়। উন্নতমানের ঘড়ি তৈরিতে ব্যাপক অগ্র্রগতি হয়। সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৃহদাকার (সধরহভৎধসব) কম্পিউটার ও ব্যক্তি পর্যায়ের কম্পিউটার উদ্ভাবন করা হয়।
এ পর্যায়ে সম্পদসৃষ্টি বৃদ্ধি পেতে থাকে। পুঁজির মালিকদের মুনাফা ও অতি মুনাফা এবং শ্রমজীবী মানুষের শ্রমমূল্য ও স্বার্থের বিষয় সামনে চলে আসে। সমস্যা দেখা দিলে আলোচনা-পর্যালাচনা দ্বন্দ্ব চলত- সমাধান মিলে কখনও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে, কখনও বা আন্দোলনের ফলে। কখনও আবার অসন্তোষ চলমান থাকে, যদিও কাজ চলতে থাকে। ১৮৮৬ সালের মে মাসের শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলনকারীদের কয়েকজনের প্রাণহানির কথা সর্বজনবিদিত। এটি দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের একেবারে প্রথম দিককার ঘটনা। দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব এগিয়ে চলে এবং শিল্প-কারখানা ও বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্যের মালিকদের সম্পদ ও ক্ষমতা বাড়তে থাকে। বহুজাতিক ও বিভিন্ন দেশব্যাপী অনেক কোম্পানির আবির্ভাব ঘটে। পুঁজির আন্তর্জাতিকীকরণ ঘটতে থাকে।
এসব বড় কোম্পানি এবং পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থা নতুন নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করতে থাকে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলে। আবিষ্কৃত হয় মহাকাশ যান, মানুষ চাঁদে পদার্পণ করে, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এবং এগুলোর দীর্ঘদিন মহাকাশে অবস্থান এবং তথ্য আদান-প্রদানে দ্রুতগতির প্রযুক্তির ব্যবহার এখন যথেষ্ট পুরনো খবর। এ ধারাবাহিকতায় তথ্য-মহাসড়ক (রহভড়ৎসধঃরড়হ ংঁঢ়বৎ যরমযধিু) আবিষ্কৃত হয়। এতেই সূত্রপাত তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের। দ্রুতগতির নানা বর্গের কম্পিউটার, মোবাইল ফোন-আইফোন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বিপ্লব (ফরমরঃধষ ৎবাড়ষঁঃরড়হ) সংঘটিত হয়। ধরা হয় এই প্রক্রিয়ার শুরু ১৯৬৯ সালের দিকে। অবশ্যই উন্নত বিশ্বে। তবে দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান উন্নয়নীল বিশ্বে, অনেক দেশ এখনও এক্ষেত্রে বেশি দূর অগ্র্রসর হতে পারেনি, যদিও এসব দেশে তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের কোনো কোনো আঙ্গিকে কম-বেশি অগ্র্রগতি হয়েছে, হচ্ছে। কোনো কোনো উন্নয়নশীল দেশে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব (নিচে আলোচিত) সম্পর্কিত কিছু পদক্ষেপও গৃহীত হচ্ছে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব অতি সম্প্রতি শুরু হয়েছে- ২০১৪ সালের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রযুক্তিগত দিকগুলো আমি অতশত বুঝি না। তবে এটা দেখা যাচ্ছে যে, মনুষ্যসৃষ্ট প্রযুক্তি ও মেশিন দ্বারা বাস্তবতা বিশ্লেষণ এবং করণীয় নির্ণয়, উন্নতমাত্রার মানুষ-মেশিন আদান-প্রদান, মেশিন থেকে মেশিন পদ্ধতিতে বৃহদাকার তথ্যের বিশ্লেষণ এবং তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সাইবার স্পেসে (ভার্চুয়াল বা কার্যত তথ্য সংরক্ষণ-পরিম-ল) তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনমতো যে কোনো অবস্থান থেকে যে কোনো সময় ডাউনলোড করতে পারা (উদাহরণ : গুগল, ফেসবুক বা টুইটার-এ আপলোড করা তথ্য ও বক্তব্য) এবং স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবস্থায় উৎপাদন ও বণ্টন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আবিষ্কার ও ব্যবহারের উদ্ভাবক মানুষকে তারই এই উদ্ভাবন নানা কাজ থেকে হটিয়ে বেকার করে দিচ্ছে- বড় বড় বিপণীকেন্দ্রে বিক্রয় সহকারী, টেলিভিশনে খবরপাঠ সমন্বয়ক এবং নিরাপত্তারক্ষী থেকে শুরু করে মেশিন পরিচালনা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং ড্রোনের মাধ্যমে উন্নতমানের ফটো তোলা এবং কোনো স্থানে দূর থেকে আক্রমণ করাসহ নানা ক্ষেত্রে এর বিস্তৃতি দ্রুত ঘটছে। মোট কথা, মানুষের বৈজ্ঞানিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ প্রযুক্তির, বিশেষ করে উপর্যুক্ত আঙ্গিকসমূহে, অভাবনীয় বিকাশ ঘটানোর ফলে প্রযুক্তিই এখন মানুষের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে এবং দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
এসবের গতি-প্রকৃতি এবং ফলে মানুষের জীবনাচরণ, ব্যক্তি-জীবনের স্বকীয়তা ও গোপনীয়তা, আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাপনা, শাসন-ব্যবস্থা, উৎপাদন, বণ্টন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ে কত ব্যাপক ও গভীর রূপান্তর ঘটতে যাচ্ছে, তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে তা যে মৌলিক ও অভূতপূর্ব হবে তা বোঝা যাচ্ছে। ফলে রক্তমাংসের মানুষ কি তার বিচার-বিবেচনা, নিজের জ্ঞানবুদ্ধিভিত্তিক জীবন গড়া, আবেগ, উল্লাস, আবদার, মনন, মানবিকতা এবং সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি হারিয়ে প্রযুক্তির দাসে পরিণত হবে, এ প্রশ্ন উত্থাপন করা যেতে পারে। বৈশ্বিকভাবে বা কোনো দেশের ক্ষেত্রে যাদের হাতে- তারা অবশ্যই মুষ্টিমেয় হবে এবং অতি ধনিক-শ্রেণির হবে- এই নতুন বিপ্লবের চাবিকাঠি থাকবে, তারাই কি বাকি সবার জীবন-ব্যবস্থার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রক বনে যাবে?
বর্তমানে টেকসই উন্নয়ন ও সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে বিশ্ব পরিম-লে এবং দেশে দেশে যে প্রকট ও ক্রমবর্ধমান বৈষম্য বাদসাধছে তা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথ ধরে এমন পর্যায়ে যেতে পারে যে সকলের ন্যায্য অংশগ্র্রহণের ভিত্তিতে এগিয়ে চলার বিষয়টি ‘অবান্তর’ হয়ে যাবে। নতুন এই বাস্তবতায় একদিকে মুষ্টিমেয় মালিক ও নিয়ন্ত্রকের সর্বময় কর্তৃত্ব ও দৌরাত্ম্য এবং অন্যদিকে অগণিত বিচ্ছিন্ন ও শোষিত মানুষের ক্রন্দনময় জীবন হতে পারে মানুষের এই পৃথিবীর বাস্তবতা, যদি না এই পথ-পরিক্রমা অংশগ্র্রহণমূলক, গণতান্ত্রিক এবং মানবিক-সামাজিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
বাংলাদেশ বিগত দশকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নতি করেছে। করোনার আঘাত হানার আগে মাথাপিছু আয় প্রায় ২ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। ২০১৮-২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ- যা পূর্ববর্তী আট বছরের ধারাবাহিকতায় অর্জিত, প্রথম পাঁচ বছর ৬ শতাংশের ওপর এবং পরের তিন বছর ৭ শতাংশের অধিক ছিল। বিভিন্ন সামাজিক সূচকেও ব্যাপক উন্নতি হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য হ্রাস, শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, নারী শিক্ষায় অগ্র্রগতি, নারী-পুরুষ বৈষম্য হ্রাস এবং জন্মের সময় প্রত্যাশিত আয়ু ৭৩ বছরে বৃদ্ধি। মোট কথা, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও অনেকগুলো বৃহদাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পদ্মাসেতু নিজ অর্থায়নে বাস্তবায়ন করে দেশের সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নভোশ্চরণ যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। এছাড়াও পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলি সুড়ঙ্গ, মেট্রোরেল এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরের মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য বিস্তৃতি (উরমরঃধষ চবহবঃৎধঃরড়হ) লাভ করেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথ ধরে। মোবাইল ফোনের গ্র্রাহক সংখ্যা ২০২০-এর ডিসেম্বরে ১৭ কোটি, জনসংখ্যা থেকে বেশিই। অতি দরিদ্র বেশ কিছু মানুষের এখনও মোবাইল ফোন না থাকলেও, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অন্যান্য মানুষের একাধিক রেজিস্ট্রিকৃত সিম রয়েছে। এটা পরিষ্কার যে, মোবাইল ফোন দেশের সর্বত্র ব্যাপক মানুষ ব্যবহার করছে। মোবাইল ব্যাংকিং দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং অনলাইন ব্যাংকিংও প্রসারিত হচ্ছে।
দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কেন্দ্র- ইউনিয়ন ডিজিট্যাল সেন্টার- চাহিদা অনুযায়ী সবাইকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা প্রদান করে। তথ্যপ্রবাহের আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাধারণ মানুষকে পরিচিত ও যুক্ত করার প্রয়াস এসব কেন্দ্রের অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলাদেশে ই-কমার্সও প্রসার লাভ করছে। করোনাকালের আগে শুরু হলেও এই সময়ে সরাসরি যোগাযোগ বাধাগ্র্রস্ত হওয়ার ফলে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ই-কমার্স বেশ বিস্তৃত লাভ করে। ই-কমার্স হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহার করে পণ্য-সংক্রান্ত তথ্য প্রচার, পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এবং অর্থ লেনদেন। এই ব্যবস্থায় কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতা সরাসরি পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অনেকগুলো ই-কমার্স কোম্পানি গড়ে উঠেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে এক নতুন ও আধুনিক মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার বিকশিত তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও হাই-টেক (উচ্চপ্রযুক্তি)-ভিত্তিক শিল্প স্থাপন, উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণে ব্যবস্থা গ্র্রহণের জন্য বাংলাদেশ হাই-টেক কর্তৃপক্ষ গঠন করে। ইতোমধ্যে এই কর্তৃপক্ষ ২৮টি হাই-টেক পার্ক, সফটওয়ার টেকনোলজি পার্ক ও আইটি প্রশিক্ষণ ও ইনকিউবেটর কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এগুলোর মধ্যে ৪টির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং এগুলো চালু করা হয়েছে।
দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট সংযোগ ১১ কোটি ২০ লাখ, অর্থাৎ জনসংখ্যার ৬৮ শতাংশের সমপরিমাণ। এটাও খুবই উল্লেখযোগ্য বিস্তৃতি। মোবাইল ফোনে কথা বলা, এসএমএস, ফেসবুক, মেসেঞ্জার ব্যবহার করে এই মহামারির সময় নিজ বাড়িতে থেকেও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া করোনাকালে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময় ইন্টারনেটভিত্তিক ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, হচ্ছে। অবশ্য সব শিক্ষার্থীকে সফলভাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি, সাধারণ মানুষের সুযোগের অভাব (যেমন- উপযুক্ত মানের মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ না থাকা) এবং তাদের প্রাপ্ত অবঠামোগত দুর্বলতার কারণে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উন্নত করে এ কাজটি প্রয়োজনে আরও ভালো ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে করা যেতে পারে আগামীতে। তবে এটিও পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে যে, যদি ন্যায্যভাবে সবার জন্য যথাযথ সুযোগ সৃষ্টি ও পারিপার্শ্বিকতা গড়ে তোলা না হয় বা না যায়, তবে বৈষম্য প্রকটতর হবে। আর শিক্ষায় বৈষম্য সক্ষমতা-বৈষম্য বাড়িয়ে সার্বিক বৈষম্য আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে। এছাড়া, শুধু শিক্ষা নয়, সার্বিকভাবে ডিজিটাল বৈষম্য বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে, সার্বিক বৈষম্য বাড়িয়ে টেকসই উন্নয়নের পথ আরও কণ্টকাকীর্ণ করতে পারে।
দেখা যাচ্ছে, তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের ক্ষেত্রে অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্র্রগতি হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের অভিগম্যতায় নানা (অসচেতনতা, প্রশিক্ষণের অভাব, অবকাঠামোগত দুর্বলতা বা অপ্রাপ্যতা, যথোপযুক্ত ডিভাইস- ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য- না থাকা ইত্যাদি) সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্র্রহণ করে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অগ্র্রগতি অন্তর্ভুক্তিমূলক করার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। অন্যথায় সবাইকে ন্যায্যভাবে অন্তর্ভুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন বাধাগ্র্রস্ত হবে।
বাংলাদেশের অন্যান্য খাতের দিকে নজর দেওয়া যাক। বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের ৮৫ শতাংশের মতো বিভিন্ন গ্র্রামীণ ও শহুরে অনানুষ্ঠানিক খাতে। এসব কর্মকা-ে এখনও ব্যাপকভাবে হস্তচালিত বা অনগ্র্রসর প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং যারা কাজ করেন তাদের অধিকাংশ অদক্ষ বা সীমিত দক্ষতাসম্পন্ন। ফলে উৎপাদনশীলতা এবং মুনাফাও সীমিত। কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ এখনও প্রায় প্রাথমিক পর্যায়ে আছে- অবশ্য বর্তমানে এক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। মূলধনী পণ্য অর্থাৎ মেশিন ও যন্ত্রপাতি সব খাতেই মূলত আমদানি করা হয়- অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রথাগতগুলোই, আর আধুনিক, এমনকি অপেক্ষাকৃত আধুনিক হলে তো বটেই। শিল্পায়ন এখনও সীমিত- এ খাত থেকে ২০১৯ সালে জাতীয় উৎপাদনের ২৯ শতাংশের মতো এসেছে। বড় শিল্পের মধ্যে বস্ত্র, পাটকল ও ঔষধসহ খুবই সীমিত সংখ্যক খাত রয়েছে। রপ্তানি আয় মাত্র ৪-৫টি খাতের ওপর নির্ভরশীল। তদুপরি তৈরি পোশাক ও হোসিয়ারি থেকে দেশের বার্ষিক রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের অধিক আসে। রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর নীতিগতভাবে দীর্ঘদিন ধরে জোর দেওয়া হলেও অগ্র্রগতি তেমন হয়নি। এসব পশ্চাৎপদতা ও দুর্বলতা দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের আওতায় পড়ে। এক্ষেত্রে ভিত শক্ত করা জরুরি, তবেই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে অংশগ্র্রহণ অর্থবহ ও কার্যকর হতে পারে।
এছাড়া, বাংলাদেশে সব খাতে সব পর্যায়ের দক্ষ জনবলের বিস্তর ঘাটতি রয়েছে। এদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি দক্ষ কর্মকর্তা কাজ করছেন। তাদের পরিবর্তে, বিশেষ করে উচ্চ পর্যায়ে, নিয়োগ দেওয়ার মতো দক্ষ জনশক্তি দেশে বর্তমানে স্বল্পই তৈরি হচ্ছে। দেশে সব পর্যায়ে শিক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা-ব্যবস্থা মূলত পরীক্ষানির্ভর। শিখন, আত্মস্তকরণ ও বিশ্লেষণধর্মী নয়। ফলে শিক্ষার মানে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে- প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত সব পর্যায়ে। এছাড়া যেসব বিষয়ে দক্ষ জনবল দরকার, তার সঙ্গে যেসব বিষয়ে ডিগ্র্রি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ছে, তাতে সামঞ্জস্যের বিস্তর অভাব রয়েছে। আর দেশে বাস্তবায়নাধীন টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক দক্ষ লোকের প্রয়োজন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে অংশগ্র্রহণ করতে হলে আরও নতুন বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন লোকবল লাগবে। এমনিতেই আর চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিবেচনায় নিলে বটেই, শিক্ষা-ব্যবস্থায় এমন সংস্কার ও উন্নতি সাধন করা জরুরি, যাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল সৃষ্টি করা সম্ভব হয়। দ্রুত বিভিন্ন খাতে ও বিষয়ে দক্ষতাসম্পন্ন জনবলের প্রয়োজন নিরূপণ করে পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থা গ্র্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, যথেষ্ট অগ্র্রগতি অর্জন সময়সাপেক্ষ, তবে যথাযথভাবে সচেষ্ট হলে পর্যায়ক্রমে লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব।
এটি যুক্তিযুক্ত কথা যে, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বাংলাদেশকেও সম্প্রতি শুরু হওয়া চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল পেতে সচেষ্ট হতে হবে। তবে এ প্রেক্ষিতে অন্যত্র- উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বে- কী কী ঘটছে, কীভাবে সেই যাত্রাপথ বিন্যস্ত করা হচ্ছে, ব্যয় কেমন হচ্ছে, সুফলের বণ্টন কেমন হচ্ছে ইত্যাদি নজরে রেখে পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিদ্যমান বাস্তবতায় সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিতে সচেষ্ট হওয়া যেতে পারে। তবে আমার বিবেচনায়, যেসব বিষয়ে দেশের বর্তমান বাস্তবতায় অধিক জোর দিতে হবে, সেগুলোর মধ্যে নিম্নোক্তগুলো রয়েছে।

* সবাইকে ন্যায্যভাবে অন্তর্ভুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই থাকতে হবে সার্বিক দিক-নির্দেশনার মূল অবলম্বন।
* সব শ্রেণির সবার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে এবং বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলার দিশা সামনে রেখে শিক্ষা-ব্যবস্থার সংস্কার সাধন- এ লক্ষ্যে কিছু ধারণা এই নিবন্ধে দেওয়া হয়েছে।
* তথ্যপ্রযুক্তিতে অভিগম্যতায় ক্রমবর্ধমান বৈষম্য নিরসনে অন্তর্ভুক্তিমূলক যথাযথ প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্র্রহণ জরুরি।
* কৃষির আধুনিকায়ন ও যান্ত্রিকীকরণে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করা, যাতে এই খাতের টেকসই অগ্র্রগতি নিশ্চিত হতে পারে এবং দেশে খাদ্য নিরাপত্তা সব সময় নিশ্চিত থাকে- অবশ্য এ খাত শিল্পের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ এবং কর্মসংস্থানেও অবদান রাখে। যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষিতে সরাসরি কর্মসংস্থান কমে যাবে, তবে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্র্রহণ করলে অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
* দেশের সার্বিক কর্মসংস্থানের ৮৫ শতাংশের উৎস অনানুষ্ঠানিক খাতসমূহে প্রযুক্তিগত উন্নতি ও কর্মরতদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে, যাতে এগুলো ভালোভাবে চলে এবং সংশ্লিষ্টদের আয় বাড়ে। এছাড়াও এগুলোর টেকসই হওয়া এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহে সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন এবং চলতি মূলধনে অভিগম্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
* দেশের বড় শিল্প ও ব্যবসায়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের আঙ্গিকে আধুনিকায়ন (উন্নততর মেশিনারি ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে) চলমান আছে এবং বিদ্যমান বাস্তবতায় আরও এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
* বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে বেকারত্ব বাড়তেই পারে, তাই বিষয়টি আগেভাগে বিবেচনায় নিয়ে উদ্ভূত বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্র্রহণ করা প্রয়োজন।
* তরুণ প্রজন্মের শক্তি নিজেদের ও দেশের টেকসই উন্নয়নে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে তাদের জন্য মানবিক-সামাজিক গুণাবলি ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ-ব্যবস্থা জোরদার করে তাদের সহায়তা করতে হবে, যাতে তারা দেশে-বিদেশে কাজে নিয়োজিত হতে পারে অথবা উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষণ-পরবর্তী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা গ্র্রহণ করতে হবে।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, অর্থনীতিবিদ ও সমাজচিন্তক। তিনি জনসেবা ও সমাজসেবায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’প্রাপ্ত

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply