এগিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ জীবন-জীবিকার বাজেট

  • ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন অর্থমন্ত্রীর
  • সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৭ হাজার ৬১৪ কোটি টাকাই বরাদ্দ
  • পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট বরাদ্দ ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা
  • বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা

উত্তরণ প্রতিবেদক : দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রাধান্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন। অর্থমন্ত্রীর এ বাজেটের লক্ষ্য হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারি করোনার ক্ষতি থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, স্বাস্থ্য খাতের প্রয়োজন মেটানো এবং ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আর আগামী অর্থবছরের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অর্থমন্ত্রী চলমান করোনা মহামারিকে বিবেচনায় নিয়েছেন। মূল বাজেটের সঙ্গে সংগতি রেখে অর্থমন্ত্রী তার উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসৃজনকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এছাড়া এই প্রথম কোভিড-১৯-এর প্রভাব মোকাবিলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।

১৯৭২ সালের জুন মাসে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের জন্য ৭৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করে বাংলাদেশের যে বাজেটের গোড়াপত্তন করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের ৫০তম বাজেট ঘোষণা করেছেন। একদিকে চলমান মুজিব শতবর্ষ, অন্যদিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে বাংলাদেশের বাজেটের আকারও ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক যে বাজেটের প্রস্তাব করেছেন তার পরিমাণ ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির ১৭.৫ শতাংশ। এই বাজেটে পরিচালনসহ অন্য খাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা।
এই ব্যয় নির্বাহের জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১১.৩ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) উৎস থেকে পাওয়া যাবে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব আসবে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, কর-বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরিত হবে আরও ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবারের বাজেটে মহামারি করোনাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বাজেটে করোনার ক্ষতি থেকে যেমন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ আছে, তেমনি করোনায় বিপর্যস্ত মানুষের জীবন বাঁচানোরও উদ্যোগ রয়েছে। রয়েছে করোনা থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য টিকার বিষয়টিও। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ অনেক বেড়েছে। এ খাতে আগামী বছরের জন্য অর্থমন্ত্রী যে বরাদ্দ রেখেছেন তার মধ্যে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭ হাজার ৬১৪ কোটি টাকাই বরাদ্দ রেখেছেন সামাজিক নিরাপত্তা খাতে। এই অঙ্ক মোট বাজেটের প্রায় ১৮ শতাংশ। নতুন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন ভাতাভোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে সব মিলিয়ে আরও প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ গরিব মানুষ সরকারের সহায়তা পাবে। এতদিন এই ভাতা পাচ্ছিলেন ৮৮ লাখ গরিব, অসহায় মানুষ। নতুন করে সুবিধাভোগীর সংখ্যা যোগ হলে ভাতা পাওয়া গরিবের সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। একইভাবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির সঙ্গে করোনা ভ্যাকসিন ক্রয়ের জন্য নতুন বাজেটেও থোক বরাদ্দ হিসেবে ১০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
করোনা মহামারির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে এক প্রকার স্থবিরতার কারণে রাজস্ব আদায় পিছিয়ে পড়েছে। ফলে নতুন অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী আর খুব বেশি উচ্চাভিলাসী হননি। মোট রাজস্ব আদায়ের প্রাক্কলন চলতি অর্থবছরের কাছাকাছি রাখা হয়েছে। বরং দেশের রাজস্ব আদায়ের যে বড় উৎস জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার সমান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ করোনার কারণে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে বেশি জোর না দিয়ে অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরে বিদেশি অর্থায়নের দিকে বেশি জোর দিয়েছেন। ফলে অর্থমন্ত্রী আশা করছেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর এবং নতুন কাস্টমস আইন ২০২০ সংসদে পাস হলে আগামী অর্থবছরের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
অর্থমন্ত্রী আয়কর আদায় বাড়াতে ধনীদের ওপর নজর দিয়েছেন। করোনাকালে সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে সমাজে যারা বিত্তবান, তাদের কাছ থেকেই বেশি কর আহরণে জোর দিয়েছেন। এ জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সম্পদশালীদের ওপর সারচার্জ বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সারচার্জ আদায় প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।
দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ কর প্রদানে সক্ষম হলেও কর প্রদানকারীর সংখ্যা বর্তমানে মাত্র ২৫ লাখ ৪৩ হাজার। ফলে রাজস্ব জিডিপির অনুপাতে অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। তাই আগামী অর্থবছরে এই কর ফাঁকি রোধ করে কর জাল আরও বিস্তৃত করা হবে, যাতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট ব্যয় এবং রাজস্ব আয়ের মধ্যে বড় ব্যবধানের কারণে আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬.২ শতাংশ। বিশাল এই ঘাটতি মেটানোর জন্য অর্থমন্ত্রী বৈদেশিক এবং অভ্যন্তরীণ দুই উৎসের ওপরই সমানভাবে নির্ভর করেছেন। ঘাটতি মোকাবিলায় বৈদেশিক উৎস থেকে আগামী অর্থবছরে ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে অর্থমন্ত্রী আশা করছেন। আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্য ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে নেওয়া হবে ৩৭ হাজার ১ কোটি টাকা।
করোনাভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় জীবন ও জীবিকাকে প্রাধান্য দিয়ে ঘোষণা করা এই বাজেটে অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করেছেন। বিগত এক দশকে দেশের ক্রমাগত উচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন কোভিড-১৯ এর প্রভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আশা করেছিলেন, কোভিড-১৯ এর প্রভাব থেকে চলতি অর্থবছরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। এজন্য মূল বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮.২০ শতাংশ। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে অর্থনীতির শ্লথ গতি অব্যাহত আছে। আমদানি-রপ্তানিও কাক্সিক্ষত গতি ফিরে পায়নি। তাই প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি এবং সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর বাস্তবায়ন বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ডিজিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন সংশোধন করে ৬.১ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর কোভিড-১৯ পরবর্তী উত্তরণ বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.২ শতাংশ। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ৫.৩ শতাংশের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে বলে অর্থমন্ত্রী আশা করছেন।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ ব্যয় ২৯ হাজার ১৭ কোটি টাকা হ্রাস করে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ থেকে ৭ হাজার ৫০২ কোটি টাকা হ্রাস করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। তবে করোনার কারণে চলতি বছর স্বাস্থ্য খাতে এবং বিভিন্ন প্রণোদনা বাস্তবায়নে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কম গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। এই দুই ব্যয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালনসহ অন্যান্য ব্যয় হ্রাস পেয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২৬ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা হ্রাস করে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেট ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬.১ শতাংশ। মূল বাজেটে ঘাটতির বিপরীতে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৮০ হাজার ১৭ কোটি টাকা। যা সংশোধিত বাজেটে হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকায়। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অর্থায়নের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা।
দুপুরে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এ বিশেষ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাজেট অনুমোদন করেন। খয়েরি ব্রিফকেস হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের এ মেয়াদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের তৃতীয় বাজেট। অর্থমন্ত্রী বিকাল ৩টা ৪ মিনিটের দিকে বাজেট বক্তৃতার শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের অন্যান্য শহিদ, চার জাতীয় নেতা, মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদ, অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা ২ লাখ মা-বোন এবং অন্যান্য শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এ উদযাপনের লক্ষ্য হচ্ছে জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতিকে নতুনমন্ত্রে দীক্ষিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে মোট বাজেটের জনপ্রশাসন খাতে ১৮.৭ শতাংশ ও ১৫.৭ শতাংশ, পরিবহন-যোগাযোগ খাতে ১১.৯ শতাংশ, সুদ খাতে ১১.৪ শতাংশ, স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন খাতে ৭ শতাংশ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে ৬.৮ শতাংশ, জনপ্রশাসন খাতে ৬.৭ শতাংশ, প্রতিরক্ষা খাতে ৬.২ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে ৫.৪ শতাংশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৫.৭ শতাংশ, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৪.৮ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪.৫ শতাংশ, কৃষি খাতে ৫.৩ শতাংশ, গৃহায়ন খাতে ১.১ শতাংশ, বিনোদন, সংস্কৃতি ও ধর্ম খাতে ০.৮ শতাংশ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস খাতে ০.৭ শতাংশ এবং বিবিধ ব্যয় খাতে ০.৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করে করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে জাগিয়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশাল ব্যয়ের বাজেট ঘোষিত হয়েছে। বাজেটের সব কিছুতেই অগ্রাধিকার পেয়েছে মহামারি পরিস্থিতি। করোনার ক্ষতি থেকে যেমন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ আছে, তেমনি করোনায় বিপর্যস্ত মানুষের জীবন বাঁচানোরও উদ্যোগ রয়েছে বাজেটে। এবারের বাজেটও দেশ ও জাতির উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাধিকার পাচ্ছে দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষÑ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও তাদের জীবন-জীবিকা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply