এসডিজি শীর্ষ তিনে বাংলাদেশ

উত্তরণ ডেস্ক

বিশ্বে সমতা ও বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এগিয়ে থাকা শীর্ষ তিন দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। লক্ষ্য পূরণে ক্রমেই উন্নতির ফলে এবার এসডিজি সূচকে বিশ্বের ১৬৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯তম। চার বছর আগে ২০১৭ সালের সূচকে ১৫৭টি দেশের মধ্যে অবস্থান ছিল ১২০তম।
২০১৫ সালে জাতিসংঘে গৃহীত এসডিজিতে ২০৩০ সালের মধ্যে পূরণের জন্য মোট ১৭টি লক্ষ্য স্থির করা হয়। সেসব ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর অগ্রগতি বিচার করেই এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় জাতিসংঘের ১৯৩টি দেশের মধ্যে ১৫৭টির তথ্য এবারের প্রতিবেদনে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের পর থেকে পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোই এসব লক্ষ্য পূরণের পথে সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে। আর ২০১৫ সালের পর থেকে এসডিজি সূচকে স্কোরের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে বাংলাদেশ, আইভরি কোস্ট ও আফগানিস্তান।
এসডিজি সূচকে এবার বাংলাদেশের সার্বিক স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৬৩ দশমিক ৫। গত বছর ছিল ৬৩ দশমিক ২৬, তার আগের বছর ছিল ৬৩ দশমিক ০২। যে বছর এসডিজি গৃহীত হয়, সে-বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫৯ দশমিক ০১। আর ভিত্তিবছর ২০০০ সালে স্কোর ছিল ৫৩ দশমিক ৪৯।
বাকি দুটি দেশের মধ্যে আইভরি কোস্ট ৫৭ দশমিক ৫৬ স্কোর নিয়ে এবারের সূচকে ১৩১তম অবস্থানে রয়েছে। ২০১৫ সালে দেশটির স্কোর ছিল ৫৩ দশমিক ৩৫। আর ৫৩ দশমিক ৯৩ স্কোর নিয়ে আফগানিস্তান এবার আছে সূচকের ১৩৭তম অবস্থানে। এসডিজির শুরুর বছরে দেশটির স্কোর ছিল ৪৯ দশমিক ৬৩ ছিল।
এবারের তালিকায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা ফিনল্যান্ডের স্কোর ৮৫ দশমিক ৯ এবং সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রের স্কোর ৩৮ দশমিক ২৭। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট বলছে, বিগত বছরগুলোতে স্কোরের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি অবনমন ঘটেছে জেনেজুয়েলা, টুভালু ও ব্রাজিলের। জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক বলছে, এসডিজির লক্ষ্য পূরণে দেশগুলোর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং তাদের লক্ষ্য পূরণের জন্য রাষ্ট্রীয় নীতি গ্রহণের মধ্যে সামঞ্জস্যহীনতা রয়েছে। চলতি বছর ৪৮টি দেশে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, ২৮ দেশই তাদের বার্ষিক বাজেটে এসডিজির প্রসঙ্গ রাখেনি।
জাতিসংঘে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য গৃহীত হওয়ার পর থেকে সামগ্রিকভাবে বিশ্ব পরিস্থিতি ক্রমোন্নয়নের ধারায় থাকলেও করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো তাতে ছেদ পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারি শুধু স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি করেনি, টেকসই উন্নয়নেও সংকট তৈরি করেছে।
সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট জেফ্রি ডি সাকস বলেন, এসডিজির লক্ষ্যগুলোতে উন্নতির ধারায় ফেরার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে হবে। সেজন্য কর কাঠামোর সংস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলো থেকে অর্থায়ন বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে। তিনি আরও বলেন, এসডিজির যে ৬টি মূল লক্ষ্য, সেগুলোতে জোর দিয়েই উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাদের আর্থিক পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
মহামারির মধ্যে বৈশ্বিকভাবেই এসডিজি বাস্তবায়নের গতি ধীর হয়ে আসার কথা জানানো হয়েছে এবারের প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, মহামারির কারণে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে, সেইসঙ্গে বেড়েছে বেকারত্ব।
এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ১২ নম্বরে পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন ধরন নিশ্চিত করা আর ১৩ নম্বরে জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি কর্মব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্য বাংলাদেশ এরই মধ্যে পূরণ করে ফেলেছে। সূচকের এ দুটি অবস্থানে তাই বাংলাদেশের রং সবুজ।
এসডিজির ১ নম্বরে সব ধরনের দারিদ্র্যের অবসান এবং ৪ নম্বরে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষালাভের সুযোগ সৃষ্টি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ লক্ষ্য পূরণের পথেই রয়েছে।
এর মধ্যে এসডিজি-৪ এ বাংলাদেশকে সূচকের হলুদ তালিকায় রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলোÑ এসব ক্ষেত্রে লক্ষ্য অর্জনে আরও অনেক কাজ করতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply