বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরবময় পথচলার ৭২ বছর

ওবায়দুল কাদের : ইতিহাসের পথপরিক্রমায় নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে আমরা আজ এক মহিমান্বিতক্ষণ অতিবাহিত করছি। যে মহান নেতার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতার অমিত সূর্যের সন্ধান পেয়েছিÑ উদ্ভাসিত হয়েছি মুক্তির আলোয়- ইতিহাসের সেই মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ‘মুজিববর্ষ’-এর মাহেন্দ্রক্ষণে উদযাপিত হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক মেলবন্ধনে আমাদের সামনে সমাগত স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগ একই চেতনা এবং অবিনাশী আদর্শের সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জনসহ বাঙালির যা কিছু মহৎ অর্জন তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই অর্জিত হয়েছে।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এমন এক সময়ে উদযাপিত হচ্ছে, যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তের আখরে রচিত স্বাধীনতার স্বপ্নসাধ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। পূর্বপুরুষের রক্তের ঋণ আমরা কেবলমাত্র শোধ করতে পারি সম্মিলিত সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়েÑ প্রিয় মাতৃভূমিকে আগামী প্রজন্মের উপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টার মাধ্যমেই। সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
হাজার বছরের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহনকারী একটি জাতি যখন তাদের পরিচয় খুঁজে পাচ্ছিল না, সেই অমানিশার কালে বঙ্গবন্ধু দিয়ে গিয়েছিলেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, একটি উজ্জ্বল পতাকা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে সেই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। সেই দেশ সেই জাতিকে স্পর্ধিত সাহস, আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে, বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবার শক্তি জুগিয়েছে দেশরতœ শেখ হাসিনার ধৈর্যশীল, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দেশের জন্য সামগ্রিক কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধির রাজনীতি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরবময় পথচলার সাত দশকের ইতিহাস তো বাংলাদেশেরই ইতিহাস। সূচনালগ্ন থেকেই অগণিত ত্যাগী, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নেতা-কর্মী-সমর্থক যাদের নিঃস্বার্থ শ্রম ও কর্তব্যনিষ্ঠায় শত সংকটেও অগ্রসরমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এই দল প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সেই সময় থেকে পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাঙালিদের ন্যায্য দাবি আদায়ের নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন, শোষণ ও জাতি-নিপীড়নের শৃঙ্খল থেকে বাঙালি জাতির মুুক্তিসংগ্রামে এই দল নেতৃত্ব প্রদান করে। ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৮-র মার্শাল ল’-বিরোধী আন্দোলন, আইয়ুবের এক দশকের স্বৈরশাসন-বিরোধী আন্দোলন, ’৬২ ও ’৬৪-র শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-র ঐতিহাসিক ৬-দফার আন্দোলন, ’৬৮-র আগরতলা মামলাবিরোধী আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৬-দফাভিত্তিক ’৭০-এর নির্বাচন ও ঐতিহাসিক বিজয়, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ১৯৭১-এর অগ্নিঝরা মার্চব্যাপী বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি শাসনপর্বে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাঙালির স্বতন্ত্র জাতিসত্তা বা বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্ফুরণ ঘটে। ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা বাঙালি জাতি ও আওয়ামী লীগের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন, বিভিন্ন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়, জাতিসংঘসহ বিশ্ব সংস্থায় বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভ, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ১ কোটি শরণার্থী ও মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো কয়েক লক্ষ মা-বোনের পুনর্বাসন এসব কাজে আওয়ামী লীগ যখন জাতির পিতার নেতৃত্বে আত্মনিয়োগ করে বহু ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করছেÑ সেই সময়ে মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত দেশি-বিদেশি শত্রুর ষড়যন্ত্রে সংঘটিত হয় বাঙালির ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি, ১৫ আগস্টের হত্যাকা-। জাতি হারায় তার শ্রেষ্ঠ সন্তানÑ স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানকে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রক্তাক্ত হত্যাকা-ের পর শুরু হয় ইতিহাসের উল্টোপথে যাত্রা। ফিরে আসে পাকিস্তানি ভাবাদর্শের প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক ধারার। জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে নির্বাসিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ফলে সংগঠনগতভাবে আওয়ামী লীগও এক চরম বৈরী অবস্থার মধ্যে নিপতিত হয়। সেই বৈরী অবস্থা থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দৃপ্তপদে দেশ ও জাতির উন্নয়নধারাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ শুধু বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায়ই নেতৃত্ব দান করেনি, এ রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নের সিংহভাগ কৃতিত্বও এই দলের।
নানা সংগ্রাম-আন্দোলনের অভিঘাতের মধ্য দিয়ে মাননীয় সভাপতি দেশরতœ শেখ হাসিনা দলকে সুসংহত করে আপামর জনগণকে একত্রিত করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন দুর্বার গতিতে। ইতিহাসের উন্মুক্ত পাঠশালা থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি; দীক্ষা নিয়েছি সত্যের উদ্বোধনে। এই সত্যই আমাদের শক্তি জোগাবে। আমরা জানি, সমস্যার সমাধান চাইলে শেকড়ে গিয়ে সরেজমিনে সবকিছু জানতে হবে। নিজের পরিপার্শ্ব বুঝতে হবে, মানুষকে বুঝতে হবে, বুঝতে হবে তাদের মনের আসল কথাটি। এভাবেই খুঁজে পেতে হবে সমাধান। কাজটা কঠিন; কিন্তু এ চ্যালেঞ্জ অনতিক্রম্য নয়।
আদর্শনির্ভর একটি দল সাত দশকের অভিযাত্রায় দেশমাতৃকার সংকটগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সঠিক করণীয় নির্ধারণ করতে পেরেছে বলেই অভীষ্ট অর্জনে অধিকাংশ সময়েই সাফল্য লাভ করেছে। অবশ্য এই যাত্রাপথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। প্রতিক্রিয়াশীল চক্র স্বাধীনতা-পূর্বকালে যেমন তেমনি স্বাধীনতা-উত্তরকালেও নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জেল-জুলুম, অগ্নিসংযোগ, দাঙ্গা, হত্যা-ক্যুসহ নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ জনগণের ওপর। বিএনপি-জামাতের অশুভ ধারার রাজনীতি দেশ ও দেশের মানুষকে বারবার নিয়ে গেছে অন্ধকার গহ্বরে। আদর্শহীন রাজনীতি যে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কোনো কাজে আসে না তার প্রমাণ এদেশের মানুষ দেখেছে তাদের শাসনামলে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী নেতৃত্বে সুশাসন, স্থিতিশীল অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নয়নে গতিশীলতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসেছে সফলতা। বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে আজ উন্নয়নের বিস্ময়কর রোল মডেলে।
বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নই আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে তারই সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে একটি পালনকালে সুখী সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের রূপকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করা জাতির কাছে আমাদের অঙ্গীকার। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে এখন আমরা মধ্যোন্নত দেশের মর্যাদা লাভ করেছি। ২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)’ অর্জন, ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশের মর্যাদা লাভ এবং সর্বোপরি ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা’ তথা ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হওয়া ভিন্ন জাতির সামনে বিকল্প কিছু আর হতে পারে না। দেশ আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির গতিপথে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই অভূতপূর্ব সাফল্য ও অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই আজ আমাদের অঙ্গীকার। এসব পর্বতসম অর্জনের সফল রূপকার স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আর এর অগ্রভাগে থেকে ইস্পাত কঠিন সুদৃঢ় নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও আদর্শের সার্থক উত্তরসূরি তারই সুযোগ্য কন্যা বিশ্বনন্দিত রাষ্ট্রনায়ক, মানবতার জননী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দর্শনের মূলনীতি হলো প্রবৃদ্ধি হতে হবে দ্রুতগতিরÑ তা হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উন্নয়ন কর্মকা-ে দেশের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের প্রবহমান ধারার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় সাধন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা ও ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতার হত্যা-পরবর্তী অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকারের দুঃশাসন ও অপশাসন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উৎসারিত উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দেয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে সুদীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর সূচিত স্বৈরশাসন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ধারার অবসান হয়। রাষ্ট্র ও জাতীয় জীবনের সবক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বসমাজে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে ঘুরে দাঁড়ায়। এই শাসনামল বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ২০০৮ থেকে টানা তিন মেয়াদে প্রায় ১৩ বছর জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার জনকল্যাণমুখী ও সুসমন্বিত কর্মকা-ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, সমতা ও ন্যায়বিচারভিত্তিক গণতান্ত্রিক দেশ বিনির্মাণের পথে জাতিকে অগ্রসরমান রেখেছে। তার দৃঢ়তা ও অটল সিদ্ধান্ত সারাবিশ্বকে দেখিয়েছে সততার শক্তিÑ নিজস্ব অর্থ ও জনগণের অংশগ্রহণে পদ্মাসেতুসহ দেশের বৃহৎ স্থাপনাগুলোÑ রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, কর্ণফুলি টানেল, পায়রা বন্দর, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ি পাওয়ার প্লান্ট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ইত্যাদি দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হওয়ার পথে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হয়েছে আরও প্রসারিতÑ সমুদ্রবিস্তারী, যার আয়তন বর্তমান রাষ্ট্রসীমার প্রায় সমপরিমাণ। বঙ্গবন্ধুর সবুজ বাংলা, বঙ্গবন্ধু-কন্যার সুনীল বাংলা, এই সবুজে সুনীলেই আজ আমাদের সোনার বাংলাদেশ। স্থলসীমানা চুক্তি, ছিটমহল সমস্যার সমাধান, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রবাসী কল্যাণ, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, কৃষি, প্রযুক্তিসহ প্রায় সকল ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিচক্ষণ দৃষ্টি নিক্ষেপের ফলে অর্জিত সাফল্য গোটাবিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিরন্তর সংগ্রাম, অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থকের আত্মত্যাগের ফলেই অবসান ঘটে স্বৈরশাসন ও ছদ্মবেশী গণতন্ত্রের। এই জাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে যারা উল্টোপথে নিয়ে গিয়েছিল সেই অশুভ শক্তিকে বিচারের আওতায় এনে বঙ্গবন্ধুর ঘৃণ্য হত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির বিধান করে জাতির কলঙ্ক মোচন সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতি শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনায়কোচিত মুক্তিযুদ্ধের-চেতনাদৃপ্ত সাহসী ভূমিকার কারণে। কেবল জল-স্থল নয়, অন্তরিক্ষেও আজ আমাদের গৌরবময় বিচরণ। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশেও এক টুকরো বাংলাদেশ স্থাপন করে তিনি আমাদের আত্মবিশ্বাস ও সাহসকে গগনচুম্বী করেছেন। দেশ, দেশের মানুষ ও পৃথিবীর নিপীড়িত মানুষের আশা-ভরসার স্থল ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থাশীল থেকে আমরা ইতিহাস নির্মাণে সঙ্গী হয়ে থাকার গৌরবের অংশীদার হতে পারছি।
আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমিসহ প্রায় সমগ্র পৃথিবী আজ করোনা মহামারির করালগ্রাসে বিপন্ন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ, মানবিক নেতৃত্বে সমগ্র দেশবাসীকে সাথে নিয়ে আমরা এই সংকট মোকাবিলা করছি। সরকার ও দলের সকল স্তরের নেতাকর্মী সর্বোপরি সর্বস্তরের জনগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইনশাল্লাহ্ আমরা পরিত্রাণ পাব। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মুহূর্তে এই আশাবাদ উচ্চারণ করি। ইতোমধ্যে আমরা অনেক স্বজনকে হারিয়েছি, অনেকেই অসুস্থ অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন তাদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। সকলের মঙ্গল কামনা করি।

জয় বাংলা। জয় হোক মানুষের।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং মাননীয় মন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply