কোনো ষড়যন্ত্র দাবায়ে রাখতে পারবে না

অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন: ‘দেশ যখনই এগিয়ে যেতে থাকে, যখন মানুষ ভালো থাকার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তখনই আঘাত আসার সম্ভাবনা থাকে’- এ ব্যাপারে সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সূত্র ধরেই আল-জাজিরা টেলিভিশনে দেশবিরোধী অপপ্রচার নিয়ে লেখাটা শুরু করছি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম জাতি-রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, অপরাজনীতি আমাদের পিছু ছাড়েনি। বঙ্গবন্ধু শূন্য হাতে যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতিকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশটাকে যখন উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যাচ্ছিলেন, দেশের মানুষ উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেছিল তখনই আঘাতটা এসেছিল। স্বাধীনতা-বিরোধী সাম্প্রদায়িক কুচক্রীমহল বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে থমকে দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছিল। বন্ধবন্ধুকে হত্যা করে তারা যেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশটাকেই হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সেই বিয়োগান্তক ঘটনার পূর্বেই দেশি-বিদেশি যড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশ ও তার প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। ১৯৭৪ সালে বাসন্তী নাটক মঞ্চায়নের কথা আমরা সবাই জানি। কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলেপাড়ায় হতদরিদ্র পরিবারের বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বাসন্তীকে ৫০ টাকা দিয়ে ছেঁড়া জাল পরিয়ে ফটোসেশন করে ইত্তেফাকের প্রভাবশালী একাংশ বঙ্গবন্ধু সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের অপপ্রচার করেছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ছবি তোলায় পুরস্কার হিসেবে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ফটোগ্রাফার আফতাব আহমেদকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেয়। ২০০৬ সালে জামাত-বিএনপি জোট সরকার আফতাব আহমদকে একুশে পদক প্রদান করে। তাছাড়াও ইসলামি ছাত্রশিবিরের এক অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী কুখ্যাত আফতাবকে পদক প্রদান করে। এর মাধ্যমে আফতাবের জামাত সাম্প্রদায়িক কানেকশন স্পষ্ট হয়ে যায়।
বিএনপি-জামাতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় All the Prime Minister’s men নামে যে উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে, তার অন্তঃসারশূন্যতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধী ও ’৭৫-এর খুনি এবং তাদের সেবাদাসরা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য পরিকল্পিতভাবে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটিকে কোনোভাবেই সাংবাদিকতা বলা যায় না। এটা কুৎসা রটনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
বাংলাদেশ সরকার এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনের কঠোরভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আন্তঃবাহিনী সংযোগ পরিদপ্তর থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটা পরিষ্কার না যাদের পূর্বে অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার রেকর্ড রয়েছে, তাদের সঙ্গে কীভাবে আল-জাজিরার মতো সংবাদমাধ্যম যুক্ত হলো?’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে একে লন্ডন ও অন্যান্য জায়গায় সক্রিয় উগ্রপন্থি ও তাদের সহযোগীদের উসকানিতে বেপরোয়া ও নোংরা অপপ্রচার বলে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে জামাতে ইসলামী মদদপুষ্ট কতিপয় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অপরাধী ও কুখ্যাত ব্যক্তি তাদের চিরাচরিত ছকে যে ধরনের বাংলাদেশ-বিরোধী অপপ্রচার চালায়- এ বিষয়টি সে-ধরনের। এরা বিভিন্ন উগ্রপন্থি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী ও সংবাদমাধ্যম বিশেষ করে আল-জাজিরার সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
একটি সরকারের বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যম কর্তৃক কোনো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করার জন্য যে তথ্য-সামর্থ্য দরকার আল-জাজিরার কাছে তা নেই। সরকার এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের পর তাদের ব্যাখ্যা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নির্লিপ্ততাই এই প্রতিবেদনের অসারতাই প্রমাণ করে।
ড. কামাল হোসেনের জামাতা বিতর্কিত সাংবাদিক ভেভিড বার্গম্যান ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আল-জাজিরায় ৩৫টি প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে বিষোদ্গার করেছেন। বাংলাদেশে শহিদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করেছেন।
২০১৩ সালে মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতের তা-ব নিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছেন। একটু খেয়াল করে দেখবেন, সেখানেও পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুসংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচারের ক্ষেত্রে ‘বাসন্তীর’ মতো অন্য এক বাকপ্রতিবন্ধীকে ব্যবহার করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালে আরব বিশ্বের প্রথম সার্বক্ষণিক সংবাদ চ্যানেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আল-জাজিরা আলোচনায় আসে আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের বক্তব্য প্রচার করে।
২০১৩ সাল থেকে তালেবান, আল-কায়দা, মুসলিম ব্রাদ্দার হুড, আইএস-সহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর খবর প্রচার করে। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গিগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আছে। বিতর্কিত সংবাদ পরিবেশনের জন্য এই মিডিয়ার ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয় সৌদি আবর, সংযুক্ত আবর আমিরাত, মিশর ও বাহরাইন।
কুয়েত সরকারও এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ২০১৫ সালে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে আল-জাজিরার তিন সাংবাদিককে মিশরের আদালত কারাদ- দেন। হলুদ সাংবাদিকতা, ধর্মীয় উসকানি, জিহাদের অপব্যাখ্যা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহের অপচেষ্টা বিবিধ কারণে বিশ্বে ব্যাপকভাবে সমালোচিত এই মিডিয়া।
আল-জাজিরা তার মৌল চারিত্রিক কারণেই অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী চিন্তা-চেতনার কণ্ঠস্বর, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আপসহীন সংগ্রামী নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ-বিরোধী অপশক্তি ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রাকে থমকে দেওয়া যাবে। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে সেনাশাসনের অবসান ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবার মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরে এসেছে। ষড়যন্ত্রকারীদের আজ সেখানেই গাত্রদাহ। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার, জঙ্গি দমনের কারণে আজ খুনি চক্র ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং আল-জাজিরার মতো সংবাদমাধ্যমকে সঙ্গী করেছে।
আল-জাজিরায় থ্রিলারধর্মী ডকু ড্রামাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এই আশায় যে, এটি প্রকাশিত হলে দেশে তুলকালাম শুরু হয়ে যাবে; কিন্তু আজ তাদের সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অতীতেও ২০০৮ সালে ক্ষমতা গ্রহণের ৫১ দিনের মাথায় বিডিআর বিদ্রোহ করানো হয়েছিল। সেদিনও অনেক অপপ্রচার করা হয়েছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা সরকার পতনের দুঃস্বপ্ন দেখেছিল।
সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দিয়ে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় মেয়াদে সাহসের সাথে সরকার পরিচালনা করছেন। মিথ্যা দিয়ে ক্ষণিকের উন্মাদনা সৃষ্টি করা গেলেও সত্য চিরস্থায়ী।
বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। আমরা আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছি। সমগ্র জাতির জন্য এটি আনন্দের এবং গর্বের।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য, ক্ষুধা, নিরক্ষরতামুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। ২০০৮-০৯ বছরে জিডিপির আকার ছিল ১০৩.৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯-২০ সালে তা ৩৩০.২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০০৮-০৯ সালে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর ২০১৮-১৯ সালে তা ৪০.৫৪ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পায়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৮-০৯ সালে ৭.৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৪৪.০৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। মানুষের গড় আয়ু ২০০৯-১০ সালের ৬৯.৬১ বছর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯-২০ সালে দাঁড়িয়েছে ৭২.৬ বছর। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা আজ শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। মুজিব শতবর্ষে দেশের সকল গৃহহীন মানুষকে পর্যায়ক্রমে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮ লাখ ৯২ হাজার গৃহহীনকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে সারা পৃথিবীর জীবনযাত্রা যেখানে থমকে আছে সেখানে জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্তে জীবন-জীবিকার সমন্বয় করে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থাপনায় শেখ হাসিনার সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকুক, সুখে থাকুক, তাদের জীবনমান উন্নত হোক- এটা অনেকের সহ্য হচ্ছে না। দীর্ঘ ২১ বছর ক্ষুধা-দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশ যখন আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়িয়েছিল, তখন প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় দমনপীড়ন, সন্ত্রাস, ভোট কারচুপির ভেতর দিয়ে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামাত জোট। ধর্মীয় উন্মাদনা ও ভারত-বিরোধিতাকে ষড়যন্ত্রকারীরা সেদিন অপপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে মসজিদে আজান হবে না, ঐতিহাসিক পানি চুক্তির মাধ্যমে গঙ্গার যে পানি আসবে তাতে ওজু হবে না, ফেনী পর্যন্ত ভারত হয়ে যাবে- আরও কত অপপ্রচার যে দেশবাসীকে শুনতে হয়েছে, তা নিশ্চয়ই সবার জানা।
বিএনপি-জামাতের অপরাজনীতির অস্ত্র অধিক ব্যবহারে আজ ভোঁতা হয়ে গেছে। তাদের ছলচাতুরি মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে ধরা পড়েছে। যড়যন্ত্র রক্তপাতের রাজনীতি মানুষ অনেক দেখেছে। জেনারেল জিয়া নিজের ক্ষমতা নিষ্কণ্টক ও সংহত করতে বিমান বাহিনীর ৫৬৫ জন অফিসার ও সেনাবাহিনীর দুই সহস্রাধিক অফিসার ও সৈনিককে হত্যা করে। আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার, নির্যাতন ও হত্যা করে।
জেনারেল জিয়ার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড হামলায় কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। গুরুতর আহত হন ৫ শতাধিক নেতাকর্মী। বিএনপি-জামাত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করার মানসে সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শাহ এএমএস কিবরিয়া, শ্রমিক নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজ উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করে। এসব হত্যাকা-কে জায়েজ করতেও সেদিন খালেদা জিয়ার সরকার কখনও মিথ্যাচারের জজ মিয়ার নাটক, কখনও ‘ভ্যানিটি ব্যাগ তত্ত্ব’ও হাজির করেছিল।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রতিটি বিষয়ের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এ লেখার উদ্দেশ্য নয়, এ-বিষয়ে ইতোমধ্যে অনেক তথ্যসমৃদ্ধ লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বিএনপির অপরাজনীতির স্বরূপ উন্মোচন এ লেখার উদ্দেশ্য। একটা সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে আল-জাজিরার প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের নির্মিতাসহ পেছনের কুশীলবদের ইতোমধ্যে মানুষ চিহ্নিত করতে পেরেছে। এই প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে অতীতে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলা এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা মামলায় দ-প্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা যুক্ত এটি আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। অদম্য অগ্রগতিতে যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে কোনো ষড়যন্ত্র তাকে দাবায়ে রাখতে পারেনি, পারবেও না।

লেখক : সম্পাদকম-লীর সদস্য, উত্তরণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply