ম্যাজিক সংখ্যা ১৭ এবং বঙ্গবন্ধু – বাংলাদেশ

সাদিকুর রহমান পরাগ: বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু মানেই মানুষের মুক্তির সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। তাই এ-কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে এই মহামানবের জন্ম না হলে আমরা এই স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না। তার জন্ম না হলে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে আমরা মুক্ত হতে পারতাম না। তাই নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা পালন করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ। সেই সঙ্গে আমরা পালন করছি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।
রাজনীতিবিদ-শিক্ষক-গবেষক-ইতিহাসবিদ-অর্থনীতিবিদ-সমাজবিজ্ঞানীসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নিয়ে নিরন্তর চর্চা ও গবেষণা করে যাচ্ছেন এবং আগামী দিনগুলোতেও নিঃসন্দেহে এই চর্চা অব্যাহত থাকবে।
কিন্তু সেই আলোচনার জন্য অবশ্য এ লেখাটি নয়। এখানে আমরা কথা বলব একটি ম্যাজিক সংখ্যা নিয়ে। সংখ্যাটি আমাদের সবার খুব পরিচিত। আর সেই সংখ্যাটি হচ্ছে ১৭। একে কেন ম্যাজিক সংখ্যা বলছিÑ সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। এর উত্তর হচ্ছে, এই সংখ্যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের কথা।
● ১৭ সংখ্যাটি বললে প্রথমে আসে ১৭ মার্চের কথা। ১৯২০ সালের এই দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই স্বাভাবিকভাবে এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
● এবার আসি ১৭ সেপ্টেম্বরের কথায়। ১৯৭০ সালের এই দিনটিতে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে নৌকা প্রতীক পছন্দ করেছিলেন।
● তারপর আসি ১৭ এপ্রিল প্রসঙ্গে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল।
● ১৭-এর কথা এখানেই শেষ নয়। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম দেশ হিসেবে সদস্যপদ লাভ করে।
● ১৭ সংখ্যাটির আরেকটি বিশেষ তাৎপর্য আছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে এদেশের মানুষের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল। দিশাহীন মানুষকে তার ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে জাতির পিতার কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা যে দিনটিতে দেশে ফিরে এসেছিলেন সেই তারিখটিও ছিল ১৭। সেই দিনটি ছিল ১৯৮১ সালের ১৭ মে।

আমরা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারছি যে ১৭ সংখ্যাটি আমাদের জাতীয় জীবনের সঙ্গে কতটা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। কিন্তু এই ৫টি উদাহরণ দিয়েই কি ১৭-এর ম্যাজিক শেষ?
মোটেও নয়; বরং শুরু। তাহলে এবার আসুন ১৭ সংখ্যাটির সবচেয়ে বড় ম্যাজিকটি দেখি। ১৭-কে উল্টে দিলে হয় ৭১। অর্থাৎ ১৭ এবং ৭১ হচ্ছে একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। আর ৭১-এর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের বছর। তার মানে বঙ্গবন্ধুর জন্ম তারিখের পিঠেই লেখা রয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম-বছর।
এবার আসুন ১৭ এবং ৭১ নিয়ে কথা বলি। লক্ষ করলে দেখব যে ১৭ এবং ৭১-এর মাঝে ১, ৭, ৭, ১ – এই ৪টি সংখ্যা রয়েছে। আমরা এখন নিচের ছকটিতে এই ৪টি সংখ্যার বিভিন্ন বিন্যাস ও এর নানারকম যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগের মজার কিছু অঙ্ক দেখব। ভালো করে খেয়াল করে দেখুন যে প্রতিটি অঙ্কেই ১, ৭, ৭, ১ – এই ৪টি সংখ্যাই কিন্তু বিদ্যমান রয়েছে। আরও মজার বিষয় হচ্ছে যে প্রতিটি সমীকরণের ফলাফলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারাবাহিক সম্পর্ক রয়েছে।

আমরা বিভিন্নভাবে ১, ৭, ৭, ১ – এই সংখ্যা ৪টিকে নিয়ে অঙ্ক করে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাসকেই খুঁজে পাই। আর এ-কারণে ১৭ সংখ্যাটি তাৎপর্যময় হয়ে উঠেছে। ম্যাজিক সংখ্যা ১৭-এর পিঠে রয়েছে ৭১। এই সংখ্যাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের কথা।

লেখক : সম্পাদকম-লীর সদস্য, উত্তরণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply