সারাবিশ্বে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হচ্ছে ইসলাম

উত্তরণ প্রতিবেদন:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্মের নামে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রতিহত এবং এই সর্বনাশা পথে যেন দেশের যুবসমাজ জড়িয়ে না পড়ে সেজন্য দেশের আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ তৈরি করে, মানুষ খুন করে, বোমা মেরে, খুন-খারাবি করে আমাদের পবিত্র ধর্মের নামে বদনাম সৃষ্টি করছে। যেটা আমাদের ধর্মের পবিত্রতাকেই কেবল নষ্ট করছে না, এর ইমেজটাও নষ্ট হচ্ছে সারাবিশ্বে। জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যারা জড়িত, এই পথ সর্বনাশা পথ। এই পথ থেকে আমাদের যুবসমাজ যেন দূরে থাকে, আমাদের সকলকে সেই প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
গত ১০ জুন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সারাদেশে গড়ে তোলা মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো ইসলামের চর্চা, প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে এর মর্মবাণী মানুষকে অনুধাবন করানোসহ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-মাদক ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। আমরা মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। এখানে ইসলামের মূল্যবোধ ও চর্চা যেন ভালোভাবে হয়। ইসলামের সংস্কৃতির বিকাশ যাতে ভালোমতো হয়। ইসলামের মর্মবাণী যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়।
সারাদেশে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় অপূর্ব স্থাপত্য শিল্প ও দৃষ্টিনন্দন ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে একসঙ্গে ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধনের মাধ্যমে সারাবিশ্বে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটাই হচ্ছে বিশ্বে প্রথম কোনো সরকারের একই সময়ে একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক মসজিদ নির্মাণের ঘটনা, যা বিশ্বে বিরল। এসব মডেল মসজিদ নির্মাণ করতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। আগামী দুই বছরের মধ্যে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণকাজ শেষ হবে। নান্দনিক নির্মাণশৈলীতে নির্মিত এসব মডেল মসজিদে রয়েছে একটি করে দৃষ্টিনন্দন মিনার। মূল মসজিদটি হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
সরকারের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে সর্বমোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে এই ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ-সংক্রান্ত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান এমপি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলাম স্বাগত বক্তৃতা করেন। গণভবন থেকে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু’ বাংলাদেশের ইসলাম প্রচারের পথিকৃৎ’ শীর্ষক একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান থেকে খুলনা জেলা মডেল মসজিদ, রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ এবং সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলা মডেল মসজিদের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
দেশে এবং বিদেশে যারা ধর্মের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করছে তথা মানুষ খুন করছে তারা শান্তির ধর্ম ইসলামের সর্বনাশ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি সারাবিশে^ সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হচ্ছে ইসলাম ধর্ম। কিন্তু মুষ্টিমেয় লোক জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে খুন খারাপি করে, বোমা মেরে আমাদের এই ধর্মের নামে বদনাম ছড়াচ্ছে। এরা ধর্মের পবিত্রতাই শুধু নষ্ট করছে না, সমগ্র বিশ্বে এর ‘ইমেজ’র ক্ষতি করছে।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি এই ধর্মের নাম নিয়ে কীভাবে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিছু লোক, শুধু আমাদের দেশে না, সারাবিশ্বেই দেখেছি ধর্মের নামে মানুষ খুন করা! মানুষকে খুন করলেই না-কি বেহেশতে চলে যাবে। এখানে আমার প্রশ্ন, যারা এতদিন মানুষ খুন করেছেন, তারা কে কে বেহেশতে গেছেন, সেটা কি কেউ বলতে পারবে? বলতে পারবে না।
লেবাসধারী মুসলমানদের প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বক্তব্যের উদ্বৃত করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেনÑ আমরা লেবাসসর্বস্ব ইসলামে বিশ্বাসী নই, আমরা বিশ্বাসী ইনসাফের ইসলামে।’ তিনি বলেন, কিছু মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কর্মকা-ে সবচেয়ে সর্বনাশ করে গেছে পবিত্র ইসলাম ধর্মের, যে ধর্ম শান্তির ধর্ম। যে ধর্ম মানুষকে অধিকার দিয়ে গেছে। আমি তো মনে করি, সারাবিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধর্ম হলো ইসলাম ধর্ম। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, কিছু লোক জঙ্গিবাদ তৈরি করে, মানুষ হত্যা করে, খুন-খারাবি করে আমাদের এই পবিত্র ধর্মের নামে বদনাম সৃষ্টি করছে।
এই মডেল মসজিদগুলো নির্মাণ করা তার দলের অনেক পুরনো সিদ্ধান্ত এবং এটি তার নির্বাচনী ইশতেহারেও ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মসজিদগুলোর মাধ্যমে আমাদের ইসলামের সংস্কৃতি, ধর্মীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দ্বীনি দাওয়াতি কার্যক্রম এগুলোর যাতে সঠিকভাবে পরিচালনা এবং প্রচার ও প্রসার ঘটানো যায় এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এগুলো থেকে যাতে মানুষ দূরে থাকে এবং আমাদের ধর্মের যে মূলবাণী সেটা যেন মানুষ শিখতে পারে, জানতে এবং চর্চা করতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply