প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

    আবদুল মতিন খসরু
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু (৭১) গত ১৪ এপ্রিল বিকালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পাঁচবারের এই সংসদ সদস্য (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আবদুল মতিন খসরু ১৬ মার্চ সিএমএইচে ভর্তি হন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশের সর্বোচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৫ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোক বিবৃতিতে তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
গত ১৫ এপ্রিল পাঁচ-দফা জানাজা ও সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুরের নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় তাকে। সকালে রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পক্ষ থেকে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জানাজায় অংশ নেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি, এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি, অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসসহ সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন স্তরের আইনজীবীরা।
এরপর মতিন খসরুর মরদেহ নেওয়া হয় তার নিজ এলাকা কুমিল্লার বুড়িচংয়ে। বাদ জোহর সেখানকার আনন্দ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয়, বিকেলে ব্রাহ্মণপাড়ার ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চতুর্থ এবং সর্বশেষ নিজ গ্রাম মীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম ও শেষ জানাজা। আবদুল মতিন খসরু মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। কুমিল্লা জেলার অবিভক্ত বুড়িচং থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন তিনি। ১৯৭৮ সালে কুমিল্লা জজকোর্টে যোগ দিয়ে ১৯৮২ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কুমিল্লা-৫ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে একই আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন তিনি। সর্বশেষ একাদশ সংসদে তিনি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।
আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে আরও শোক জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপি, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪-দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এমপি, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ এমপি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রমুখ।

শামসুজ্জামান খান
বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান বাংলা নববর্ষের দিন গত ১৪ এপ্রিল বেলা ২টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
ঐদিন আসরের নামাজের পর মানিকগঞ্জের সিংগাইরের চারিগ্রামে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্যাঙ্গনে শামসুজ্জামান খানের অবদান বাংলাদেশের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’ শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত এই গবেষক ও লেখক বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাহিত্যকে অনন্য গবেষণাকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, যা ভবিষ্যতেও গবেষণাকর্মীদের অনুপ্রাণিত করবে।’ শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও আমার দেখা নয়াচীনÑ এই বইগুলোর সম্পাদনা ও প্রকাশে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন। শামসুজ্জামান খান কর্মগুণে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’
এপ্রিলের শুরুতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন অধ্যাপক শামসুজ্জামান। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে ১১ এপ্রিল তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছিল।
শামসুজ্জামান খান স্ত্রী ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা শামসুজ্জামান খান মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ, ঢাকার জগন্নাথ কলেজ (পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০০১), একুশে পদক (২০০৯) এবং ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, কালুশাহ পুরস্কার, দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার, শহীদ সোহরাওয়ার্দী জাতীয় গবেষণা পুরস্কারসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ সালে মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ২০১৯ সালে তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি নির্বাচিত হন। তার রচিত ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যÑ ফোকলোর চর্চা, বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তা ও বর্তমান বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, মুক্তবুদ্ধি, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমকাল, বাঙালির বহুত্ববাদী লোকমনীষা, মীর মশাররফ হোসেন : নতুন তথ্যে নতুন ভাষ্যে, সৃজনভুবনের আলোকিত মানুষেরা, রঙ্গরসের গল্পসমগ্র, কিশোর রচনাসমগ্র, বাংলাদেশের উৎসব, বাংলা সন ও পঞ্জিকা, ফোকলোর চিন্তা ইত্যাদি।

কবি শঙ্খ ঘোষ
বাংলা ভাষার শক্তিমান কবি শঙ্খ ঘোষ গত ২১ এপ্রিল ৮৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করেছেন। ঐদিন বেলা সাড়ে ১১টায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী শঙ্খ ঘোষের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। বিকালে শঙ্খ ঘোষের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা ভূমিকায় দেখা গেছে শঙ্খ ঘোষকে। দিল্লি­ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া এবং বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৯২ সালে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরগ্রহণ করেন।
বছর দুয়েক আগে ‘মাটি’ নামের একটি কবিতায় মোদি সরকারের মুসলিমবিদ্বেষী নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন তিনি। সাহিত্যজীবনে একাধিক সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন শঙ্খ ঘোষ। ১৯৭৭ সালে ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার ‘সাহিত্য আকাদেমি’ পুরস্কার পান। ১৯৯৯ সালে কন্নড় ভাষা থেকে বাংলায় ‘রক্তকল্যাণ’ নাটকটি অনুবাদ করে ফের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পান তিনি। এছাড়া রবীন্দ্র পুরস্কার, সরস্বতী সম্মান, জ্ঞানপীঠ পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। ২০১১ সালে শঙ্খ ঘোষকে পদ্মভূষণে সম্মানিত করে ভারতের তৎকালীন সরকার।
শঙ্খ ঘোষের প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। তার পিতা মনীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং মাতা অমলা ঘোষ। ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বর্তমান চাঁদপুর জেলায় তার জন্ম। বংশানুক্রমিকভাবে পৈতৃক বাড়ি বরিশালের বানারিপাড়ায়। তবে শঙ্খ ঘোষ বড় হয়েছেন পাবনায়। পিতার কর্মস্থল হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক বছর পাবনায় অবস্থান করেন এবং সেখানকার চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠ থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৫১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলায় কলা বিভাগে স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

সারাহ বেগম কবরী
করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৭ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়িকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী। রাতে হাসপাতালটির হিমঘরেই তার মরদেহ রাখা হয়। সকালে মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের হিমঘর থেকে মরদেহ নেওয়া হয় মোহাম্মদপুরের আল-মারকাজুলে। সেখানে গোসল সম্পন্নের পর মরদেহ শেষবারের জন্য নেওয়া হয় গুলশান-২ নম্বরের লেক রোডের প্রিয় বাসস্থানে। শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীরা। শোকের আবহে ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার বাতাস। এরপর বাদ জোহর কবরস্থান প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গার্ড অব অনার প্রদানের পর বনানী কবরস্থানে কবরীকে সমাহিত করা হয়।
গত ৫ এপ্রিল কবরীর কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। সেদিন রাতেই তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় পরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে নেওয়া হয় কবরীকে।

এসএম মহসিন
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা এসএম মহসিন। গত ১৯ এপ্রিল সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
চার দশকের বেশি সময় ধরে মঞ্চ ও টেলিভিশনে অভিনয় করছেন এসএম মহসীন। অভিনয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ২০২০ সালে তাকে একুশে পদক প্রদান করে সরকার। দীর্ঘদিন তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
মহসিন টাঙ্গাইল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্য বিভাগ অনুষদের সদস্য হিসেবে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে এবং জাতীয় থিয়েটারের প্রথম প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।
আতিকুল হক চৌধুরী পরিচালিত ‘রক্তে ভেজা’ ও ‘কবর’ নাটকে এবং মুনীর চৌধুরী পরিচালিত ‘চিঠি’ নাটকে অভিনয় করেছেন মহসিন। ‘পদক্ষেপ’ নাটকের মধ্য দিয়ে তিনি রেডিও নাটকে আত্মপ্রকাশ করেন।
অনিমেষ আইচের পরিচালনায় ‘গরম ভাত’ অথবা ‘নিছক ভূতের গল্প’ নাটকে অভিনয় করে টিভি নাটকের দর্শককের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। এছাড়াও ‘মহর আলী’, ‘সাকিন সারিসুরি’সহ বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘কবর’, ‘সুবচন নির্বাসনে’সহ বেশ কয়েকটি মঞ্চনাটকে কাজ করেছেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply