বোরো উৎপাদনে নয়া রেকর্ড, ২ কোটি ৮ লাখ টন

উত্তরণ প্রতিবেদন: চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ বোরো উৎপাদন হয়েছে। গত বছর বোরো ধানের চাল উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ মেট্রিক টন; এবার হয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় ১২ লাখ টনেরও বেশি। এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তার চেয়ে ৩ লাখ টনের বেশি উৎপাদন হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ গত ১৬ জুন রাতে সংবাদমাধ্যমে বলেন, গত বছর এ-বছরের চেয়ে ১ লাখ ২৭ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। আর গত বছরের চেয়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের আবাদ বেশি হয়েছে। একই সাথে উন্নতজাতের আবাদও বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, পোকামাকড় না লাগাসহ সব কিছু মিলে এবার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে।
এ-বছর বোরোতে রেকর্ড উৎপাদন নিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি বলেন, গত বোরো মৌসুমে ধানের ভালো উৎপাদন হয়েছিল; কিন্তু আউশ-আমন মৌসুমে দফায় দফায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন অনেক কম হয়েছিল। সে-জন্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ-বছরের শুরুতেই আমরা সর্বাত্মক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলাম যে কোনো মূল্যে বোরোতে উৎপাদন বাড়াতে হবে। বীজ, সারসহ নানা প্রণোদনা কৃষকদের প্রদান করা হয়েছে। আমাদের নানান উদ্যোগের ফলে গত বছরের তুলনায় এ-বছর ১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। একই সাথে, গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান আবাদ বেড়েছে। যার ফলে গত বছরের তুলনায় এ-বছর বোরোতে বেশি উৎপাদন হয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, বোরো ধান দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বছরে মোট উৎপাদিত চালের ৫৫ শতাংশের বেশি আসে এই বোরো থেকে। কিন্তু সফলভাবেএ ধান ঘরে উঠানো খুবই চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে, আকস্মিক বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে হাওড়ের ধান ঠিকমতো ঘরে তোলা নিয়ে প্রতি বছরই আতঙ্কে থাকতে হয়। এর সাথে করোনা পরিস্থিতির জন্য ধান কাটার সময়ে যুক্ত হয়েছে চলাচলে বিধিনিষেধ বা লকডাউন। এ অবস্থায়, বোরো ধান কর্তনের জন্য যন্ত্র বিতরণ ও আন্তঃজেলা ধান কাটা শ্রমিক পরিবহনে ত্বরিতগতিতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ের মাধ্যমে শ্রমিকদের যাতায়াত নির্বিঘœ রাখা হয়। একই সাথে, কম্বাইন হারভেস্টার, রিপারসহ ধান কাটার যন্ত্র জরুরিভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে অত্যন্ত সফলভাবে এ-বছর হাওড়সহ সারাদেশের বোরো ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। শুধ তাই নয়Ñ বোরোসহ সারাদেশের ধান অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক আগেই তোলা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ-বছর হিটশকে আক্রান্ত হয় বোরো ধান। পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতির জন্য ধান কাটার সময় চলাচলে বিধিনিষেধ কিছুটা প্রভাবিত করে। তারপরও এ-বছর সফল উৎপাদন দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় অর্জন।
বোরো ধান সময়মতো ঘরে তোলার সফলতার পেছনে কৃষিযান্ত্রিকীকরণকেই মনে করা হচ্ছে কৃষি বিভাগ থেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর ধান কাটতে কম্বাইন হারভেস্টার মাঠে নামানো হয়েছে ১ হাজার ২৪০টি। এ-বছর আরও ১ হাজার ৬৬৬টি মাঠে নেমেছে। অর্থাৎ মোট ২ হাজার ৯০৬টি হার্ভেস্টার মাঠে চলেছে। রিপারও চলেছে মোট ৮৩৯টি। প্রতি বছর কৃষকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের ক্ষেত্রে এটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে একদিকে শ্রমিক সংকট থাকলেও দ্রুত ধান কাটা যাচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ কমার ফলে কৃষক লাভবান হচ্ছে।
জানা যায়, এবার হাওড়ভুক্ত ৭টি জেলায় বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৪ হেক্টর জমিতে; যা দেশের মোট আবাদের প্রায় ২০ শতাংশ। আর শুধু হাওড়ে বোরো আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে, যা মোট আবাদের প্রায় ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর বোরো ধান আবাদ করা হয় ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪৪৭ হেক্টর জমিতে। এ-বছর আবাদ হয়েছে ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ ১ লাখ ২৯ হাজার ৩১৩ হেক্টর বেশি জমিতে বা ২ দশমিক ৭২ শতাংশ জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply