স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বিএনপির অপরাজনীতি

সাদিকুর রহমান পরাগ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। ৫০ বছর। কোনো একটি রাষ্ট্রের জন্য নিঃসন্দেহে এটি একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এটি শুধুমাত্র ঐতিহাসিক নয়, গৌরবের ঘটনাও বটে। কারণ জন্মলগ্ন থেকেই এই রাষ্ট্রটিকে নানাবিধ ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
যে রাষ্ট্রটিকে তার আঁতুড়ঘরেই মেরে ফেলার চক্রান্ত হয়েছিল, যে রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল, যে রাষ্ট্রটি দীর্ঘকাল পরিচালিত হয়েছিল স্বাধীনতার চেতনার বিপরীতে, যে রাষ্ট্রটিকে একটি অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল, সেই রাষ্ট্রটিই আজ বিশ্বের বুকে মাথা তুলে তার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছেÑ এই কল্পনা কি কেউ করতে পেরেছিল যে এটি একদিন সত্যি হবে? কেউ কি এমনটা ভাবতে পেরেছিল?
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের যে পরিস্থিতি হয়েছিল সেদিন সেটি কেউ ভাবতে না পারলেও বাস্তবতা হচ্ছে আজ সেই ঘটনাটি ঘটছে। বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে। তাই জাতি হিসেবে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।
আমরা আরও গর্বিত এ কারণে যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, আমাদের মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা ‘মুজিববর্ষ’ পালন করছি তারই স্বপ্নের সোনার বাংলায়।
আমরা গর্বিত এই কারণে যেÑ সকল ষড়যন্ত্র, সংকট, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে আমরা পেয়েছি জাতির পিতার সুযোগ্য দুই কন্যা মাননীয় শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানাকে।
বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী আরও মহিমান্বিত হয়েছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের অভিযাত্রায় জাতিসংঘ বাংলাদেশের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করায়।
আমাদের স্বাধীনতা কারও দয়ার দান নয়। আমাদের স্বাধীনতা কুড়িয়ে পাওয়া পরের ধনও নয়। এ ঘটনাটি একদিনে ঘটেনি। কোনো এক ভোরে উঠে মানুষ দেখেনি যে দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। আমাদের এই স্বাধীনতা অর্জনে রক্ত দিতে হয়েছে। স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ শহিদ হয়েছে আর আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ঘটেছে। স্বাধীনতার জন্য এত বড় আত্মত্যাগের ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।
আর এই আত্মত্যাগের জন্য সমগ্র জাতিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার স্বপ্নের বীজ বোনার দুরূহ কাজটিই অসম সাহসিকতায় সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে মানুষকে তার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে ধীরে ধীরে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন তিনি। আর এভাবেই মায়ের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন, সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, স্বাধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, ৬-দফার আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান, অসহযোগ আন্দোলনসহ ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে নিজেকে প্রস্তুত করে স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য। আর তাই বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, তখন বাংলার আপামর নিরস্ত্র জনতা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার মহান সংগ্রামে।
তাই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী মহিমান্বিত হয়ে ওঠে জাতিসংঘের ইউনেস্কো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ‘বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায়।

বিএনপির অপরাজনীতি
আজকে যখন আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি তার গর্বিত অংশীদার দেশের প্রতিটি নাগরিক। আমরা সবাই মিলেই উদযাপন করবÑ সেটিই তো স্বাভাবিক।
সেই স্বাভাবিকতার মধ্যে একটা ‘কিন্তু’ রয়ে গেছেÑ একটি প্রশ্ন রয়ে গেছে। প্রশ্নটি হচ্ছে যারা দেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের বিরোধিতা করেছে, যারা বাংলাদেশের অস্তিত্বের মূলে বারবার কুঠারাঘাত করেছে এবং এখনও করছে তারা কি উদযাপনের সেই অধিকার রাখে?
সাধারণভাবে হয়তো প্রশ্নটি ওঠা উচিত ছিল না। কিন্তু উঠছে। উঠাতে হচ্ছে। আর এর কারণ হচ্ছে বিএনপি-র স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন!!!
অনেকে বলবেন, বিএনপিও তো এদেশেরই একটি রাজনৈতিক দল। তারাও তো স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে পারে, আর তাতে দোষটাই বা কোথায়।
অনেকে হয়তো বলবেন যে বিএনপি তো স্বাধীনতা-বিরোধী দল নয়Ñ ওরাও তো মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে- ওখানেও তো অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেÑ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান তো সেক্টর কমান্ডার ছিলেনÑ ইত্যাদি ইত্যাদি।
না স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন দোষের কিছু নেই। অন্যান্য সবার মতো বিএনপিও পালন করতে পারে। কিন্তু ‘বিএনপি’ বলেই তো যত শঙ্কা। এর কারণ বিএনপির জন্ম, রাজনৈতিক অভিসন্ধি এবং তার অতীত কর্মকা- দেখে আমরা কখনও শঙ্কা মুক্ত হতে পারি না।
বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর দেশের রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিতে বিএনপিও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমনে সে-রকম একটি ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা করে।
এখন প্রশ্ন হতে পারে কেন তারা এ-কাজটি করল। কারণ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে তারা তাদের রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিকে আড়াল করতে চেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে তারা মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে তারা সুকৌশলে জাতিকে বিভক্ত ও বিভ্রান্ত করে বিএনপির নেতৃত্বে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছে এবং দেশকে আবার পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে চেয়েছে।
বিএনপি আদৌ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এ বিষয়টি আমরা যত দ্রুত উপলব্ধি করতে পারব, ততই সেটি দেশের জন্য মঙ্গলজনক। কেন নয়? সেটি বুঝতে হলে আসুন দেখে নিই মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে বিএনপি আসলে কী কী করেছে-

১. বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের যোগসাজশ ছিল।
২. বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার যেন না হয় সেজন্য ইনডেমনিটি আইন পাস করেছে। শুধু তাই নয়, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে খুনিদের পুরস্কৃত করেছে।
৩. রাষ্ট্র ও সমাজ-জীবন থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে।
৪. মুক্তিযুদ্ধের মৌল-চেতনাকে বাদ দিয়ে আমাদের পবিত্র সংবিধানকে পদদলিত করেছে।
৫. বাঙালি বনাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধোঁয়া তুলে পুরো জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে এবং করছে।
৬. স্বাধীনতার ঘোষণা বিতর্ক সৃষ্টি করে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে।
৭. ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নস্যাৎ করতে সংবিধানে পরিবর্তন ঘটিয়ে ধর্মীয় রাজনীতির পথকে প্রশস্ত করেছে।
৮. একাত্তরে ঘাতক-দালাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথকে রুদ্ধ করতে দালাল আইন বাতিল করেছে এবং সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়েছে।
৯. নতুন প্রজন্মকে দেশবিমুখ করতে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে বিতর্কিত করেছে। পাঠ্যপুস্তকে ভুল ইতিহাস পড়ানো হয়েছে। রেডিও-টিভিতে ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার নিষিদ্ধ করেছে।
১০. চিহ্নিত রাজাকারদের উপ-প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বানিয়ে ক্ষমতার অংশীদার করেছে।
১১. বিদেশে পলাতক একাত্তরের নরঘাতক গোলাম আজমকে বাংলাদেশে আসার এবং রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে।
১২. মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার সেনাসদস্যকে হত্যা করেছে।
১৩. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে পাকিস্তানি শিল্পীদের বাংলাদেশে এনে পাকি-সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে।

আমরা লক্ষ করেছি যে জিয়াউর রহমানের এই অপরাজনীতির কৌশলটি পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার বিএনপিতেও অব্যাহত ছিল এবং আছে।
১. খালেদা জিয়া গোলাম আজমকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়েছে এবং ঘাতক-দালালদের বিচার আন্দোলনকে রুদ্ধ করতে গণ-আদালতের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করেছে।
২. খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার জামায়াতে ইসলামীর চিহ্নিত ঘাতকদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছে।
৩. অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিকে নেতৃত্ব শূন্য করতে তারেক জিয়ার নীলনকশানুসারে বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করেছে।
৪. উগ্র-ধর্মীয় বাতাবরণে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করতে বিএনপি-জামাত সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে বাংলাভাই, জামা’আতুল মুজাহিদীন (জেএমবি)-সহ বিভিন্ন উগ্র-জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান ঘটানোর অপচেষ্টা হয়। একই সঙ্গে দেশের ৫০০টি স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
৫. একাত্তরের ঘাতক দালাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করেছে। এমনকি বিচার বন্ধ করতে দেশের ভেতরে আগুন সন্ত্রাসসহ নানারকম নৈরাজ্য সৃষ্টির তৎপরতা চালিয়েছে।
৬. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য বিদেশেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করিয়েছে।
৭. হেফাজতে ইসলামের আবরণে বিএনপি অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের অপচেষ্টা চালিয়েছিল।

উপরোক্ত ঘটনাগুলো থেকে নিশ্চয়ই কারও বুঝতে বাকি থাকার কথা নয় যে বিএনপি আদতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কোনো রাজনৈতিক দলই নয়। মুক্তিযুদ্ধকে তারা এতদিন ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং এখনও করছে।
এ কাজটি এতদিন ধরে সুকৌশলে করে এলেও আজকে এই কৌশলই তাদের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। তারা না পারছে বাঙালির মুক্তি আন্দোলনের ধারাবাহিক সংগ্রামকে স্বীকার করতে, না পারছে একে অস্বীকার করতে। ‘তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষক’ দাবির আড়ালে পাকি-ভাবধারা প্রতিষ্ঠার যে অপরাজনীতি তারা করছিল, সেটি ক্রমশ মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ত এখন মানুষের কাছে উন্মোচিত। সেই অসহায়ত্ত থেকে তারা খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো আবার সুবর্ণজয়ন্তীকে ব্যবহার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচির অন্যতম হচ্ছে ৭ মার্চ এবং ২৫ মার্চ গণহত্যার কালরাত্রি শীর্ষক আলোচনা সভা। এ দুটি কর্মসূচি বলে দেয় যে তারা কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এখানে উল্লেখ্য যে ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হলেও বিএনপি কিন্তু এতদিন এ দিবসটি পালন করেনি।
আর ৭ মার্চ পালনের নামে তারা এই ঐতিহাসিক দিনটিকেও বিতর্কিত করার অপেচেষ্টায় লিপ্ত। আলোচনায় বিএনপির নেতাদের বক্তব্য থেকে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে। সেদিনের সভায় বিএনপি নেতা ইকবাল মাহমুদ টুকু বলেন, “৭ই মার্চ দুপুরে জনসভা। জনসভাস্থল মানুষের কানায় কানায় ভর্তি। সবার আশা আজ স্বাধীনতার ঘোষণা আসবে। শেখ মুজিবর সাহেব বক্তব্য শুরু করলেন। ওনার প্রতিটি বাক্যে জনগণ উত্তেজিত, এই বুঝি স্বাধীনতার ঘোষণা আসবে। কিন্তু ভাষণে যে স্বাধীনতার ঘোষণা সেটা জনগণ পায়নি।”
তাদের এ বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে বিএনপির ৭ মার্চ পালনের আসল উদ্দেশ্যটা কী।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের নামে বিএনপি যে আবারও মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধ এবং ইতিহাসকে বিতর্কিত করার তাদের সেই পুরনো খেলায় নেমেছে সে-বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
অতএব সাধু সাবধান।

লেখক : সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, উত্তরণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply