হেফাজতের রাজনীতির আড়ালে

আমিনুল ইসলাম আমিন: ২০০৯ সালের দিকে সরকার ঘোষিত নারীনীতিকে ইসলামবিরোধী হিসেবে অভিহিত করে হেফাজতে ইসলামের জন্ম হয়। যদিওবা সরকার ঘোষিত নারীনীতির মধ্যে ইসলামবিরোধী কিছুই ছিল না; বরং নারীনীতি ছিল এদেশের পশ্চাদপদ, অবহেলিত নারী-সমাজের অধিকার নিশ্চিত করার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মাত্র। শুরুতে হেফাজতে ইসলাম নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করলেও, সময় গড়ানোর সাথে সাথে ‘অরাজনৈতিক সংগঠন’ নামের আড়ালে তাদের রাজনৈতিক অভিলাষ দিনের পর দিন প্রকট থেকে প্রকটতর হয়েছে। তাছাড়া যে সংগঠনের নেতৃত্বে ৮০ শতাংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সেই সংগঠন অরাজনৈতিক কীভাবে হয়Ñ তা বুঝে আসে না। তাদের রাজনৈতিক অভিলাষের কদর্য রূপটি প্রথম আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় ২০১৩ সালের ৫ মে। সে-সময়ে তারা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে ঢাকায় একটা সমাবেশের ডাক দেয় এবং সমাবেশ শেষে শাপলা চত্বরে গিয়ে একটি শোকরানা মোনাজাতের মাধ্যমে সমাবেশের সমাপ্তির কথা বলে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন হেফাজত নেতারা শাপলা চত্বরের সমাবেশ দেখে ক্ষমতাকে হাতের মুঠোয় ভেবে মুহূর্তের মধ্যেই পল্টি মারলেন। সমাবেশে তারা সরকার পতনের ডাক দিয়ে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেওয়া শুরু করলেন। বিগত ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ তিন দিনের অব্যাহত অগ্নিসন্ত্রাস, ভাঙচুর, মানুষ খুনের মতো বেশ কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারকৃত পরনারীর সাথে জেনার দায়ে ব্যাপক নিন্দিত মামুনুল হক সেদিন দম্ভ করে ঘোষণা করেছিলেন, ‘সৈয়দ আশরাফ সাহেব ও অন্যান্য মন্ত্রীরা রাতের মধ্যে কে কোন দিকে পালাবেন তা ঠিক করে রাখেন, না হলে পালানোর পথ পাবেন না।’ তাদের এ-ধরনের অসংখ্য দাম্ভিক, অশালীন, অশিষ্ট বক্তব্যই তাদের রাজনৈতিক অভিলাষকে প্রশ্নাতীতভাবে প্রমাণ করে। তারা মূলত সহজ-সরল ধর্মপ্রাণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দিবাস্বপ্নে ধর্মীয় নেতার মুখোশে ‘হেফাজতে ইসলাম’ নামের অরাজনৈতিক ব্যানারে সমবেত হয়েছে, যা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
এখনও বাবুনগরী সাহেব ও মামুনুলের হেফাজতে ইসলামের অনেকে কথায় কথায় আরেকটি ‘শাপলা চত্বর’ ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে বুড়িগঙ্গায় ফেলার হুঙ্কার দেন, সরকার পতনের হুমকিও দেন। ‘শাপলা চত্বর’ কথাটি এমনভাবে বলেন যেন এটি তাদের জন্য বড় কোনো গৌরবের বা অর্জনের বিষয়। অথচ বাস্তবতা হলো ‘শাপলা চত্বর’ তাদের লেজ গুটিয়ে পালানোর ইতিহাস। একজন ধর্মভীরু মানুষ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরলতার সুযোগ নিয়ে মোনাজাতের মাধ্যমে সমাবেশ সমাপ্তির কথা বলে মোনাজাতের অনুমতি নিয়ে সেটাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে প্রতারণা করার ইতিহাস। সেই প্রতারণা করতে গিয়ে তারা লেজ গুটিয়ে পালালেন। অবশ্য এটি তাদের প্রথম বা শেষ পরাজয় নয়, মূলত পরাজয়ই তাদের অনিবার্য পরিণতি। ’৫২, ’৬৯, ’৭১ Ñ বারবারই তারা পরাজিত হয়েছে। ভবিষ্যতে করুণ পরাজয়ই তাদের জন্য অবিকল্প নিয়তি। মুখে অরাজনৈতিক সংগঠনের দাবি করলেও এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা ক্ষমতার লোভে পারে না এমন কোনো কাজ জগতে আছে কি না সন্দেহ। সেটা প্রতারণা, শঠতা, নিচুতা, হীনতা, ভ-ামিÑ এমনকি কোরআন-হাদিস টেনে এনে মিথ্যাকে বৈধতার ফতোয়া দেওয়া থেকে শুরু করে যে কোনো কাজই হোক না কেন।
সম্প্রতি আমাদের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে তারা আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকারে ঠেলে দিতে উদ্যত হলো। মোদির আগমন ঠেকাতে রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়ে সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামানোর হুঙ্কার দিল। তাদের কথা শুনে মনে হয়, মোদি বাংলাদেশে এলেই যেন এদেশে আর ইসলাম থাকবে না, ধর্ম থাকবে না। অথচ এমন নয়, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম মোদি বাংলাদেশে আসছেন। ২০১৫ সালেও তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। তখন কিন্তু বিএনপি-জামাতসহ অনেকেই ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন। অবস্থা এমন হয়েছিল যে, আজকে যারা হেফাজতের জন্য অঝোরধারায় কাঁদছেন, সেই বিএনপির নেতৃবৃন্দ মোদির ক্ষমতায়নে খুশি হয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে শুক্রবার সকাল ৮টায় অফিস খোলার আগেই (যাতে সবার আগে শুভেচ্ছা জানানোর ক্রেডিট নিতে পারে) ঢাকাস্থ ভারতের হাইকমিশনে মিষ্টি ও ফুল নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। মোদি সরকারের করুণা নিয়ে ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর বিএনপি নেতৃবৃন্দ শুক্রবার যে সরকারি বন্ধ সেটাই ভুলে গিয়েছিল। যা একটি স্বাধীন দেশের একটি রাজনৈতিক দলের জন্য চরম লজ্জা ও অপমানের!
হেফাজতের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতারকৃত হেফাজত নেতাদের বাঁচানোর জন্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি স্টেটমেন্ট দিলেন যেখানে তিনি চরম অসত্যের আশ্রয় নিয়ে বলেছেন, সরকার দেখে দেখে ধর্মীয় আলেমদের গ্রেফতার শুরু করেছে। অথচ তা সম্পূর্ণ বাস্তবতা বিবর্জিত, অসার ও নির্লজ্জ মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়, কারণ সরকার যদি ধর্মীয় আলেমদের গ্রেফতার-নির্যাতন করতেন, তাহলেও তো সবার আগে গ্রেফতার হতেন বায়তুল মোকাররমের খতিব, গ্রেফতার হতেন আলিয়া মাদ্রাসাগুলোর প্রিন্সিপাল স্যারেরা। কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি, হবেও না। কারণ এই সরকার কখনোই ইসলামের বিরুদ্ধে নয়; বরং এই সরকারের আমলে দ্বীন ইসলামের যে কাজ হয়েছে, তা অতীতের কোনো সরকারের আমলেই হয়নি। প্রকৃতপক্ষে এখন যারা গ্রেফতার হচ্ছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে খুন, জ্বালাও-পোড়াও, সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তিনি আবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘হেফজতের সঙ্গে বিএনপির নয়, সরকারের সখ্যতা।’ মির্জা ফখরুল সাহেবের কাছে প্রশ্ন, সরকারের সাথে যদি হেফজতের সখ্যতা থাকে, তাহলে সন্ত্রাসী কর্মকা-ের দায়ে গ্রেফতারকৃত হেফাজত নেতাদের জন্য আপনাদের এত মায়া কান্না কেন? আসলে হেফাজতের ওপর ভর করে ক্ষমতায় যেতে মরিয়া বিএনপি-জামাত তাদের গভীর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যাওয়ায় খেই হারিয়ে পাগলের প্রলাপ বকছে। বিএনপি-জামাতের ছোট বড় সব নেতা দেশে ও দেশের বাইরে হেফাজতের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের প্রেক্ষিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে মিথ্যা, গাঁজাখুরি অপপ্রচারে লিপ্ত তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে এসব সন্ত্রাসী কর্মকা-ের নেপথ্যেই জামাত-বিএনপি।
এই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি চেয়েছিল নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতার মাধ্যমে চট্টগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে আমাদের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকে কলুষিত ও মøান করতে। তাই তারা রক্তের হোলিখেলায় মেতে উঠল, দেশকে রক্তাক্ত কসাইখানা বানিয়ে চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল। সাধারণ কমনসেন্স দিয়ে এ বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যাবে। বাংলাদেশের হেফাজতিদের মাদার অর্গানাইজেশন কিন্তু ভারতের দেওবন্দে অবস্থিত, যা দেওবন্দ মাদ্রাসা নামে বিখ্যাত। কই তারা তো সেখানে মোদির রক্ত চেয়ে বা মোদিকে টেনেহিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামানোর ব্রত নিয়ে শাহাদাতের কাফেলায় শরিক হতে কাউকে আহ্বান করেনি! এমনকি মোদির বিরুদ্ধে কখনও কোনো মিছিল-মিটিং করেছে এমন কোনো নিউজও তো দেখি না। মোদি তো বাংলাদেশে আসার আগে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম প্রধান দেশ সফর করেছেন, কই সেখানেও তো ইসলাম গেল, ধর্ম গেল বলে রব ওঠেনি কিংবা জেহাদের ডাকও কেউ দেয়নি। তাহলে কি কেবল মোদির বাংলাদেশ সফর ঠেকানোই ইসলাম রক্ষা, ধর্ম রক্ষা ও ইমান আকিদা রক্ষার একমাত্র পথ? মোদি নিজ থেকে বাংলাদেশে আসেননি। আমাদের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে তাকে আমরা অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করে এনেছি। হেফাজতিরা তো ইসলামের আদাব, আখলাক ও রাসূল (স.) সম্পর্কে আমাদের চেয়ে অনেক বেশিই জানেন এবং বুঝেন। তারা কি জানেন না আল্লাহর পেয়ারা নবী (স.) মেহমানদের সাথে কী আচরণ করতে বলেছেন! কীভাবে আপ্যায়িত করতে বলেছেন? সবই জানেন এবং বুঝেন তবু কেবলমাত্র ক্ষমতার লোভে পাগল হয়ে ধর্মের নামে এসব অধর্ম করছেন, ইসলামের নামে অনৈসলামিক কার্যকলাপ করছেন। তারপরও তারা যদি রাজনৈতিক প্রয়োজনে মোদি আগমনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল করতে চাইতেন সেটা তারা করতেই পারতেন। মূলত তারা শান্তিপূর্ণ মিছিলের কথা বলে রাস্তায় নেমে সংঘাতের পথে গেল, রক্তপাতের পথে গেল।
এই ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ধ্বংসযজ্ঞের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে হেফাজত নেতাদের গ্রেফতারের পর জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্য জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেব বললেনÑ ‘অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর ইসলামে হারাম, হেফাজত ইসলাম হারাম কাজ করতে পারে না।’ অথচ ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চের জাতীয় দৈনিক, টিভি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবি, ভিডিও দেখলেই কারও মনে সন্দেহ থাকার কথা নয় যে হেফাজতিরাই সব অপকর্মের হোতা। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, সব দেখে, বুঝে, জেনেও তিনি এসব হারাম কাজে জড়িতদের পরিত্যাগ করবেন না। যেহেতু তার বক্তব্য লোক দেখানো ভ-ামি, মানুষকে ধোঁকা দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। এরপরে বাবুনগরী সাহেব আরেকটি স্টেটমেন্টে বলেছেন, তালিকা দিন ‘সবাইকে নিয়ে আমি জেলে যাব তবু লকডাউন তুলে দিন, মসজিদ, মাদ্রাসা খুলে দিন, মানুষকে ইবাদত বন্দেগি করতে দিন।’ তার কথা শুনে মনে হয় এদেশে যেন কওমি মাদ্রাসা ছাড়া আর কেউ ইবাদত বন্দেগি করে না! যেন ধর্ম, মসজিদ-মাদ্রাসাগুলো বাবুনগরী সাহেবের বাপ-দাদার সম্পত্তি। তাদের ফতোয়ার বা স্বীকৃতি যারা পাবে কেবল তারাই মুসলমান, বাকি সবাই কাফের, মুশরিক, নাস্তিক, মুরতাদ। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়ার পর ফতোয়া দিলেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের সবাই কাফের, নাস্তিক। তাদের জানাজা পড়ানো যাবে না। অথচ দেখুন এই ভ-, প্রতারক, মোনাফিকরা দুদিন যেতে-না-যেতেই তাদের ঘোষিত কাফেরদের নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের বাড়ির গেটে সাক্ষাতের অপেক্ষায় দ-ায়মান। যে কাফেরের জানাজা না পড়ানোর ফতোয়া দিলেন সেই কাফেরের বাড়িতে গিয়ে আবার খাওয়া-দাওয়া করলেন কোন মুখে? এসব দেখার পর আম-জনতার প্রশ্নÑ ‘হুজুর আপনাদের কথার মধ্যে সত্য মিথ্যা আমরা বুঝব কীভাবে? বাবুনগরীর কথা শুনে মনে হতে পারে লকডাউন যেন বাবুনগরী-মামুনুলদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে? অথচ আমরা দেখছি দেশে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্তের এবং মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। আরেকটি অতি প্রাসঙ্গিক বিষয় এখানে উল্লেখ করতেই হয়, বর্তমানে সৌদি আরবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম, তবু সেখানের সরকার জনগণের নিরাপত্তার কথা ভেবে গ্রান্ড মুফতির সর্বসম্মত ফতোয়ায় তারাবির নামাজ ২০ রাকাতের পরিবর্তে ১০ রাকাত করেছেন। কই সেখানে তো হেফাজতে ইসলামের বাপ-দাদারা ইসলাম গেল, ধর্ম গেল বলে মাতম তুলছেন না? বা আমাদের দেশের হেফাজতিরাও ইসলাম বা ধর্ম বিপন্ন হলো সেøাগান তুলে কোনো মিছিল-মিটিং করছেন না! তাহলে আমাদের দেশে করোনার ভয়াবহ ছোবল থেকে বাঁচতে তারাবির নামাজ ২০ রাকাত ঠিক রেখে শুধু সোশ্যাল ডিসট্যান্স মেনটেইন করে নামাজ আদায় করতে বললে ইসলাম বিপন্ন হয় কীভাবে? করোনাকালে দেশে সরকারি মাদ্রাসা, বাংলা বা ইংলিশ মিডিয়াম সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও কওমি মাদ্রাসা খুলে দেওয়ার দাবি তুলছেন কেন? নিরীহ পথশিশুদের বলি বানিয়ে ক্ষমতায় যাবার তর সইছে না বলেই তো! আসলে এসবই তাদের নিম্নমানের ভ-ামি প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না। এই ভ-দের ভ-ামির কোনো শেষ নেই বলে তাদের নেতার জেনার মতো অবৈধ কর্মকা-কে ব্যক্তিগত বিষয় বলে ঘোষণা দেয় এবং সেই অনৈতিক, অনৈসলামিক জেনাকে সীমিত পরিসরে জায়েজের ফতোয়া দেওয়ার জন্য পবিত্র কোরআন-হাদিসকে টেনে এনে ইসলামের সুমহান আদর্শকে কলুষিত করতে তাদের বুক কাঁপে না। অথচ ধর্মের প্রতি তাদের ন্যূনতম শ্রদ্ধা থাকলে, বিশ্বাস থাকলে তাদের নেতা সবার আগে তার কৃত অপকর্মের জন্য মহান আল্লাহ গাফুরুর রাহিমের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, তারপর তার দলের নেতাকর্মী, দেশের আলেম সমাজের কাছে ক্ষমা চাইতেন। তা না করে জেনার মতো জঘন্য পাপকে শরিয়তের অপব্যাখ্যা দিয়ে বৈধতা দেওয়ার স্পর্ধা দেখিয়ে ইসলামকে কলঙ্কিত করছেন। যাদের কারণে আজ ইসলামের সুমহান আদর্শ বিতর্কিত, কলুষিত তাদের হাতে আর যাই হোক, ইসলাম কখনও নিরাপদ নয়। তাছাড়া ইসলাম ও কোরআন রক্ষার জন্য হেফাজতে ইসলাম, নেজামে ইসলাম, জামাতে ইসলাম বা কোনো রাজনৈতিক কিংবা অরাজনৈতিক কোনো দলের প্রয়োজন নেই। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা হিজরের ৯নং আয়াত সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। যেখানে মহান রাব্বুল আলামিন সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং নিশ্চয়ই আমিই তার হেফাজতকারী’। সুতরাং একজন প্রকৃত মুসলমান হিসেবে দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিতে চাইÑ পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন কোরআন থাকবে, ইসলাম থাকবে। এর সামান্য ব্যত্যয় করার ক্ষমতা কারও নেই। তাই নিঃসংকোচে বলতে চাই, ‘এই ক্ষমতালোভী পাষ- এজিদের বংশধরদের কাছে ইসলাম শেখার কিছু নেই। এমনকি ইসলাম শেখানোর কোনো ক্ষমতাও তাদের নেই। ইসলাম যদি শিখতে হয়, ইমান আকিদা যদি ঠিক রাখতে হয়, তাহলে মদিনার ইসলামকে ফলো করতে হবে।
তাই আমরা বলি, আমাদের ইসলাম হেফাজতে ইসলাম নয়, নবী করিম (স.)-এর নির্দেশিত ইসলাম। আমাদের ওস্তাদরা আমাদের নবী নয়, আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত করুন, সত্য জানা, বুঝা এবং সত্যের পথে চলার তৌফিক দান করুন।

লেখক : উপ-প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply