আওয়ামী লীগের বিশাল জয়

উত্তরণ প্রতিবেদন:  গত ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন।
গত ২৭ জানুয়ারি গভীর রাতে এই নির্বাচনের চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা হয়। এর পরদিন রিটার্নিং অফিসারের দপ্তর অফিসিয়াল ফলাফলও ঘোষণা করেছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী নৌকা মার্কার রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট। পক্ষান্তরে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন পেয়েছেন ৫২ হাজার ৪৭৯ ভোট। শতাংশ হিসাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের হার ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ বলে রিটার্নিং অফিসার দপ্তর জানিয়েছে। রেজাউল করিমের সঙ্গে ডা. শাহাদাতের ভোটের ব্যবধান ৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৫৯ ভোট। ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে কাস্ট হওয়া ভোটের ১২ দশমিক ০২ শতাংশ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে অতীত ইতিহাসে এত বিপুল ভোটের ব্যবধানে আর কেউ মেয়র নির্বাচিত হননি। ফলে রেজাউল করিমের অর্থাৎ নৌকা প্রতীকের এই বিজয় নতুন একটি রেকর্ড। তার জীবনে এটাই প্রথম নির্বাচন এবং এই নির্বাচনে তিনি তাক লাগিয়ে দিলেন। সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিজয়ী সাধারণ এবং সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সকল কাউন্সিলরই আওয়ামী লীগের। তবে এর মধ্যে আটজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন, যারা দলের সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটে এবার বিএনপি সমর্থিত কোনো প্রার্থী জয়লাভ করেননি।
চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা হলেনÑ ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে গাজী শফিউল আজিম, ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী সাহেদ ইকবাল বাবু, ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম, ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী এসরারুল হক, ৫ নম্বর মোহরা ওয়ার্ডে কাজী নুরুল আমিন মামুন, ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডে এম আশরাফুল আলম, ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে মোবারক আলী, ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডে মোরশেদ আলম, ৯ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী জহুরুল আলম জসিম, ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডে মো. ইসমাইল, ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডে নুরুল আমিন, ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, ১৪ নম্বর লালখান বাজার আওয়ামী লীগের আবুল হাসনাত বেলাল, ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ডে গিয়াস উদ্দীন, ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে মোহাম্মদ শহিদুল আলম, ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডে নুরুল আলম, ২০ নম্বর দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডে চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডে শৈবাল দাশ সুমন, ২২ নম্বর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডে সলিম উল্লাহ বাচ্চু, ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে মোহাম্মদ জাবেদ, ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে নাজমুল হক ডিউক, ২৫ নম্বর রামপুরা ওয়ার্ডে আবদুস সবুর লিটন, ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস, ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী, ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম বাহাদুর, ২৯ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের, ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে আতাউল্লাহ চৌধুরী, ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে জহর লাল হাজারী, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মুরাদ বিপ্লব, ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডে পুলক খাস্তগীর, ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডে হাজী নুরুল হক, ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী মোর্শেদ আলী, ৩৭ নম্বর মুনিরনগর ওয়ার্ডে আবদুল মান্নান, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে গোলাম চৌধুরী, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে জিয়াউল হক সুমন, ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে আবদুল বারেক এবং ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে ছালেহ আহম্মেদ চৌধুরী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply