জি-৭ সম্মেলনের পূর্বাপর- টিকার প্রতিশ্রুতি অপ্রতুল

`শিল্পোন্নত সাত শীর্ষ দেশের জোট জি-৭ করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোর টিকার ১০০ কোটি ডোজ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম
সমন্বয় সংস্থা ইউএনওসিএইচ-এর প্রধান মার্ক লোকক।’

সাইদ আহমেদ বাবু : জি-৭ এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো ‘গ্রুপ অব সেভেন’ বা ৭টি দেশের জোট। ২০২১ সালের প্রেসিডেন্সি যুক্তরাজ্যের হওয়ায় এবারের জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন যুক্তরাজ্যেই হচ্ছে। ইংলিশ কাউন্টি অব কর্নওয়ালের করবিস বের সমুদ্র-উপকূলীয় রিসোর্টে গত ১১ থেকে ১৩ জুন তিন দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে জি-৭ সম্মেলন শুরু হয়। ২০১৯ সালের সর্বশেষ জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন ফ্রান্সের সমুদ্রতীরের শহর বিয়ারিৎজে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার সম্মেলনের আয়োজক যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। জি-৭-ভুক্ত দেশগুলোর সম্মেলন নেতারা বলেছেন, তারা পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মূল্যবোধ বজায় রাখতে চান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ছাড়াও এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি। করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ধনী দেশগুলো একত্রে কোনো বৈঠকে মিলিত হয়েছে। জি-৭ গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা সম্মেলন ছাড়াও সারাবছর ধরে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন, চুক্তি করেন এবং বৈশ্বিক ইস্যু ও ইভেন্টগুলোতে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন।
রাশিয়া ১৯৯৮ সালে এই জোটে যোগ দিলে এর নাম হয়েছিল জি-৮। কিন্তু ক্রিমিয়া দখল করার কারণে ২০১৪ সালে জোট থেকে রাশিয়া বাদ পড়ে। চীন বর্তমান বিশ্বে একটি বড় অর্থনীতি ও বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও কখনও জি-৭ জোটের সদস্য ছিল না। কারণ কোনো দেশে মাথাপিছু সম্পদের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম থাকলে দেশটিকে জোটভুক্ত করা হয় না। ভারতকেও যে কারণে জি-৭ এর সদস্য করা হয়নি। এ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছেন ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার নেতারা। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ দুই নেতাও এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
৯৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ রানি জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে আগত রাষ্ট্রপ্রধানদের ইংল্যান্ডের কার্বিস উপসাগরের বিশ্বের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ রেইন ফরেস্টের ছাউনির নিচে সংবর্ধনা দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুত্র এবং উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লস, তার স্ত্রী ক্যামিলা এবং নাতি প্রিন্স উইলিয়াম ও তার স্ত্রী কেট উইলিয়াম। ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে প্রথমবার সাক্ষাৎ ও বৈঠকে বসেছেন ব্রিটিশ রানির সঙ্গে। সম্মেলন শেষে নেতারা ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নেন।
এবারের জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের প্রতি সবার নজর ও আগ্রহের কারণ হলো, এতে মূল আলোচ্যসূচি করা হয়েছিল ‘করোনা মোকাবিলা’। জি-৭ বলছে, ‘একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলেই সবাইকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের মহামারি থেকে রক্ষার উপায় বা করণীয়। সম্মেলনে এবার প্রাধান্য পেয়েছিল ভ্যাকসিন কূটনীতি, বিশ্ব বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকটের মতো বিষয়গুলো। ১০০ দিনের মধ্যে করোনা চিকিৎসা, টিকার উন্নয়ন ও লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বের অনুন্নত দেশের মানুষের কাছে করোনার প্রতিষেধক পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১০০ কোটি ডোজের ব্যবস্থা করবে জি-৭। এর মধ্যে শুধুমাত্র ৫০ কোটি ডোজ দেবে যুক্তরাষ্ট্র একাই। ব্রিটেন আপাতত ১০ কোটি ডোজ দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। জি-৭ গোষ্ঠীর অন্য দেশগুলো বাকি ডোজের ব্যবস্থা করবে।
এছাড়া আলোচনায় আসার কথা গুগল, অ্যাপল ও অ্যামাজনের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ কর্পোরেট কর পরিশোধের ব্যাপারে চাপ প্রয়োগের বিষয়টি। ব্রিটেন-ইইউ বাণিজ্য বিরোধ কীভাবে উত্তর আয়ারল্যান্ডে শান্তিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ‘ব্রিটেনের টিকাকরণ প্রক্রিয়া খুবই সাফল্য পেয়েছে। তার ফল হিসেবে আমরা আমাদের দেশের অতিরিক্ত প্রতিষেধক এমন দেশগুলোর কাছে পৌঁছে দিতে চাই, যারা এখনও পর্যন্ত করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এই অন্যতম অস্ত্র জোগাড় করে উঠতে পারেনি।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও বলেছেন, ‘এটা আসলে মানবতার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা। আমাদের শুধু দেখতে হবে কত বেশিসংখ্যক প্রাণ আমরা বাঁচাতে পারি।’
শিল্পোন্নত সাত শীর্ষ দেশের জোট জি-৭ করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোর টিকার ১০০ কোটি ডোজ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয় সংস্থা ইউএনওসিএইচ-এর প্রধান মার্ক লোকক। তিনি বলেছেন, আগামী বছর পর্যন্ত এই ১০০ কোটি ডোজ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছে, তা ‘ছোট পদক্ষেপ’। জরুরিভিত্তিতে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল, তা নিতে ব্যর্থ হয়েছে জি-৭ জোট। এর মধ্য দিয়ে মহামারি বিদায় নেবে না।
আসলে জি-৭ কোনো আইন পাস করতে পারে না। কারণ এই জোট আলাদা আলাদা জাতি নিয়ে গঠিত, যাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে তাদের একমত হওয়া সিদ্ধান্তে বিশ্বব্যাপী প্রভাব থাকে। যেমন- জি-৭ বিগত ২০০২ সালে ম্যালেরিয়া ও এইডসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী একটি তহবিল গঠন করেছিল, যার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর কর বিষয়ে সম্ভাব্য চুক্তির প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী হবে।
কয়েক বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতি ও সামরিক খাত উভয় ক্ষেত্রেই চীন অব্যাহত গতিতে এগিয়ে চলছে। যার মাধ্যমে চীন এশিয়া, ইউরোপ এবং আরও বহুদূরকে সংযুক্ত করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে পারে তার আধিপত্য। যুক্তরাষ্ট্রবাসী জি-৭ সম্মেলনের অধিবেশনকে বিশ্বজুড়ে চীনের প্রভাব, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আগ্রাসী মনোভাবের বৃদ্ধির বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর বিষয় হিসেবে দেখেছেন।
জি-৭ এর বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করার একদিন আগেই এ জোটের নেতাদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করে চীন বলেছে, এমন একসময় ছিল যখন কয়েকটি দেশের ছোট ছোট জোট বিশ্ববাসীর ভাগ্য নির্ধারণে সিদ্ধান্ত নিত। সে-সময় অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে। এ মন্তব্য চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে ধনী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে পরিচিত জি-৭ এর নেতাদের পিঠে আঘাত করার মতোই বলে মনে করা হচ্ছে।
ইংল্যান্ডে সদ্য সমাপ্ত জি-৭ শীর্ষ বৈঠকে চীন নিয়ে আলোচনা চলাকালে নেতারা জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর (Uyghurs) নির্যাতন ও সেখানে মানবাধিকার (Human Rights)) লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রশ্ন তোলেন। তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে হংকংয়ে আন্দোলকারীদের ওপরে নিপীড়নেরও। সে-সঙ্গে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন যথাযথ রাখা এবং তাইওয়ানসহ এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরও জোর দেন তারা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘চীনের উচিত মানবাধিকার-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিধিবদ্ধতাকে আরও দায়িত্ব সহকারে মেনে চলা।’ জি-৭-ভুক্ত দেশের নেতারা বলেন, নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরিকাঠামো নির্মাণে সহায়তা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তিনি বিল্ড ব্যাক বেটার ওয়ার্ল্ডের (বিথ্রিডব্লিউ) পরিকল্পনা করেছেন। এটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) পাল্টা পরিকল্পনা। বাইডেন বলেন, গুণগত দিক দিয়ে এটি আরও উন্নতমানের।
পাশাপাশি ন্যাটো জোটের নেতাদের বৈঠক শেষে ন্যাটোর কর্তা জেন্স স্টোলটেনবার্গ বলেছেন, ‘আমরা একটি নতুন ঠা-া যুদ্ধে প্রবেশ করছি না এবং চীন আমাদের প্রতিপক্ষ বা শত্রু নয়। তবে চীনের উত্থান আমাদের নিরাপত্তার জন্য যে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে জোট হিসেবে তার মোকাবিলা করা দরকার।’ পূর্বাভাস অনুযায়ী একটি ঠা-া যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চলেছে বিশ্ব। একদিকে বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-৭, অন্যদিকে চীন। সদ্যসমাপ্ত ব্রিটেনের জি-৭ শীর্ষ বৈঠকের পর এই সংঘাত প্রকাশ্যে চলে এলো। এদিকে এই তিন বিষয় চীনের স্বপক্ষে খুব স্পর্শকাতর বলে মনে করা হয়।
জি-৭ সম্মেলনের মধ্যে ইসরায়েলের সহিংসতা বন্ধে লন্ডনে বিক্ষোভ। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭ এর সম্মেলন চলাকালে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে যুক্তরাজ্যের হাজার হাজার মানুষ। ওই সময় ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন বন্ধে জি-৭ এর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তারা। ‘যুক্তরাজ্যের তৈরি অস্ত্র শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে। দেশের বাইরে সংঘাতে আমাদের দেশের অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’
জলবায়ু সুরক্ষার মাধ্যমে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জি-৭ নেতারা। জলবায়ু পরিবর্তন ও কার্বন নির্গমন রোধে তারা নতুন সংরক্ষণ এবং লক্ষ্য চূড়ান্ত করেছেন।
জি-৭ নেতারা ‘নেচার কম্প্যাক্ট’ নামে চুক্তি সই করেছেন, যাতে জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা ও নষ্ট রোধ করার বিষয়টি রয়েছে। এছাড়া ২০১০ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের কার্বন নির্গমন রোধে এবারের আলোচনার মূল বিষয় হলোÑ কোভিড থেকে সেরে ওঠা। মূলত ‘একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা সবাইকে ভবিষ্যতের মহামারি থেকে রক্ষা করতে পারবে।’ জলবায়ু সুরক্ষার দাবিতে বৈশ্বিক জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক আন্দোলন ‘এক্সটিংশন রিবেলিয়ন’-এর অধিকারকর্মীদের পৃথিবীর প্রতিকৃতি নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে জি-৭ সম্মেলনস্থলের বাইরে। সম্মেলন শেষে ইশতেহারে আগামী বছরের মধ্যে ৮৪ কোটি ডোজ করোনার টিকা সহজলভ্য করার কথা বলা হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে প্রায় দু-বছর পর বিশ্বের ধনী দেশগুলোর নেতারা মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন। এই বৈঠকে তারা দশকের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে ভূমি ও সমুদ্রের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ সুরক্ষা দিতে সম্মত হয়েছেন।
করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। এমন পরিস্থিতিতে জি-৭ সম্মেলন থেকে ‘এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য’-এর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু করোনাভাইরাস নয়, পরবর্তী সময়ে যে কোনো স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে একসঙ্গে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন মোদি। শুধু তাই নয়, ভার্চুয়ালি এই সভা থেকে তিনি করোনা ভ্যাকসিনের পেটেন্ট প্রত্যাহারেরও আর্জি জানান।
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল প্রধানমন্ত্রীর ‘এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য’ বার্তাটিকে সমর্থন করেছেন। পেটেন্ট প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ভারতকে সমর্থন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও মন্তব্য করেন, টিকার উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচামাল দিতে হবে।
কূটনীতিকরা বলছেন, রাশিয়ার সঙ্গেও আমেরিকার টানাপড়েনের বিষয়টি উঠে আসে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালিনকে জেলে পোরাসহ একাধিক বিষয় নিয়ে মস্কোকে তাদের অসন্তোষ জানাবে ওয়াশিংটন।
করোনা মোকাবিলায় এবং বিশ্বব্যাপী সর্বত্র ভ্যাকসিনের সহজলভ্যতায় বিশ্ব নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এই ঐতিহাসিক মানবিক বিপর্যয়ে জি-৭ এর স্পষ্ট অবস্থান ও দৃঢ় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। কেবল নিজেদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও জাতিগত ক্ষেত্রে সীমিত থাকার পরিস্থিতি এখন নয়। অতীতে বড় রাষ্ট্রগুলো বিশ্বব্যবস্থায় যে মানবিক, অগ্রসর ও সার্বজনীন ভূমিকা রেখেছে, বৈশ্বিক করোনা মহামারি সংকুল পরিস্থিতিতেও তেমন পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
জি-৭ সম্মেলনে যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছিল, পর্যবেক্ষকদের মতে সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বিশেষ করে করোনা সংকট মোকাবিলায় তা যেমন অপ্রতুল, তেমনি ভবিষ্যতে মহামারি প্রতিরোধে কার্যকর কোনো নীতি-পরিকল্পনা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

লেখক : সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, উত্তরণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply