মুজিবনগর দিবস উদযাপন- অপশক্তিকে পরাস্ত করার শপথ

উত্তরণ প্রতিবেদন : করোনা প্রতিরোধ এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করার দৃপ্ত শপথে গত ১৭ এপ্রিল ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের ৫০ বছর পূর্তি, সুবর্ণজয়ন্তী দিবস। প্রাণঘাতী করোনা মহামারির সময়ে সীমিত কর্মসূচি নিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়েছে। তবে প্রতিটি অনুষ্ঠানেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা প্রতিরোধসহ ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
দেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের ৫০ বছর পূর্তি অর্থাৎ সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঐতিহাসিক এ দিনটি স্মরণে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি স্মৃতিবিজড়িত মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননেও জাতীয়ভাবে করোনার কারণে সীমিত পরিসরে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিটি অনুষ্ঠানেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি উঠেছে। ভোরে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মেহেরপুরে সরকারিভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি ও চলমান লকডাউনের কারণে দিবসটি উপলক্ষে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে সীমিত পরিসরে শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়। মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।
সকালে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির নেতৃত্বে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে এবং পরে দলের পক্ষ থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি : করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করায় এবার স্বাধীন-সার্বভৌম প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণের স্মৃতিবিজড়িত মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরেও সরকারিভাবে সীমিত কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি। এছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। পরে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর পর মুজিবনগরে নির্মিত শেখ হাসিনা মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। সঙ্গে ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি, জেলা প্রশাসক ড. মুনসুর আলম খান এবং পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সংগঠন, আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
এদিকে সকাল ৬টা মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের পাদদেশে সরকারিভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসের ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মনসুর আলম খান। তার সঙ্গে ছিলেন পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলামসহ আনসার ভিডিপি ও পুলিশ সদস্যরা। পতাকা উত্তোলন শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বীর শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত : এদিকে মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ১৮ এপ্রিল ঢাকায় তার দপ্তরে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেন। এছাড়া ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ড ও একটি বিশেষ সিলমোহর প্রকাশ করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply