জুলাই মাসের দিবস

০২ জুলাই : বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস
বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস ২ জুলাই। ফ্রান্সের প্যারিসে ১৯২৪ সালের ২ জুলাই বিশ্বের ক্রীড়া সাংবাদিক ও ক্রীড়া লেখকদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একমাত্র সংস্থা এআইপিএস (ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন)-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। বিশ্ব জুড়ে ১৯৯৫ সাল থেকে এআইপিএস-এর ‘অ্যাফিলিয়েটেড’ সংস্থাগুলো বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস পালন করে আসছে। বর্তমানে এআইপিএস সদস্য দেশের সংখ্যা ১৬৭। আর বাংলাদেশে এর স্বীকৃত সংস্থা হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি।

০৩ জুলাই (মাসের প্রথম শনিবার)
আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস
সমবায় সমিতির ইতিহাস প্রায় মানবসভ্যতার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। বর্তমানের সমবায় সমিতির সাংগঠনিক রূপটি প্রতিষ্ঠিত হয় ইউরোপের শিল্পবিপ্লবের কিছু পূর্বেই। সমবায় এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে সম্মিলিতভাবে সবার কল্যাণ হয়। প্রতিবছর জুলাই মাসের প্রথম শনিবার দিবসটি পালন করা হয়। সেই হিসাবে এ বছর ৩ জুলাই দিবসটি পালিত হয়।

০৩ জুলাই : আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগমুক্ত দিবস
আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগমুক্ত দিবস ৩ জুলাই। বিশে^র ৪০টির বেশি দেশ এবং ৫৫টির বেশি শহর প্লাস্টিক ব্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বাংলাদেশে এ কার্যক্রম প্রথম এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) ১৯৯০ সালে শুরু করে। জনস্বাস্থ্যে ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়ায় ২০০২ সালে বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে আইন করে পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, ব্যবহার, বিপণন ও বাজারজাতকরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু তা এখনও কার্যকর হয়নি।
প্লাস্টিক, পলিথিন ও পলিইথাইলিন বা পলিপ্রপাইলিন দিয়ে তৈরি দ্রব্যের ক্ষতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এ দিবসটি পালিত হয়। দিবসটির প্রধান উদ্দেশ্যে, প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা।
১০ জুলাই : জাতীয় মূসক দিবস
মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট (Value Added Tax বা ঠ VAT), বিংশ শতাব্দীতে উদ্ভাবিত একটি আধুনিক কর। এটি সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণশীল কর-ব্যবস্থা, যা যে কোনো ব্যবসার মাধ্যমে সৃষ্ট মূল্য সংযোজনের ওপর আরোপ করা হয়ে থাকে। দেশীয় পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয়, বিদেশি পণ্য আমদানি ও রপ্তানি, দেশাভ্যন্তরে সেবা বা পরিষেবার উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয়Ñ সবক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর আরোপযোগ্য। এই কর উৎপাদন থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে আরোপ ও আদায় করা হলেও এর দায়ভার চূড়ান্তভাবে কেবল পণ্য বা সেবার ভোক্তাকে বহন করতে হয়। মূসক আরোপের মাধ্যমে এ খাত থেকেই বেশি রাজস্ব আয় হয়।
১৯২০ সালে জার্মান ব্যবসায়ী ভন সিমেন্স মূল্য সংযোজন করের ধারণা দেন। ১৯২১ সালে এডামস রেয়াত পদ্ধতির বিবরণ দেন। মরিস লওরি নামক ফ্রান্সের কর বিভাগের একজন কর্মকর্তা ১৯৫৪ সালে মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থার পূর্ণতা দেন। উৎপাদন ও পাইকারি পর্যায় দিয়ে প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্স মূল্য সংযোজন কর চালু করে।

১১ জুলাই : বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। ১৯৮৭ সালে বিশে^র জনসংখ্যা ৫০০ কোটি হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘের উদ্যোগ সামনে আসে। ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির গভর্নিং কাউন্সিল জনসংখ্যা ইস্যুতে গুরুত্ব প্রদান ও জরুরি মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাপী ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ইউএনডিপি’র গভর্নিং কাউন্সিল কর্তৃক উত্থাপিত প্রস্তাব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অতি আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে। এরপর থেকে জনসংখ্যা সমস্যার গুরুত্ব ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন চিন্তা করে প্রতিবছর সুনির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নির্ধারণের মাধ্যমে ১৯৯০ সাল থেকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের লক্ষ্য হলো- পরিবার পরিকল্পনা, লৈঙ্গিক সমতা, দারিদ্র্য, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের মতো জনসংখ্যা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

১৬ জুলাই : গণতন্ত্র অবরুদ্ধ দিবস
গণতন্ত্র অবরুদ্ধ দিবস। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার ধানমন্ডিস্থ সুধাসদনের বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের আগে শেখ হাসিনার নামে একাধিক মামলা দেওয়া হয়। গ্রেফতারের পর তাকে পুলিশের একটি জিপে করে ঢাকার সিএমএম আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতে শেখ হাসিনার জামিনের আবেদন না-মঞ্জুর হয় এবং তাকে জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে বিশেষ কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত এলাকায় তাকে যথাযথ নিরাপত্তা না দেওয়ায় তিনি নাজেহালের শিকার হন।

২৯ জুলাই : বিশ্ব বাঘ দিবস
বিশ্ব বাঘ দিবস বা আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস। সারাবিশ্ব বাঘ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ২৯ জুলাই পালন করা হয় বিশ্ব বাঘ দিবস। ২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ব্যাঘ্র অভিবর্তনে এই দিবসের সূচনা হয়। ১০০ বছর আগে এশিয়ায় ঘুরে বেড়াত প্রায় ১ লাখ বাঘ। বর্তমানে আনুমানিক বাঘের সংখ্যা ৪ হাজারেরও কম। এই দিবস পালনের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করা এবং সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে এর সম্পর্কে থাকা ভুল ধারণা ও ভয় দূর করা। প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই দিবস পালন করা হয়। বাঘ আমাদের জাতীয় পশু হওয়ার কারণে এই দিবসের মহত্ত্ব এখানে বেশি ধরা হয়।

ফারুক শাহ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply