দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে

উত্তরণ ডেস্ক:

দেশের মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুস্কাল বা গড় আয়ু ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৮ বছর। এর আগের বছর যা ৭২ দশমিক ৬ বছর ছিল। জনসংখ্যাবিষয়ক সমষ্টিগত পরিসংখ্যান নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস-২০২০’ প্রতিবেদনে এ তথ্য রয়েছে। গত ২৮ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে বিবিএস। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, পুরুষের তুলনায় নারীর গড় আয়ু বেশি। ২০২০ সালে নারীর গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৫ বছর। পুরুষের গড় আয়ু ৭১ দশমিক ২ বছর। ২০১৯ সালে নারী ও পুরুষের গড় আয়ু ছিল যথাক্রমে ৭৪ দশমিক ২ বছর ও ৭১ দশমিক ১ বছর।
বিবিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২১ সালের শুরুতে দেশে প্রাক্কলিত জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ৪১ লাখ এবং নারী ৮ কোটি ৪০ লাখ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও কিছুটা কমেছে। ২০২০ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩০ শতাংশ। ২০১৯ সালে এ হার ছিল ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় ২০২০ সালে দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪০ জন। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১২৫ জন।
প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জনগণ যদি এই পরিসংখ্যান বিশ্বাস করে, আস্থায় নেয়, তাহলেই বিবিএস সার্থক। তবে তথ্য কোনো বেদবাক্য নয়। পৃথিবীর কোনো কিছুই শতভাগ সঠিক নয়। বিবিএসের এই তথ্য যে কেউ বিশ্লেষণ করতে পারেন। এ নিয়ে সরকারের কোনো লুকোচুরি নেই। তিনি বলেন, মানুষ বৃদ্ধি ভয়ের কোনো কারণ নয়। এরা দেশের সম্পদ। পশ্চিমাদের প্রযুক্তি সম্পদ এবং এ দেশের সম্পদ হলো মানুষ।
মোট ২ হাজার ১২টি নমুনা এলাকা থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। এতে ৩ লাখ ১ হাজার ১৩১টি খানা বা পরিবারের তথ্য নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে জন্ম ও মৃত্যুহার, বিবাহ ও তালাক, শিক্ষা, স্যানিটেশন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহারসহ জনসংখ্যার নানা বিষয়ে হালনাগাদ পরিসংখ্যান রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্যাপ ও নলকূপের খাবার পানি ব্যবহার করেন ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ। আগের বছর এই হার ছিল ৯৮ দশমিক ১ শতাংশ। বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। ২০২০ সালে ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। আগের বছর এ হার ছিল ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ। টয়লেট ব্যবহারের সুবিধা আগের বছরের ৮১ দশমিক ৫ শতাংশে স্থির আছে।
শিক্ষার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট অগ্রগতি দেখা গেছে। ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে শিক্ষার হার ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। আগের বছর ছিল ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশ। শিক্ষায় এখনও নারীদের তুলনায় পুরুষরা এগিয়ে আছে। ২০২০ সালে পুরুষদের মধ্যে শিক্ষার হার ৭৮ দশমিক ২ শতাংশ। নারীদের এ হার ৭৩ শতাংশ।
বেড়েছে মৃত্যুহার : প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে মৃত্যুহার কিছুটা বেড়েছে। প্রতি হাজার জনে মৃত্যুর হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১ জন। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৪ দশমিক ১ জন। তবে শহরের তুলনায় গ্রামে মৃত্যুহার কিছুটা কম। ২০১৯ সালে গ্রামে মৃত্যু ছিল হাজারে ৫ দশমিক ৪ জন। ২০২০ সালে তা কমে হয়েছে ৫ দশমিক ২ জন। অন্যদিকে শহরে ২০১৯ সালে মৃত্যু ছিল ৪ দশমিক ৪ জন। ২০২০ সালে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৯ হয়েছে। মাতৃমৃত্যু হার কিছুটা কমেছে। প্রতি হাজারে এ সংখ্যা ১ দশমিক ৬৩ জন। আগের বছর ছিল ১ দশমিক ৬৫ জন।
বিয়ের বয়স কমেছে : বিয়ের গড় বয়স কিছুটা কমেছে। জাতীয় পর্যায়ে বিয়ের গড় বয়স ২৫ দশমিক ২ বছর। আগের বছর ছিল ২৫ দশমিক ৩ বছর। পুরুষের ক্ষেত্রে বিয়ের গড় বয়স কমে হয়েছে ২৫ দশমিক ২ শতাংশ। আগের বছর ছিল ২৫ দশমিক ৩ বছর। অবশ্য নারীদের বিয়ের গড় বয়স বেড়েছে। ২০২০ সালে নারীদের বিয়ের গড় বয়স ১৯ দশমিক ১ বছর। আগের বছর ছিল ১৮ দশমিক ৯ বছর।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply