গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে এক অনবদ্য শিল্পকর্ম

বিশেষ প্রতিবেদন : ১৭ মার্চ ২০২১ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকীতে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ জাতীয় পরিষদের উদ্যোগে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শস্যচিত্রে (Crop Field Mosaic) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকডর্সে স্বীকৃতি, বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশের জন্য এক মহান অর্জন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। কৃষকের অধিকার আদায় এবং শ্রমিকের শ্রম ও ঘামের সঠিক মূল্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সাড়ে ৭ কোটি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ’৭১-এর পরাজিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ৪৫ বছর পরেও মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলার কৃষক সমাজ ও কৃষিবিদরা তাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় গভীর শ্রদ্ধায় জাতির পিতার আদর্শকে শুধু ধারণই করেন না, তা পালনও করেন। সেই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্বীকৃতি অর্জনের জন্য এই নান্দনিক শিল্পকর্মের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
বঙ্গবন্ধু বাংলার কৃষক সমাজকে ভালোবাসতেন। কৃষির উন্নয়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্ন বুনেছিলেন। আর কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের লক্ষ্যে আধুনিক ও উন্নত কৃষি প্রযুক্তি স্থাপনের মানস থেকে মেধাবী কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের কৃষি শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা প্রদান করেছিলেন। হাজারও রাজনৈতিক ও সামাজিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া এই মর্যাদার জন্য কৃষিবিদরা চিরকৃতজ্ঞ। একই সাথে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে তারই সুযোগ্য তনয়া প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ও ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখবেন।
জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে কৃষি, কৃষক, কৃষিবিদ ও ফসলের মাঠ দিয়ে কীভাবে জাতির পিতাকে সম্মান দেখানো যায়, সেই ভাবনা থেকে কিছু তরুণ কৃষিবিদ সাংবাদিক ভাই ২০২০ সালের মার্চ থেকে ভাবনা শুরু করেন। এই ভাবনা থেকে প্রথম যাত্রায় ফসলের মাঠে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ক্রপআর্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যা পরবর্তীতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অর্জনের লক্ষ্যে শস্যচিত্র (Crop Field Mosaic) করার পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে আগস্ট মাসব্যাপী এই ভাবনাকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে ঐ তরুণ কৃষিবিদরা দেশের সম্মানিত অনেক ব্যক্তি, স্বনামধন্য অনেক প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে নিরাশ হয়ে সেপ্টেম্বর ২০২০ সালের শুরুর দিকে কৃষি উপকরণ উৎপাদনকারী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে যান। কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান সাথে সাথেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এর সাবেক মহাসচিব ও সভাপতি কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করেন। কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম অত্যন্ত উৎসাহ ও আগ্রহচিত্তে বিষয়টি শোনেন এবং গ্রহণ করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ ও ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রাথমিক ভাবনার দুই তরুণ কৃষিবিদ ফাইজুল সিদ্দিকী ও কৃষিবিদ হুমায়ুন চিশতিকে নিয়ে কারিগরি বিশ্লেষণসহ বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন।
এই কমিটি গ্রাফিক ডিজাইন, কারিগরি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন উপযোগী প্রতিবেদন নিয়ে ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সাথে প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা করেন। সেই সভায় কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি অর্জন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার মূল চালিকাশক্তি ছিল কৃষক ও কৃষি। সেই কৃষকের প্রধান ফসল ধান ও বাঙালির প্রধান খাদ্য ভাত আর এই দর্শন থেকেই সবুজ ও গাঢ় বেগুনি রঙের ধানের জাত দিয়ে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ এই অনবদ্য শিল্পকর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বঙ্গবন্ধুর ভাবনায় ছিল সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা গ্রামীণ পরিবেশ। সামাজিক, রাজনৈতিক এবং যোগাযোগ সুবিধার বিবেচনায় ও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি প্রাপ্তির ভাবনা থেকে একসাথে ১২০ বিঘা জমি পাওয়ার বিবেচনায় স্থান নির্ধারিত হয় বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার ভবানিপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রাম। এই সভায় ২০২১ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শুভ জন্মদিনে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতির ঘোষণার লক্ষ্যে ধানের জাত ও মৌসুম নির্ধারণ হয়। উক্ত সভায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সাথে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও তাদের নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় জানার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই বিশাল মহাপরিকল্পনার কারিগরি ও অর্থায়নে সার্বিক সহযোগিতাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপ কাজ করবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
২০২০ সালের ২ অক্টোবর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক সভা কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ও বাংলাদেশের বেগুনি ও সবুজ রঙের বোরো মৌসুমের সংগৃহীত (ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপ উদ্ভাবিত সবুজ রঙের হাইব্রিড জনক রাজ ও চীনের F-1 বেগুনি রঙের ধানের জাত) জাতগুলোর মধ্যে রং, জলবায়ু, মাটি, উৎপাদন ক্ষমতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার সক্ষমতাসহ বিভিন্ন গুণাবলি বিচার-বিশ্লেষণ করার পর চীন হতে সংগৃহীত বেগুনি রঙের এবং বাংলাদেশের সবুজ রঙের বোরো ধানের জাত দিয়ে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২ অক্টোবর ২০২০-এর সভায় এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গঠিত হয় ত্রিমাত্রিক সাংগঠনিক কাঠামো। কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে আহ্বায়ক ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক, কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানকে সদস্য সচিব এবং কৃষি শিক্ষার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও গণ্যমান্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হয় ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ’।
সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও কৃষিবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, কৃষিমন্ত্রী কৃষিবিদ ড. মো. আবদুর রাজ্জাক এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মানিত প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দকে নিয়ে গঠিত হয় উপদেষ্টা পরিষদ। কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানকে আহ্বায়ক ও কৃষিবিদ ফাইজুল সিদ্দিকীকে সদস্য সচিব ও কৃষিবিদ হুমায়ুন চিশতিকে ফিন্যান্স কন্ট্রোলার করে গঠিত হয় ১০১ সদস্য বিশিষ্ট বাস্তবায়ন কমিটি। এই সভায় জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সদয় সম্মতি ও দিক-নির্দেশনা গ্রহণের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বীজতলা তৈরি ও মূল ১০৫ বিঘা জমির প্রস্তুতি। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সংযুক্ত করা হয় ১০০ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের সদস্য ও ২০০ কৃষাণ-কৃষাণি ভাই-বোনকে।
১০ জানুয়ারি ২০২১, অফিসিয়ালি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কাছে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ এই নান্দনিক শিল্পকর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসহ তাদের নীতিমালা মোতাবেক যাবতীয় তথ্যসহ অফিসিয়ালি চিঠি প্রদান করেন শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
১৮ অক্টোবর ২০২০, ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ জাতীয় পরিষদ ও বাস্তবায়ন কমিটির তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় ১০৫ বিঘা জমির ধান উৎপাদিত ধানের ৭৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভা-ারে প্রদান এবং এই ধানের বীজ পেলে কৃষকরা যেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে ফসলের মাঠে এ-রকম নান্দনিক শিল্পকর্ম করতে উৎসাহিত হয় সে-জন্য আগ্রহী কৃষক এবং লিজ নেওয়া জমির স্বত্বাধিকারী কৃষকদের মাঝে বাকি ২৫ শতাংশ বীজ বিতরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সাথে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা গ্রহণ করে ড্রোনের সাহায্যে বিশাল এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে সাধারণ দর্শকদের উপভোগ লক্ষ্যে সুযোগ তৈরির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বাস্তবায়ন কমিটির ব্যবস্থাপনায় ধানের বীজতলায় ধানের দুই রঙের চারা যখন রোপণ উপযোগী এবং শস্যচিত্রে মূল ফসলের মাঠ যখন রোপণের জন্য প্রস্তুত, ঠিক সেই সময় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকডর্স অথরিটি ২৬ জানুয়ারি ২০২১, তাদের অফিসিয়াল Attempt Logo অনুমোদন ও ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেন এবং ২৭ জানুয়ারি ২০২১, শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এই কর্মকা- বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার মৌখিক সদয় সম্মতি ও নির্দেশনা পান। শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রধানমন্ত্রী কৃষকরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক এই আয়োজন বাস্তবায়নের নির্দেশনা ও সদয় সম্মতির বহু প্রতিক্ষীত আনন্দের সংবাদটি উপদেষ্টা কমিটি, জাতীয় কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটির সব সদস্যকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতি ও নির্দেশনার সংবাদটি এ-কাজে সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের এক নতুন মাত্রার প্রাণসঞ্চার করে এবং সবাই বাস্তবায়নের দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে নবোদ্যমে কাজ শুরু করেন।
ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত Attempt Logo ব্যবহার করে ২৮ জানুয়ারি ২০২১-এ প্রেস কনফারেন্স করে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপনের মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি অর্জনে এই পথযাত্রার অফিসিয়াল ঘোষণা করেন শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। দেশ ও জাতিকে এই মহাযজ্ঞ অফিসিয়ালি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার এই মহতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি এবং বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এর সভাপতি কৃষিবিদ প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া ও মহাসচিব কৃষিবিদ মো. খায়রুল আলম প্রিন্সসহ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী এবং সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নির্দেশনা মোতাবেক এবং বোরো মৌসুমে ধান জাতের নির্ধারিত রোপণ সময় অনুযায়ী ২৯ জানুয়ারি ২০২১-এ ধানের চারা রোপণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করে বাস্তবায়ন কমিটি। শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত সদস্য জননেতা অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবীর নানক, কৃষিবিদ সমীর চন্দ এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ফসলের মাঠে চারা রোপণ করে ১০৫ বিঘা জমির ওপর ধানের চারা রোপণের যাত্রা শুরু করেন। ১০০ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর সদস্যের সহযোগিতায় ও ২০০ কৃষাণ-কৃষাণির মাধ্যমে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ধানের চারা রোপণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করেন বাস্তবায়ন কমিটি।
বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী পালনের এই মহতি উদ্যোগ ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন সাংবাদিক বন্ধুরা ব্যাপকভাবে প্রচার করায় দেশ ও দেশের বাইরের মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ। হাজার হাজার মানুষ ফসলের মাঠে তাদের অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতাকে সম্মান জানানোর জন্য ভবানিপুরের বালেন্দা গ্রামে ছুটে যেতে থাকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আগমনে বালেন্দা গ্রামের ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ মাঠের প্রাঙ্গণ হয়ে পড়ে মুজিবভক্তদের এক মিলন মেলা।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের মনোনীত দুজন প্রতিনিধি গত ৯ মার্চ দিনব্যাপী সরকারি ও তাদের মনোনীত সার্ভেয়ারসহ শস্যচিত্রের আকার পরিমাপ, প্রাকৃতিক অবয়বসহ নানাবিধ কারিগরি দিকগুলো বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করেন এবং সত্যতার সাক্ষ্য প্রদান করেন। এই দিন থেকে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও বাস্তবায়ন কমিটিসহ বাংলাদেশের সকল দেশপ্রেমিক মানুষ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন। অবশেষে অবসান হলো প্রতিক্ষার পালা, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের ১৬ মার্চ ২০২১ তারিখে প্রেরিত ই-মেইলে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অর্জনের শুভ সংবাদটি জানতে পারেন জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সদস্য সচিব কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান। শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম তাৎক্ষণিকভাবে সর্বপ্রথম এই শুভ সংবাদ প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন, যার প্রেরণা ও নির্দেশনায় এই বিশাল মহতি কর্মযজ্ঞটি সফলভাবে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করেছে। ইতোমধ্যে সব মিডিয়া বন্ধুদের কল্যাণে জেনে যায় বাংলাদেশসহ সারাবিশে^র মানুষ।
১৭ মার্চ ২০২১ জাতির পিতার ১০১তম জন্মশতবার্ষিকীতে দুপুর ১:৩০ মিনিটে এক মনোজ্ঞ ওয়েবিনারের মাধ্যমে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সদস্য সচিব কৃষিবিদ কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শস্যচিত্রের সর্ববৃহৎ এ শিল্পকর্মকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ অফিসিয়ালি ঘোষণা করেন। – “The largest Crop mosaic (Image) is 1,19,430.273 Sq.m (1,285,536.75 sft) and was achieved by A F M Bahauddin Nasim & KSM Mostafizur Rahman in an attempt organized by National Agri care import and export LTD. (all Bangladesh) in Dhaka, Bangladesh on 9 March, 2021.
The crop mosaic depicts the father of the nation of Bangladesh, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and was to commemorate on the 100 year anniversary on 17th March.”
১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিনে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু স্থান পাওয়ায় ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সুমধুর ধ্বনি গিনেস অথরিটির মুখে উচ্চারিত হওয়ার সমগ্র বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ হয়েছে সম্মানিত এবং গর্বিত, সারাবিশ্বের শোষিত ও নিপীড়িত মানুষ হয়েছেন আনন্দিত।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখাবয়ব দিয়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শস্যচিত্র (Crop Field Mosaic) ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অর্জন করায় জাতির পিতার সুযোগ্য তনয়া প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা গত ২১ মার্চে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের আলোচনা সভায়, শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ, বাস্তবায়ন কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অর্জনের এই সাফল্যকে বাংলাদেশের সব জনগণকে উৎসর্গ করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply