দেশের যা কিছু অর্জন সবই এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে

উত্তরণ ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ যাতে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেজন্য অতন্দ্র প্রহরীর মতো দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে মাটি ও মানুষের অধিকার আদায়ে জন্ম নেওয়া গণমানুষের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে। ভাষার অধিকার, স্বাধীনতাসহ দেশের যা কিছু অর্জন সবই এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরেই। আর আওয়ামী লীগ হচ্ছে হীরের টুকরোর মতো, যতবার ভাঙার চেষ্টা হয়েছে ততই আরও জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠেছে। আওয়ামী লীগকে কেউ কোনোদিন ধ্বংস করতে পারবে না। আর আওয়ামী লীগ একটানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আছে বলেই দেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ না থাকলে আবারও দেশের মানুষ শোষিত-বঞ্চিত হবে।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলতে দলের প্রতিটি নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে দলটির প্রধান শেখ হাসিনা আরও বলেন, আইয়ুব-ইয়াহিয়া-জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারা আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে অনেক চেষ্টা করেছে; কিন্তু পারেনি। কারণ আওয়ামী লীগ কোনো অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী সামরিক স্বৈরাচারের হাতে তৈরি বা জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল নয়, জন্ম হয়নি, এদেশের মানুষের অধিকার ও মুক্তির জন্যই আওয়ামী লীগের সৃষ্টি হয়েছিল। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মুক্তির লক্ষ্যে যে দলের (আওয়ামী লীগ) জন্ম, সেই দলকে ধ্বংস করা যায় না, যাবেও না।
গত ২৩ জুন বিকালে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগকে হীরের টুকরোর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে একখ- হীরের মতো, এটাকে যতবার কাটা হয়েছে আরও জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠেছে। তাই আওয়ামী লীগকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে দেশের একমাত্র জনপ্রিয়, তৃণমূলের সংগঠন ও গণমানুষের রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সঙ্গে এদেশের স্বাধীনতা, ভাষা ও সাংস্কৃতিক মুক্তির ইতিহাস জড়িত। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে, স্বাধীনতা এবং পরবর্তী গণতান্ত্রিক প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথে থেকে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছে একমাত্র রাজনৈতিক দল সেটা আওয়ামী লীগ। শহিদের তালিকায় আওয়ামী লীগের তালিকাও সবচেয়ে দীর্ঘ। আওয়ামী লীগ সংগ্রাম করেছে বলেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু বাম দল ছাড়া একমাত্র আওয়ামী লীগই হচ্ছে এদেশের মাটি ও মানুষের মধ্যে থেকে উঠে আসা তৃণমূলের সংগঠন ও গণমানুষের দল। অন্য যারা (রাজনৈতিক দল) আছে তারা গণমানুষের দল নয়, সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক স্বৈরাচারের হাতে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল। তারা ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতেই যত অন্যায় করেছে, জনগণের কোনো কল্যাণ তারা করেনি। তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশটাকে জাতির পিতা সুন্দরভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন। তিনি তো পারেন নাই করতে, তাকে তো করতে দেওয়া হলো না। তাই সেই অসমাপ্ত কাজ আমাদের সমাপ্ত করতে হবে। তার জন্য আওয়ামী লীগকে সব সময় সচেতন থাকতে হবে, জনগণের পাশে থাকতে হবে, সুখে, দুঃখে সাথী হতে হবে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রান্তে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। আরও বক্তব্য রাখেন সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও উত্তরের সভাপতি শেখ ফজলুর রহমান। গণভবন প্রান্ত থেকে আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির পিতাসহ ১৫ আগস্টের সকল শহিদ, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সকল শহিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর আগে দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ সম্পাদনায় ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বের চার দশক : সংগ্রামী নেতা থেকে কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক’ শিরোনামের বিশেষ স্মারকগ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী, শামসুল হকসহ দলের প্রতিটি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তান আমল থেকেই এদেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের খেলা দেখেছে বাঙালি জাতি। আইয়ুব ও ইয়াহিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে জেনারেল জিয়াও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসকের পাশাপাশি নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) জন্ম দিয়েছে। জেনারেল এরশাদও একই পথ অনুসরণ করেছে। এদের কারও দেশের মাটি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে জনগণের মধ্যে থেকে রাজনৈতিক দল গঠন হয়নি।
তিনি বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগই হচ্ছে দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তি এবং তাদের সুখ-দুঃখ লাঘবের লক্ষ্য নিয়ে জন্ম নেওয়া গণমানুষের রাজনৈতিক দল। শোষণ-বঞ্ছনার হাত থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি দিতেই আওয়ামী লীগের সৃষ্টি, আর সৃষ্টির পর থেকে লড়াই-সংগ্রাম করেই দেশের মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে এই দলটি। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে। কিছু বাম দল ছাড়া অন্য রাজনৈতিক কোনো দলই গণমানুষের দল নয়। এ কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের মানুষ ভালো থাকে, দেশের উন্নয়ন হয়। অন্যরা ক্ষমতায় থাকলে দেশ পিছিয়ে যায়, দেশের সম্পদ লুটেপুটে খায়।
আওয়ামী লীগের সমালোচকদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের এক শ্রেণির মানুষ আছে, যারা দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি হলে, গণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক সরকার আসলে তাদের সুযোগ বাড়ে, মন্ত্রী বা উপদেষ্টা হওয়ার সুযোগ হয়। এ কারণে দেশের জন্য নয়, ক্ষমতার জন্য তারা ছুটে, অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের পদলেহন করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় কিংবা ক্ষমতার বাইরে যখনই যেখানেই থাকুক, যে কোনো দুর্যোগ-সংকটে ছুটে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়, মানুষের কল্যাণ করে। ক্ষমতায় থাকতেও আওয়ামী লীগ যা কিছু করে তা জনগণের কল্যাণেই করে। এসব ওই শ্রেণির লোকদের পছন্দ হয় না বলেই নানা কথা বা সমালোচনা করে।
ভ্যাকসিন নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার এই মহাসংকটের সময়ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে এবং থাকবে। করোনার শুরুর পর থেকেই ভ্যাকসিন নিয়ে যেসব দেশ গবেষণা করেছে, তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে সরকার যোগাযোগ রেখেছে। অনেক বড় বড় দেশ যখন করোনার ভ্যাকসিন আনতে পারেনি, আমরা তখন ভ্যাকসিন এনে মানুষের দেহে বিনামূল্যে প্রয়োগ করেছি। দেশের প্রত্যেক মানুষ যাতে ভ্যাকসিনের আওতায় আসে, ভ্যাকসিন পায় আমরা সেই উদ্যোগ নেব।
সমালোচকদের একহাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আজ সমালোচনা করছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তারাই আগে করোনার দুই ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তখন তাদের মুখে কোনো কথা ছিল না। দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরে তাদের মুখে এখন নানা কথা শুনতে পাচ্ছি, সমালোচনা করছেন। তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের জন্য আগে আমরা অর্থ দিয়ে বুকিং করেছি। কিন্তু ভারতে মহামারি তীব্র আকার ধারণ করায় তারা ভ্যাকসিন রপ্তানি বন্ধ করায় কিছুটা অসুবিধা হয়েছে। তাই বাস্তবতা বুঝতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা শুধু ভ্যাকসিনই আনব না, দেশেই যাতে এই ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে পারি সেজন্য একটা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলব। টিকা উৎপাদন করতে যা যা করার দরকার আমরা সবই করব। তাই যারা সমালোচনা করছেন তাদের বলব, একটু সময় দিন, দেখুন আমরা কি করি, তারপরে বলুন।
আওয়ামী লীগের জন্মের পর দীর্ঘ সাত দশকে অনেক চড়াই-উতরাই, ঘাত-প্রতিঘাত এবং বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে দলটিকে একটানা গত ৪০ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়া বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ৭২ বছরে পদার্পণ করল আওয়ামী লীগ। এই সাব কন্টিনেন্টে কিছু দল হয়তো আছে; কিন্তু এত আত্মত্যাগ করা প্রবীণ দলই হচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলটিকে জন্মের পর থেকে অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই দেশের মানুষ আজ সুখে আছে, দেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে আবারও দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে আবারও ব্যাঘাত ঘটবে।
দলকে তৃণমূল থেকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা নিজেই বলেছেন, শক্তিশালী সংগঠন ছাড়া কোনো মহৎ উদ্দেশ্য অর্জন করা যায় না। শুধু সরকার নয়, আমাদের পাশে আওয়ামী লীগের মতো শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দল ও কর্মী-সমর্থকরা রয়েছেন বলেই বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাবিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে। দেশের জনগণ আমাদের ওপর আস্থা ও ভরসা রেখে টানা তৃতীয়বারের মতো তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন বলেই আমরা দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি, তাদের ভাগ্যোন্নয়নে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
চলমান করোনার দ্বিতীয় ওয়েবে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় দেশবাসীকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং যেখানে লকডাউন চলছে সেখানে যথাযথ নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি পুনর্বার অনুরোধ জানিয়ে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, সারাবিশ্বই এখন এই করোনার কারণে বিপর্যস্ত। আরও বেশি বিচ্ছিন্ন আমি নিজে। তাই করোনা দ্বিতীয় ওয়েবে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই দেশের জনগণকে সচেতন থাকতে হবে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলুন, বাইরে গেলে মাস্ক পরুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। আর যেখানে লকডাউন দেওয়া হয়েছে, সেখানে লকডাউন মানতে হবে, ঘরে থাকতে হবে। সবাই যদি সতর্ক থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলি, ইনশাল্লাহ আমরা করোনার এই সংকটও মোকাবিলা করতে পারব।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকা-ের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ভাবতেও অবাক লাগে এজন্যই যে, যে মানুষটি (বঙ্গবন্ধু) বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য আজীবন লড়াই-সংগ্রাম, জেল-জুলুম, আত্মত্যাগ এবং শেষ পর্যন্ত জীবনটিও পর্যন্ত দিয়ে গেলেন। সব শখ-আহ্লাদ ভুলে সারাটা জীবন দেশের মানুষের জন্য কষ্ট করে গেলেন। কী দুর্ভাগ্য আমাদের, সেই জাতির পিতাকেই জীবন দিতে হলো কিছু বাঙালির হাতেই। ওইদিন আমার মা খুনিদের কাছে কোনো প্রাণভিক্ষা চাননি; বরং বলেছেন আমাকেও মেরে ফেল। ওই রাতে শুধু একজন রাষ্ট্রপতিকেই হত্যা করা হয়নি, মা-তিন ভাইসহ পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হলো। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া আমাদের দু’বোনের একটাই প্রতিজ্ঞা ছিল, যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির পিতা দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, তার সেই স্বপ্নকে আমরা পূরণ করব, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাব।
দেশের একটি মানুষও ঠিকানাহীন থাকবে নাÑ মুজিবর্ষে তার এই দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, একদম তৃণমূল অর্থাৎ গ্রাম থেকে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। অর্থনৈতিকভাবে দেশকে শক্তিশালী রেখে আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ও দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। দেশের ভূমিহীন-গৃহহীনদের আমরা বিনামূল্যে ঘর করে দিয়ে তাদের একটি ঠিকানা করে দিচ্ছি। মুজিবশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মধ্যেই আমাদের টার্গেট, দেশের একটি মানুষও গৃহহীন-ভূমিহীন থাকবে না, সবাইকে আমরা অন্তত একটা নিজস্ব ঠিকানা করে দেব। মুজিববর্ষে ইতোমধ্যে আমরা প্রায় ৪ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে ঘর করে দিয়েছি। দলের নেতাকর্মীদেরও বলব, নিজ নিজ এলাকায় দেখবেন কেউ যেন গৃহহীন বা ঠিকানাহীন না থাকে।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছি। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। গত ২৯ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল (জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া) তারা দেশের মানুষকে কিছু দিতে পারেনি, দেশের উন্নয়ন করেনি। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে দেশের জনগণ কিন্তু পেয়েছে। সবদিক থেকে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। করোনার মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ আজ ভালো অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ভবিষ্যতে আর যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেজন্য দলের নেতাকর্মীদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগই পারবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply